বিউটি
ত্বকে আর্দ্রতার আবেদন

মডেল: তৌহিদা ফাতিমা, সাজ: পারসোনা, কৃতজ্ঞতা: স্টুডিও ক্যানভাস, ছবি: সাজ্জাদ হোসেন
ত্বকের সৌন্দর্যের অন্যতম শর্ত উজ্জ্বলতা নয়, আর্দ্রতা। এতে ত্বক দেখায় কোমল ও প্রাণবন্ত। একে ধরে রাখার উপায় জানাচ্ছেন তুলি রহমান
হাইড্রেশন আর ময়েশ্চার— শব্দ দুটি আমরা প্রায় একই অর্থে ব্যবহার করি; কিন্তু এ দুয়ের মধ্যে সামান্য পার্থক্য আছে। রূপবিশেষজ্ঞ শোভন সাহা বললেন, ‘হাইড্রেশন বলতে ত্বকের পানির পরিমাণ বোঝায়। আর ময়েশ্চারাইজিংয়ের মূল কাজ হলো সেই পানি হারিয়ে যেতে না দেওয়া এবং ত্বকের প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে সহায়তা করা। ত্বকের ওপরের স্তরে থাকা প্রাকৃতিক লিপিড বা চর্বিজাতীয় উপাদান, পানি ও অন্যান্য উপাদান মিলে তৈরি করে একটি সুরক্ষাব্যবস্থা। একে বলা হয় স্কিন ব্যারিয়ার। এ ব্যারিয়ার ঠিক থাকলে ত্বক আর্দ্রতা ধরে রাখতে পারে এবং বাইরের নানা ক্ষতিকর উপাদান থেকেও নিজেকে কিছুটা সুরক্ষিত রাখে।’
ভুল কোথায়
ত্বক শুষ্ক হলে শুধু ময়েশ্চারাইজারের অভাবকে দায়ী করা ঠিক নয়। অতিরিক্ত ফেসওয়াশ, খুব গরম পানি, কড়া সাবান বা ক্লিনজার, বারবার মুখ ধোয়া, অতিরিক্ত স্ক্র্যাব কিংবা একসঙ্গে একাধিক অ্যাকটিভ উপাদান ব্যবহারের অভ্যাসও ত্বকের স্বাভাবিক ব্যারিয়ারে চাপ ফেলতে পারে। ত্বক যত বেশি পরিষ্কার, তত ভালো— এ ধারণা থেকে অনেকে দিনে বারবার মুখ ধুয়ে ফেলেন। এতে সাময়িকভাবে ত্বক পরিষ্কার মনে হলেও দীর্ঘমেয়াদে শুষ্কতা ও অস্বস্তি বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।
মুখ ধোয়ার পর অপেক্ষা নয়
আর্দ্রতা ধরে রাখার সহজ অথচ কার্যকর অভ্যাস হলো মুখ ধোয়ার পর নরম তোয়ালে বা গামছায় আলতো করে পানি মুছে নিয়ে সামান্য ভেজা ত্বকেই ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা। সব ত্বকে একই ময়েশ্চারাইজার সমানভাবে কাজ করে না বলে এই পণ্য বেছে নিতে হবে ত্বকের ধরন বুঝে।
শুষ্ক ত্বক: এমন ত্বকে তুলনামূলক ঘন ক্রিম বা লোশন আরাম দিতে পারে। সিরামাইড, গ্লিসারিন, স্কোয়ালেন, পেট্রোলাটামের মতো উপাদানে মিলতে পারে উপকার।
তৈলাক্ত ত্বক: ভারী ক্রিম ব্যবহার করতে অস্বস্তি হলে হালকা জেল বা লোশনধর্মী ময়েশ্চারাইজার বেছে নেওয়া যায়। অয়েলি স্কিন বলে ময়েশ্চারাইজার বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই।
মিশ্র ত্বক: মুখের বিভিন্ন অংশের প্রয়োজন ভিন্ন হতে পারে। কারও কারও ক্ষেত্রে টি-জোনে হালকা এবং শুষ্ক অংশে একটু বেশি ময়েশ্চারাইজিং দরকার। নিজের ত্বকের কোথায় কী পরিমাণ ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করবেন, তা নিশ্চিত হতে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ িনতে পারেন।
সংবেদনশীল ত্বক: যত কম উপাদান, তত ভালো— এমন একটি সহজ নীতি অনুসরণ করা যেতে পারে। নতুন পণ্য ব্যবহারের আগে ত্বকের ছোট অংশে পরীক্ষা করে নেওয়া নিরাপদ।
পানির গুণ
পর্যাপ্ত পানি পান অবশ্যই শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু শুধু বেশি পানি পান করলেই ত্বকের ওপরের স্তরের শুষ্কতা দূর হয় না। আর্দ্রতা ধরে রাখার জন্য পানি পানের পাশাপাশি বাইরে থেকে ত্বকের ব্যারিয়ারকে সুরক্ষিত রাখাও জরুরি। এ জন্য প্রয়োজন ত্বকে উপযুক্ত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা।
সঠিক স্ক্র্যাব
মসৃণ ত্বকের আশায় নিয়মিত স্ক্র্যাব করা অনেকের অভ্যাস। কিন্তু ত্বককে ঘষে ঘষে মসৃণ করার চেষ্টায় হিতে বিপরীত হতে পারে। বিশেষ করে ত্বক যদি এরই মধ্যে শুষ্ক, সংবেদনশীল বা জ্বালাপোড়াপ্রবণ হয়, তাহলে অতিরিক্ত এক্সফোলিয়েশন ত্বকের ব্যারিয়ারকে আরও দুর্বল করে দিতে পারে। তাই প্রতিদিন স্ক্র্যাব করার কোনো প্রয়োজন নেই। বরং ত্বকের প্রয়োজন বুঝে এক্সফোলিয়েশন করা ভালো।
গোসলের পর
শুধু মুখ নয়, শরীরের ত্বকও আর্দ্রতা হারায়। বিশেষ করে কনুই, হাঁটু, হাত-পা ও গোড়ালিতে শুষ্কতা বেশি উঁকি দেয়। গোসলের পর ত্বক পুরোপুরি শুকিয়ে যাওয়ার আগেই বডি লোশন বা ক্রিম ব্যবহার করলে আর্দ্রতা অক্ষুণ্ন থাকার সম্ভাবনা বাড়ে।
সানস্ক্রিনের জাদু
সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি ত্বকের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে এবং দীর্ঘমেয়াদে স্বাভাবিক গঠন ও স্থিতিস্থাপকতাকে নষ্ট করতে পারে। তাই দিনের স্কিনকেয়ার রুটিনে ময়েশ্চারাইজারের পর সানস্ক্রিনও রাখা দরকার। বাইরে থাকার সময় প্রয়োজন অনুযায়ী বারবার সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে হবে।
ত্বকের চিকিৎসা
ময়েশ্চারাইজার ব্যবহারের পরও যদি ত্বক নিয়মিত খসখসে থাকে, চুলকায়, জ্বালা করে, লাল হয়ে যায় বা অস্বাভাবিকভাবে টানটান লাগে, তাহলে শুধু নতুন প্রসাধনী ব্যবহার করে যাওয়ার বদলে কারণটি খুঁজে দেখা দরকার। প্রয়োজনে ত্বক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।







