পৃথিবীর আর কোথায় আছে ?
প্রতিদিনই আমার ঢাকার কথা মনে পড়ে

আমার কাছে ঢাকা শুধু একটি শহর নয় এটি আমার শৈশব আমার তারুণ্য আমার পরিবার আমার শিকড়
জীবনের প্রথম ২৮টি বছর কেটেছে আমার প্রিয় শহর ঢাকায়। আজ এক যুগেরও বেশি সময় বিদেশে থাকলেও প্রতিদিন কোনো না কোনো মুহূর্তে ঢাকার কথা মনে পড়ে। যত দূরেই থাকি না কেন, মনে হয় আমার শিকড় এখনো সেই ব্যস্ত শহরের অলিগলিতেই রয়ে গেছে।
আমার বাবা-মা দুজনই পুরান ঢাকার মানুষ, কিন্তু আমার বেড়ে ওঠা নতুন ঢাকায়। তাই আমার স্মৃতিগুলো যেন দুই ভিন্ন ঢাকার এক সুন্দর মিশ্রণ— একদিকে পুরান ঢাকার ঐতিহ্য, পারিবারিক বন্ধন, উৎসব, খাবার আর শত বছরের সংস্কৃতি; অন্যদিকে নতুন ঢাকার আধুনিক জীবন, স্কুল-কলেজ, বন্ধু, ব্যস্ত রাস্তা আর স্বপ্নে ভরা তারুণ্য। এ দুই সংস্কৃতির মেলবন্ধনই আমাকে গড়ে তুলেছে।
শুনে হাসবেন হয়তো! আমি সবচেয়ে বেশি মিস করি ঢাকার বিয়ের অনুষ্ঠানগুলো। আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুবান্ধব সবার একসঙ্গে মিলিত হওয়া, হাসি-আনন্দ, আড্ডা, জমকালো সাজসজ্জা আর সুস্বাদু খাবারের আয়োজন— এসবের মধ্যে ছিল এক অন্যরকম উষ্ণতা। সেখানে বিয়ে শুধু দুটি মানুষের মিলন ছিল না, ছিল পরিবারগুলোর ভালোবাসা ও সম্পর্কের এক অপূর্ব উৎসব।
হ্যাঁ, খুব মিস করি ঢাকার বিখ্যাত স্ট্রিট ফুড— ফুচকা, চটপটি, ঝালমুড়ি, বেগুনি, শিঙাড়া, কাবাব। প্রতিটি খাবারের সঙ্গে জড়িয়ে আছে অসংখ্য স্মৃতি। সন্ধ্যাবেলায় বন্ধুদের সঙ্গে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে আড্ডা দিতে দিতে এসব খাবার খাওয়ার আনন্দের স্মৃতি আজও হৃদয়ে অম্লান।
অদ্ভুত হলেও সত্যি, আজ আমি ঢাকার ট্রাফিক জ্যামকেও মিস করি! একসময় যেটা ছিল চরম বিরক্তির কারণ, এখন সেটাই স্মৃতির মধুর অংশ। রিকশার ঘণ্টার টুংটাং শব্দ, বাসের হর্ন, মানুষের ব্যস্ত চলাফেরা, ফুটপাতের কোলাহল— এসবই ছিল ঢাকার প্রাণ। তখন বিরক্ত হতাম, কিন্তু আজ বুঝি সেই ব্যস্ততাই ছিল আমার শহরের আসল স্পন্দন।
ঢাকা আমাকে শিখিয়েছে মানুষকে ভালোবাসতে, প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করতে এবং জীবনের আসল সৌন্দর্য খুঁজে নিতে। পৃথিবীর যেখানেই থাকি না কেন, আমার হৃদয়ের একটি বড় অংশ সবসময় ঢাকাতেই থেকে যাবে। আমার কাছে ঢাকা শুধু একটি শহর নয়; এটি আমার শৈশব, আমার তারুণ্য, আমার পরিবার, আমার শিকড় এবং আমার পরিচয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
লেখক: বর্তমানে আমেরিকায় বসবাসরত এ প্রবাসী বাংলাদেশি ঘুরে বেড়িয়েছেন এশিয়া ও উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন দেশ




