অন্দরমহল
বাঁশ-বেতের বুননে বোহেমিয়ান ঘর

মডেল: জিনাত রাহাত, ছবি: সাজ্জাদ হোসেন
সময়ের সঙ্গে আধুনিক আসবাবের ভিড়ে এসব উপকরণ কিছুটা আড়ালে গেলেও আবার ফিরছে নতুন রূপে। লিখেছেন করবী বিশ্বাস
বাঁশ ও বেতের পণ্যের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ এর প্রাকৃতিক বুনন ও রঙ। কাঠ, কাচ, ধাতু কিংবা আধুনিক মিনিমাল আসবাবের সঙ্গে সহজেই মানিয়ে যায় এসব উপকরণ। ফলে ঘরে খুব বেশি পরিবর্তন না এনেও বাঁশ-বেতের কয়েকটি উপকরণ যোগ করে তৈরি করা যায় আন্তরিক পরিবেশ।
নকশায় প্রকৃতির ভাষা: থিংকস্পেসের ইন্টেরিয়র আর্কিটেক্ট শাহরিয়া নাসরিন রীটার মতে, আধুনিক অন্দরসজ্জায় বাঁশ ও বেত শুধু ঐতিহ্যের প্রতিনিধিত্ব করে না, বরং একটি নির্দিষ্ট নকশা-ভাষা তৈরিতেও ভূমিকা রাখে। এসব প্রাকৃতিক উপকরণ ব্যবহারের ফলে কোনো স্থানে উষ্ণতা, টেক্সচার ও স্বচ্ছন্দতার অনুভূতি তৈরি করা যায়। বিশেষ করে বোহেমিয়ান, ন্যাচারাল কিংবা আর্দি ধরনের ইন্টেরিয়রে বাঁশ ও বেতের ব্যবহার পরিবেশের সঙ্গে সহজেই সামঞ্জস্য তৈরি করে।
এর একটি দৃষ্টান্ত দেখা যায় ধানমন্ডির ইয়ুজু রেস্তোরাঁর অভ্যন্তরীণ নকশায়। থিংকস্পেসের ডিজাইনে তৈরি এ বোহেমিয়ান ইন্টেরিয়রে বাঁশ ও বেতকে আলাদা কোনো সাজসজ্জার উপকরণ হিসেবে না রেখে পুরো নকশার সঙ্গে পরিকল্পিতভাবে যুক্ত করা হয়েছে। দেয়াল, আসবাব, টেবিল, আলোকসজ্জা এবং সিলিং— বিভিন্ন অংশে এসব উপকরণের ব্যবহার একটি সামঞ্জস্যপূর্ণ নকশা তৈরি করেছে।
ঘরসজ্জায় বোহেমিয়ান আবহ: আধুনিক ঘরসজ্জায় বাঁশ ও বেত শুধু ডেকোরেশনে নয়; আসবাব ও স্থায়ী নকশাতেও ব্যবহৃত হচ্ছে। বেতের ল্যাম্পশেড ঘরে কোমল ও উষ্ণ আবহ তৈরি করে। একইভাবে বেতের ঝুড়ি, মোড়া ও টুল ব্যবহার করা যায় কুশন, বই বা গাছের টব রাখার কাজে। ছোট জায়গায় বেতের মোড়া বা টুল যেমন কাজে আসে, তেমনি ঘরের সাজেও যোগ করে দেশীয় আবহ। ছাদ, দেয়াল কিংবা বিল্ট-ইন ফার্নিচারেও পরিকল্পিতভাবে বাঁশ-বেত ব্যবহার করলে আধুনিক নকশার সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী কারুশিল্পের দৃষ্টিনন্দন মেলবন্ধন তৈরি হয়।
ঘরে কীভাবে ব্যবহার করবেন: বাঁশ ও বেতের পণ্য ব্যবহারের ক্ষেত্রে পুরো ঘরকে একই উপকরণে সাজানোর প্রয়োজন নেই। আধুনিক আসবাবের সঙ্গে কয়েকটি নির্বাচিত বাঁশ-বেতের উপকরণ ব্যবহার করলেই তৈরি হতে পারে ভারসাম্যপূর্ণ নকশা। যেমন— সোফার পাশে বেতের ঝুড়ি, ডাইনিং টেবিলে বাঁশের ট্রে, দেয়ালে বেতের আয়নার ফ্রেম কিংবা কোণের টেবিলে বেতের ল্যাম্প। প্রাকৃতিক রঙের বাঁশ ও বেত সাদা, বেইজ, বাদামি, সবুজ কিংবা মাটির রঙের ইন্টেরিয়রের সঙ্গে দারুণ মানানসই।
যত্নে ঠিকঠাক: বাঁশ ও বেতের পণ্য দীর্ঘদিন ভালো রাখতে নিয়মিত পরিষ্কার ও সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা জরুরি। এসব পণ্য অতিরিক্ত পানিতে ভেজানো বা দীর্ঘ সময় স্যাঁতসেঁতে জায়গায় রাখা ঠিক নয়। ধুলো পরিষ্কারের জন্য নরম শুকনো কাপড় বা ব্রাশ ব্যবহার করা যেতে পারে। ভেজা কিছু পরিষ্কার করার প্রয়োজন হলে হালকা ভেজা কাপড় দিয়ে মুছে দ্রুত শুকিয়ে নিতে হবে। সরাসরি দীর্ঘ সময় রোদে রাখলে বাঁশ বা বেতের রঙ ও গঠন নষ্ট হতে পারে। তাই আর্দ্রতা ও অতিরিক্ত রোদ থেকে দূরে রাখলে এসব পণ্য দীর্ঘদিন ভালো থাকবে।
প্রাপ্তিস্থান: ঢাকায় বাঁশ ও বেতের পণ্য কেনার জন্য গ্রিন রোড, পান্থপথ ও নিউ মার্কেটসংলগ্ন এলাকা পরিচিত। এসব এলাকায় চেয়ার, টেবিল, টুল, ঝুড়ি ও বিভিন্ন ধরনের ঘরসজ্জার সামগ্রী পাওয়া যায়। কারওয়ান বাজার ও পুরান ঢাকার বিভিন্ন মার্কেটেও দেশীয় কারুশিল্পের পণ্য মিলতে পারে। এ ছাড়া বিভিন্ন হস্তশিল্পের অনলাইন শপ, ফেসবুক পেজ ও ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের আসবাব পাওয়া যায়।
দরদাম: পণ্যের আকার, নকশা, কারিগরি কাজ ও উপকরণের মান অনুযায়ী এগুলোর দামে রয়েছে পার্থক্য। সাধারণ ছোট ঝুড়ির দাম প্রায় ২০০ থেকে ৮০০ টাকা। মাঝারি বা নকশাদার ঝুড়ির দাম ৫০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা বা আরেকটু বেশি হতে পারে। বেতের টুল বা মোড়া সাধারণত ৮০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ এবং ল্যাম্পশেড প্রায় ৮০০ থেকে ৩ হাজার টাকার মধ্যে পাওয়া যায়। বড় চেয়ার, টেবিল বা সোফার দাম দশ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে। তাই কেনার আগে কয়েকটি দোকানে পণ্য দেখে দাম ও মান তুলনা করে নেওয়া ভালো।






