প্রবীণদেরও প্রয়োজন মানসিক স্বাস্থ্যসেবা

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বদলে যায় জীবনের পরিচিত ছন্দ। দীর্ঘদিনের কর্মজীবন থেমে যায়, সন্তানরা পড়াশোনা বা কাজের জন্য দূরে চলে যান। কাছের মানুষদের কেউ কেউ জীবনকে বিদায় জানান। শরীরও আগের মতো সায় দেয় না। একসময় যিনি পরিবারের নানা সিদ্ধান্ত নিতেন, বয়সের একপর্যায়ে তাকেই ছোটখাটো কাজের জন্য অন্যের ওপর নির্ভর করতে হয়। এসব পরিবর্তন থেকে তৈরি হতে পারে একাকিত্ব, হতাশা ও অনিশ্চয়তা। কখনো মনে হতে পারে, তিনি পরিবারের বোঝা হয়ে উঠছেন।
১০ অক্টোবর ছিল বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস। দিবসটি উপলক্ষে প্রবীণদের মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টি নতুন করে গুরুত্ব পাওয়ার দাবি রাখে। কারণ প্রবীণদের শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি মানসিক সুস্থতাও গুরুত্বপূর্ণ।
ব্র্যাক স্বাস্থ্য কর্মসূচির মেন্টাল হেলথ ম্যানেজার ও সহকারী ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট ইসরাত জাহান বলেছেন, ‘প্রবীণদের মধ্যে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার ব্যাপকতা সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট জাতীয় তথ্য নেই। অবসরের পর সামাজিক স্বীকৃতি কমে যাওয়া, এবং সন্তানদের দূরে চলে যাওয়া তাদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলে।’
তার মতে, সাধারণত ৬০ বছর বয়সের পর অনেকের জীবনে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। কেউ কর্মজীবন থেকে অবসরে যান, কারও সন্তান উচ্চশিক্ষা বা কাজের জন্য বাড়ি ছেড়ে অন্য শহরে কিংবা বিদেশে চলে যান। ফলে প্রবীণদের একাকিত্ব তৈরি হয়।
ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট ও ইনস্টিটিউট অব স্পেশালিস্ট ফর এমপাওয়ারিং লাইফ লিমিটেডের (আইসেলফ) সঙ্গে যুক্ত মো. সাজ্জাদ চৌধুরীর মতে, বার্ধক্যে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে মানুষকে সামাজিক, শারীরিক ও মানসিক নানা পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। কাছের মানুষকে হারানো থেকে শোক ও একাকিত্ব তৈরি হতে পারে। শারীরিক সীমাবদ্ধতা বাড়লে অন্যের ওপর নির্ভরশীলতাও বাড়ে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের প্রভাষক ও ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট লিজা আক্তার বললেন, ‘দীর্ঘদিন মন খারাপ থাকা, পছন্দের কাজে আগ্রহ হারিয়ে ফেলা, অতিরিক্ত একাকিত্ব কিংবা দৈনন্দিন কাজে অসুবিধা দেখা দিলে প্রবীণদের পেশাদার সহায়তা নেওয়া প্রয়োজন। ডিমেনশিয়ার মতো সমস্যায় চিকিৎসার পাশাপাশি মনোসামাজিক সহায়তাও গুরুত্বপূর্ণ।’
ব্যক্তিগত ও পারিবারিক উদ্যোগের পাশাপাশি কমিউনিটি পর্যায়ে মানসিক স্বাস্থ্যসেবাও প্রয়োজন বলে মনে করেন লিজা আক্তার। প্রবীণদের মানসিক সুস্থতার জন্য শুধু চিকিৎসা নয়, প্রয়োজন সম্মান, অংশগ্রহণ ও সামাজিক সংযোগ।



