ককপিটে বসার প্রস্তুতি

দেশে দক্ষ পাইলটের চাহিদা বাড়ছে। মডেল: ক্যাপ্টেন নাফিজ সালেহীন তমাল। ছবি: তমালের সৌজন্যে
পাইলট এমনই এক পেশা যেখানে প্রতিটি উড্ডয়ন বহন করে আস্থা, সাহস ও পেশাদারিত্বের গল্প। এই আকর্ষণীয় ক্যারিয়ার নিয়ে লিখেছেন সাদিয়া অমিন্তা
আধুনিক অ্যাভিয়েশন শিল্পের দ্রুত বিকাশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশেও দক্ষ পাইলটের চাহিদা বাড়ছে। উচ্চ মাধ্যমিকের পর অনেক তরুণ-তরুণীর স্বপ্নের গন্তব্য হয়ে উঠছে এই পেশা। তবে ককপিটে বসার পথটি শুধু স্বপ্ন দেখার নয়; প্রস্তুতিরও। প্রয়োজন বিজ্ঞানভিত্তিক প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি, শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা, সুপরিকল্পিত আর্থিক প্রস্তুতি এবং সঠিক ফ্লাইং একাডেমি নির্বাচন।
শিক্ষাগত যোগ্যতা ও বয়স
পাইলট হতে হলে সাধারণত বিজ্ঞান বিভাগ থেকে পদার্থবিজ্ঞান ও গণিতসহ এইচএসসি কিংবা ‘এ’ লেভেল বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হয়। অধিকাংশ ফ্লাইং একাডেমিতে এই শিক্ষাগত যোগ্যতাই ভর্তির প্রধান শর্ত; যদিও কিছু প্রতিষ্ঠানে নির্দিষ্ট জিপিএর প্রয়োজন হতে পারে। স্টুডেন্ট পাইলট লাইসেন্স (এসপিএল) অর্জনের জন্য ন্যূনতম বয়স ১৬ বছর এবং অধিকাংশ ক্যাডেট পাইলট প্রোগ্রামে আবেদনকারীর বয়স ১৭ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে হতে হয়।
প্রয়োজন বিজ্ঞানভিত্তিক প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি, শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা, সুপরিকল্পিত আর্থিক প্রস্তুতি এবং সঠিক ফ্লাইং একাডেমি নির্বাচন
কোথায় শিখবেন
বাংলাদেশে পাইলট হওয়ার জন্য বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (সিএএবি) অনুমোদিত কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণের সুযোগ রয়েছে।
নেক্সট এয়ার একাডেমি: সিএএবির লাইসেন্সপ্রাপ্ত এই ফ্লাইট স্কুল কক্সবাজার ও বরিশালে তাদের ব্রিস্টেল বি-২৩ ও সেসনা-১৭২ এয়ারক্রাফটের বহর দিয়ে প্রাথমিক ফ্লাইট ট্রেনিং পরিচালনা করে। এখানে আবেদন করতে হলে ঢাকার প্রধান কার্যালয়ে সরাসরি উপস্থিত হয়ে ফরম সংগ্রহ করতে হয়। প্রাইভেট পাইলট লাইসেন্স ও কমার্শিয়াল পাইলট লাইসেন্স অর্জনে আনুমানিক ৯০ লাখ টাকা ব্যয় হতে পারে। ফুলটাইম পড়াশোনা ও ফ্লাইং মিলিয়ে এয়ারলাইন-রেডি লাইসেন্স অর্জনে সময় লাগে প্রায় দুই বছর। এ ছাড়া গ্রাউন্ড স্টাফ, গ্রাউন্ড কন্ট্রোল বা এয়ারলাইন ডিসপ্যাচে ক্যারিয়ার গড়তে ঢাকার নেক্সট স্টেপ একাডেমি থেকে স্যাবর, অ্যামাডিয়াস ও গ্যালিলিও সিস্টেমের পেশাদার কোর্স করার সুযোগ রয়েছে। ফোন নম্বর: ০১৯৫৮১৫০৭১০, ০১৯৫৮১৫০৭০৫। ঠিকানা: হাউজ-৪, রোড-৮, সেক্টর-৩, উত্তরা, ঢাকা। ফেসবুক: www.facebook.com/NXTAirAcademy।
গ্যালাক্সি ফ্লাইং একাডেমি লিমিটেড: সরকার অনুমোদিত দেশের অন্যতম ফ্লাইট প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান এটি। ফোন নম্বর: ০১৮৮৫৯৯৫৫০২। ঠিকানা: হাউজ-৪৪, লেভেল-১২, রোড-১, সেক্টর-৩, উত্তরা, ঢাকা। ফেসবুক: www.facebook.com/flygalaxy.com.bd।
আরিরাং অ্যাভিয়েশন লিমিটেড: প্রতিষ্ঠানটি মূলত অ্যাভিয়েশন পেশাজীবীদের জন্য রিফ্রেশার কোর্স পরিচালনা করে। নতুন শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশ ফ্লাইং একাডেমি বা গ্যালাক্সি ফ্লাইং একাডেমির মতো অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে পারেন। অন্যদিকে অভিজ্ঞরা দক্ষতা ঝালিয়ে নিতে চাইলে আরিরাং অ্যাভিয়েশন লিমিটেড হতে পারে গন্তব্য। পুরো কোর্স শেষ করতে দুই থেকে আড়াই বছর সময় লাগে। ঠিকানা: হ্যাঙ্গার কমপ্লেক্স, কুর্মিটোলা, ঢাকা। ফেসবুক: www.facebook.com/ArirangATOofficial।/
ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স: যারা সরাসরি কোনো এয়ারলাইন্সে ক্যাডেট পাইলট হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করতে চান, তাদের জন্য ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ট্রেইনি ক্যাডেট পাইলট প্রোগ্রাম গুরুত্বপূর্ণ একটি সুযোগ। শুধু বাংলাদেশি নাগরিকরাই এখানে আবেদন করতে পারেন। আবেদনের জন্য এসএসসি ও এইচএসসি— উভয় পরীক্ষাতেই বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ ৫.০০ থাকতে হবে। ইংরেজিতে ন্যূনতম জিপিএ ৪.০০ প্রয়োজন। এসএসসিতে পদার্থবিজ্ঞান, সাধারণ গণিত ও উচ্চতর গণিত— এই তিন বিষয়ের মধ্যে দুটিতে জিপিএ ৫.০০ ও একটিতে অন্তত জিপিএ ৪.০০ থাকতে হবে। এইচএসসিতে পদার্থবিজ্ঞান অথবা গণিতের যেকোনো একটিতে জিপিএ ৫.০০ এবং অন্যটিতে জিপিএ ৪.০০ বা তারও বেশি থাকলে আবেদন করা যাবে। আবেদনকারীর বয়স হতে হবে ১৭ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে। পুরুষদের ন্যূনতম উচ্চতা ১৬৮ সেন্টিমিটার (৫ ফুট ৬ ইঞ্চি) এবং নারীদের ১৬৪ সেন্টিমিটার (৫ ফুট ৪ ইঞ্চি) এবং উভয় চোখে ৬/৬ দৃষ্টিশক্তি ও স্বাভাবিক রঙ অনুধাবন ক্ষমতা থাকতে হবে। ওয়েব লিংক: https://usbair.com/career/student-pilot/student-pilot।





