পরামর্শ
শিক্ষার্থীদের জন্য ডিজিটাল পোর্টফোলিও কেন জরুরি

তাসলিমা খান ঊষা। ছবি: লেখকের সৌজন্যে
উচ্চশিক্ষার পর কাঙ্ক্ষিত ক্যারিয়ার গড়তে ডিজিটাল পোর্টফোলিওর গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা নিয়ে পরামর্শ দিয়েছেন স্টুডেন্ট ওয়াননেস ফাউন্ডেশনের পরিচালক তাসলিমা খান ঊষা
প্রতিযোগিতামূলক বাজারে শুধু একটি গতানুগতিক সিজিপিএ বা সার্টিফিকেট দিয়ে কাঙ্ক্ষিত চাকরি পাওয়া ক্রমে কঠিন হয়ে উঠছে। ভালো ফল সত্ত্বেও যখন একজন সদ্য পাস করা শিক্ষার্থী ইন্টারভিউ বোর্ডে বসেন, অনেক সময়ই তার ঝুলিতে তেমন কিছুই থাকে না। এমন পরিস্থিতিতে তার জন্য যোগ্যতা প্রমাণের সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার হতে পারে একটি আকর্ষণীয় ডিজিটাল পোর্টফোলিও।
এটি হলো অনলাইনে নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা, দক্ষতা, অভিজ্ঞতা, অর্জন ও কাজের নমুনা সুন্দরভাবে তুলে ধরার একটি মাধ্যম। সিভিতে যেখানে একজন প্রার্থী নিজের যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার তথ্য দেন, সেখানে ডিজিটাল পোর্টফোলিওর মাধ্যমে সেই দক্ষতার বাস্তব উদাহরণও দেখানো যায়। লেখা, ডিজাইন, ছবি, ভিডিও, গবেষণা, বিভিন্ন প্রকল্প, সনদ ও অর্জন এতে যুক্ত করা যেতে পারে। ফলে নিয়োগকর্তা একজন প্রার্থীর যোগ্যতা সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পান।
পড়াশোনাকালে একজন শিক্ষার্থী যখন ইন্টার্নশিপ বা খণ্ডকালীন চাকরির জন্য আবেদন করেন, তখন নিয়োগকর্তারা তার তাত্ত্বিক জ্ঞানের চেয়ে বাস্তব কাজের ক্ষমতা দেখতে বেশি আগ্রহী হন। ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে যখন শিক্ষার্থী নিজের সৃজনশীল প্রজেক্ট বা কোডিং অ্যাসাইনমেন্টের লাইভ লিংক যুক্ত করে দেন, তখন নিয়োগকর্তারা বুঝতে পারেন, এই প্রার্থীর যোগ্যতা শুধু বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ নন; বরং তিনি বাস্তব সমস্যার সমাধান করতেও সমানভাবে পারদর্শী। এটি ফ্রেশার বা সদ্য পাস করা শিক্ষার্থীদের জন্য অনভিজ্ঞতার তকমা মুছে ফেলার বড় হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে। কাগজে-কলমে প্রার্থীর অভিজ্ঞতা শূন্য দেখালেও পোর্টফোলিওতে থাকা প্রজেক্টের মান দেখে নিয়োগকর্তারা সহজেই তার কাজের গভীরতা ও বুদ্ধিমত্তা মূল্যায়ন করতে পারেন।
এটি একজন সাধারণ শিক্ষার্থীকে ভিড়ের মধ্য থেকে আলাদা উচ্চতায় নিয়ে যায়
তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে কম্পিউটার সায়েন্স, গ্রাফিক ডিজাইন বা মিডিয়া স্টাডিজ ছাড়াও মার্কেটিং, কনটেন্ট রাইটিং, আইন, অর্থনীতি এবং ব্যবসায় প্রশাসনের শিক্ষার্থীদের জন্যও ডিজিটাল পোর্টফোলিও অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। একজন ফিন্যান্সের শিক্ষার্থী তার অ্যাকাডেমিক থিসিসের ডেটা অ্যানালিসিস, সাংবাদিকতার শিক্ষার্থী তার প্রকাশিত ফিচার বা ব্লগের লিংক এবং আইন বিভাগের শিক্ষার্থী তার মুট কোর্টের গবেষণাপত্র বা প্রবন্ধ এই পোর্টফোলিওতে সংরক্ষণ করতে পারেন। এর ফলে প্রার্থীর প্রতিভা ও কাজের বহুমুখিতা একনজরে নিয়োগকর্তার সামনে চলে আসে, যা শুধু কাগজের সিভিতে ফুটিয়ে তোলা সম্ভব নয়। এটি একজন সাধারণ শিক্ষার্থীকে ভিড়ের মধ্য থেকে আলাদা উচ্চতায় নিয়ে যায়।
ডিজিটাল পোর্টফোলিও তৈরি করা এখন খুব জটিল বা কোডিংনির্ভর কোনো কঠিন কাজ নয়। গিটহাব পেজেস, বিহ্যান্স, নোশন বা ওয়ার্ডপ্রেসের মতো অসংখ্য ফ্রি ও ইউজার-ফ্রেন্ডলি প্ল্যাটফর্ম রয়েছে, যেখানে খুব সহজেই ড্র্যাগ-অ্যান্ড-ড্রপ পদ্ধতির মাধ্যমে চমৎকার ওয়েবসাইট বানিয়ে ফেলা যায়। তাই পড়াশোনার শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা না করে শিক্ষার্থীদের উচিত প্রথম বর্ষ থেকেই নিজেদের একটি সুন্দর ডিজিটাল পোর্টফোলিও গড়ে তোলা। প্রতিদিনের ছোট ছোট অ্যাসাইনমেন্ট বা প্রজেক্ট নিয়ম করে এই পোর্টালে যুক্ত করার মাধ্যমে গ্র্যাজুয়েশন শেষের আগেই তারা ক্যারিয়ারের পথচলাকে এক ধাপ এগিয়ে রাখতে পারবেন।



