সাত বছরের আয়শার বুকে ঘাপটি মেরে আছে মৃত্যু

হৃণপিণ্ডে ছিদ্র নিয়ে জন্মানো শিশু আয়শা
হৃৎপিণ্ডে ছিদ্র নিয়ে জন্মানো হতদরিদ্র পরিবারের এক শিশুর কথা লিখেছেন মামুনুর রশিদ ও আখলাকুজ্জামান অনিক
প্রথম দেখায় মনে হবে আর দশটা সাধারণ শিশুর মতোই সে। মায়াবী মুখ, ডাগর ডাগর চোখ আর ঠোঁটের কোণে লেগে থাকা এক চিলতে নিষ্পাপ হাসি। কিন্তু এই হাসির আড়ালেই লুকিয়ে আছে ভয়ংকর মারণব্যাধি। যে বয়সে তার ছুটে বেড়ানোর কথা, সেই বয়সে সে একটু দৌড়ালেই হাঁপিয়ে ওঠে, নীল হয়ে যায় শরীর। কারণ, ছোট্ট এ শিশুর বুকে ঘাপটি মেরে বসে আছে মৃত্যু। তার হৃৎপিণ্ডে রয়েছে জন্মগত ছিদ্র।
সাত বছর বয়সী আয়শা সিদ্দিকা দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার পলাশবাড়ী ইউনিয়নের বড় কালাইঘাটি গ্রামের দিনমজুর আজাদুল ইসলাম ও রফিকা খাতুন দম্পতির সন্তান। সম্প্রতি উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার কার্যালয়ে কাকতালীয়ভাবে দেখা মেলে এ শিশুর। মায়ের শাড়ির আঁচল ধরে দাঁড়িয়ে থাকা আয়শার চোখের দিকে তাকালে যে কারও বুকের ভেতরটা হুহু করে উঠবে।
ওর বয়স যখন চার বছর, পুকুরে গোসল করতে নেমে লাফালাফি করছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই যেন সব থমকে গেল। শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলল আয়শা। পুকুরঘাটে সেদিন নেমেছিল আতঙ্কের ছায়া। উদ্বিগ্ন স্বজনরা ওকে বুকে আঁকড়ে ধরে ছুটে যান দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানা গেল, জন্মগতভাবেই হৃৎপিণ্ডে ছিদ্র রয়েছে তার।
আয়শার হতদরিদ্র বাবা অন্যের ক্ষেত-খামারে গায়ের ঘাম পায়ে ফেলে যে সামান্য মজুরি পান, তা দিয়েই কোনোমতে চার সদস্যের সংসার চলে। সম্বল বলতে মাথা গোঁজার সামান্য একটু বসতভিটা। নুন আনতে যার পান্তা ফুরায়, তার কাছে মেয়ের চিকিৎসার লাখ লাখ টাকা যেন অলীক খোয়াব। তবু দুই বছর ধরে ধারদেনা করে চিকিৎসা চালাচ্ছেন। মেয়ের উন্নত চিকিৎসার আশায় ঢাকায় দুজন প্রখ্যাত হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের কাছেও হাজির হয়েছিলেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, অস্ত্রোপচার করলে আয়শা সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠবে। কিন্তু এর জন্য প্রয়োজন প্রায় সাড়ে ৩ লাখ টাকা। ওষুধ ও অন্যান্য খরচ মিলিয়ে দরকার আরও অন্তত দেড় লাখ টাকা। টাকার এক বিশাল পাহাড় এখন আজাদুলের সামনে।
মায়ের শাড়ির আঁচল ধরে দাঁড়িয়ে থাকা আয়শার চোখের দিকে তাকালে যে কারও বুকের ভেতরটা হুহু করে উঠবে
বুকের ধনকে বাঁচানোর শেষ আকুতি নিয়ে সমাজসেবা কর্মকর্তার কার্যালয়ে ছুটে যান আয়শার মা। তার কোলে মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে বেঁচে থাকা আয়শা আর হাতে চিকিৎসানথি। চোখের জলে বুক ভাসিয়ে তিনি যখন চিকিৎসকের পরামর্শপত্রগুলো মেলে ধরছিলেন, সেখানে উপস্থিত সবার চোখ ভিজে উঠেছিল।
পার্বতীপুর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা তাপস চন্দ্র রায় কাগজপত্র দেখে তাৎক্ষণিকভাবে চিকিৎসা সহায়তার আবেদন ফরম পূরণ করে দেন এবং সরকারি অনুদান থেকে সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যবস্থা করার আশ্বাস দেন। কিন্তু বাকি টাকা?
সমাজসেবা কর্মকর্তা আক্ষেপের সুরে বললেন, সরকারি সাহায্য হয়তো কিছুটা উপশম দেবে, কিন্তু শিশুটিকে পুরোপুরি সুস্থ করতে আরও অনেক টাকার প্রয়োজন। সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষরা এগিয়ে না এলে এই নিষ্পাপ প্রাণ অকালেই ঝরে যাবে।
আয়শাকে সাহায্য করার উপায়
নগদ নম্বর: ০১৯১৪০৪৯৪৪৭




