কখন কেয়ারগিভার দরকার

ছবি: সাজ্জাদ হোসেন
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের জীবনে অনেক কিছুই বদলে যায়। যে মানুষটি একসময় নিজের সব কাজ নিজেই করতেন, বয়সের ভারে একসময় হয়তো গোসল করা, পোশাক পরা কিংবা ওষুধ খাওয়ার মতো কাজেও অন্যের সাহায্য প্রয়োজন হতে পারে। কিন্তু ঠিক কখন বুঝবেন, আপনার প্রবীণ মা-বাবা বা স্বজনের জন্য একজন কেয়ারগিভার দরকার? ইনস্টিটিউট অব প্যালিয়েটিভ কেয়ার সোসাইটি বাংলাদেশের পরিচালক ডা. নিজাম উদ্দিন আহমদের মতে, মূল বিষয় হলো একজন মানুষ নিজের যত্ন নিজে নিতে পারছেন কি না। তার ভাষায়, যখন কেউ নিজের যত্ন আংশিক বা পুরোপুরি নিজে নিতে পারেন না, তখনই অন্যের যত্নের প্রয়োজন হয়। আর যিনি সেই যত্ন দেন, তিনিই কেয়ারগিভার।
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যালিয়েটিভ মেডিসিন বিভাগের প্রতিষ্ঠাতাকালীন চেয়ারম্যান ডা. নিজাম উদ্দিন আহমদের মতে, শরীরের একটি অংশ অবশ হয়ে গেলে একজন মানুষ নিজের মৌলিক কাজ— প্রস্রাব-পায়খানা, গোসল কিংবা পোশাক পরার মতো কাজ নিজে করতে নাও পারেন। তখন নিয়মিত কেয়ারগিভারের প্রয়োজন হতে পারে।
ন্যাশনাল স্কিল ডেভেলপমেন্ট অথরিটির কেয়ারগিভিং রিসোর্স পারসন এবং আস্থা কেয়ার সার্ভিসেস লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শিল্পী আক্তার বলেন, “বয়স ৬০ বছর হলেই যে প্রত্যেকের কেয়ারগিভার প্রয়োজন হবে, তা নয়। ৭০ বছর বয়সী একজন মানুষও সম্পূর্ণ সক্রিয় থাকতে পারেন, আবার ৬০-৬৫ বছর বয়সেই কারও অন্যের সহায়তার প্রয়োজন হতে পারে। তাই বয়সের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ব্যক্তির শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা এবং দৈনন্দিন জীবনে তার কী ধরনের সহযোগিতা প্রয়োজন। কেয়ারগিভিংকে এ কারণেই ‘পারসন-সেন্টারড কেয়ার’ হিসেবে দেখা হয়।”
সব মিলিয়ে কেয়ারগিভারের প্রয়োজনীয়তা নির্ধারণে শুধু বয়সের দিকে তাকালে হবে না; একজন প্রবীণ নিজের দৈনন্দিন কাজ কতটা স্বাধীনভাবে করতে পারছেন, এসব বিষয় বিবেচনায় নিতে হবে।
কখনো কয়েক দিনের, কখনো দীর্ঘ সময়ের; আবার কারও ক্ষেত্রে পেশাদার কেয়ারগিভারের বদলে পরিবারের একজন সদস্যের সহযোগিতাই যথেষ্ট হতে পারে।





