ত্বকে হাইপার পিগমেন্টেশন সমস্যার সমাধান

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
ত্বকের কিছু অংশ অন্য অংশের চেয়ে গাঢ় রঙের হয়ে গেলে সেটিকে আমরা হাইপার পিগমেন্টেশন হিসেবে চিহ্নিত করি। আমাদের দেশে বেশিরভাগ মানুষের গায়ের রঙ বাদামি। ফলে এ অঞ্চলে গাঢ় বাদামি, ছাইরঙা ও কালো এ ধরনের পিগমেন্টেশন দেখা যায়। মায়ের পেটে ভ্রূণাবস্থায় কপাল, গাল, চোয়াল বা চোখের চারপাশে অপেক্ষাকৃত গাঢ় অংশ তৈরি হয়। এটি অত্যন্ত স্বাভাবিক। একে বলা হয় পিগমেন্টরি ডিমার্কেশন লাইন। এর বাইরে নানা কারণে হাইপার পিগমেন্টেশন দেখা দিতে পারে।
কেন হয়
এটি অনেক কারণে হয়ে থাকে—
সূর্যের আলো: সূর্যের আলোতে থাকা অতিবেগুনি রশ্মি ত্বকে মেলানিন উৎপাদন বাড়িয়ে হাইপার পিগমেন্টেশন সমস্যা তৈরি করতে পারে।
হরমোনাল কারণ: থাইরয়েড, পিসিওএস ও গ্রোথ হরমোনের কারণে এ সমস্যা দেখা দিতে পারে। বয়সের সঙ্গে সঙ্গে পেরিমেনোপোজাল ও পোস্ট-মেনোপোজাল সময়ে হরমোনাল ইস্যুর কারণেও এটি দেখা দিতে পারে।
ওষুধ: বিশেষ কিছু ওষুধ দীর্ঘদিন ব্যবহারের কারণে এটি দেখা দিতে পারে।
রঙ ফর্সাকারী ক্রিম: ত্বকের রঙ ফর্সাকারী ক্রিম প্রাথমিক পর্যায়ে ত্বককে ফর্সা করে তোলে। কারণ গালের ত্বকের যে স্টেটাম কর্নিয়াম নামক লেয়ার রয়েছে সেটিকে এটি পাতলা করে ফেলে। ত্বকের এই অংশটি আমাদের সূর্যালোক থেকে বিশেষভাবে রক্ষা করে। ফলে সূর্যের আলোর সংস্পর্শে আসা মাত্র সে স্থানটি কালো হয়ে মেছতার মতো তৈরি হয়।
চিকিৎসা
কারণ নির্ধারণ করে এবং কী ধরনের পিগমেন্টেশন, সে অনুযায়ী চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের চিকিৎসা নেবেন।
অনেক ক্ষেত্রে সূর্যালোক বা অন্যান্য কারণে পিগমেন্টরি ডিমার্কেশন লাইন দৃশ্যমান হয়ে ওঠে। এর কোনো চিকিৎসা হয় না। এটিকে স্বাভাবিকভাবে নিতে হবে।
হরমোনের কারণে হাইপার পিগমেন্টেশন দেখা দিলে ত্বকের জন্য আলাদা চিকিৎসা নিতে হবে।
ত্বকের প্রদাহের বা কোনো ওষুধের কারণে যদি এ সমস্যা দেখা দেয় তাহলে সে অনুযায়ী আলাদা চিকিৎসা রয়েছে।
পিগমেন্টেশন থেকে দূরে থাকার জন্য সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে হবে। এতে অনেক ধরনের ত্বক সমস্যা থেকে দূরে থাকা সম্ভব।
করণীয়
স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ত্বক ভালো রাখতে সহায়তা করে। মৌসুমি শাকসবজি ও ফল খেলে প্রাপ্ত প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও মিনারেলস ত্বক উজ্জ্বল করে।
দিনে ২-৩ লিটার পানি পান করতে হবে।
মেছতার জন্য দরকারে কিছু ধরনের হাইড্রোকুইনন থেরাপি দেওয়া হয়। এটি খুব কম সময়ের জন্য দেওয়া হয়। এ ছাড়া নানা ধরনের ডি-পিগমেন্ট ইনগ্রেডিয়েন্ট আছে। রোগীর ত্বকের ধরন অনুযায়ী সেগুলো ব্যবহারের পরামর্শ দিয়ে থাকে।
যা থেকে বিরত থাকবেন
না জেনে ক্ষতিকারক কোনো ক্রিম বা কেমিক্যাল জাতীয় জিনিস ত্বকে ব্যবহার করা যাবে না।
অনেকেই না বুঝে ঘরোয়া অনেক প্যাক ও কমলা ও লেবুজাতীয় জিনিস ত্বকে ব্যবহার করেন। অনেক সময় এসব ফ্রুট অ্যাসিড ভীষণ ক্ষতিকর হয়ে ওঠে। ত্বকের সমস্যায় এসব ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে।
লেখক: চর্ম ও যৌনরোগ বিশেষজ্ঞ কেপিজে স্পেশালাইজড হাসপাতাল


