ফ্যাশন
শারদ সাজে ধুতি-পাঞ্জাবি

মডেল: রিজভী আহমেদ অপু ও ইসফাক আরিফ পোশাক: রঙ বাংলাদেশ সাজ: সোনালী আখতার; ছবি: সাজ্জাদ হোসেন
পুরুষের চিরচেনা এ পোশাকে ফুটে ওঠে উৎসবের আবহ; সঙ্গে মেলে সময়ের ছেঁায়া। লিখেছেন রেজাউল আহমেদ
শারদীয় উৎসবের সাজে বাঙালিয়ানার রয়েছে আলাদা আবেদন। পুরুষের পোশাকে তা সবচেয়ে সুন্দর করে ধরা দেয় ধুতি-পাঞ্জাবিতে। সাদা ধুতির সঙ্গে পাঞ্জাবির রঙ, কাপড়ের বুনন, গলার নকশা কিংবা উত্তরীয়ের ছোট্ট ছেঁায়ায় তৈরি হয় একেক রকম ব্যক্তিত্ব। বছর বছর পূজায় তাই পুরনো এ পোশাকই ফেরে নতুন রঙ, নকশায়। সাদা ধুতি আর সাদা পাঞ্জাবি পূজার চিরন্তন জুটি। তবে দুটো পোশাক সাদার একই শেডে না রেখে বৈচিত্র্য আনলে ভালো দেখাবে— জানালেন ফ্যাশন ব্র্যান্ড রঙ বাংলাদেশের কর্ণধার সৌমিক দাস। তিনি বললেন, দুধসাদা ধুতির সঙ্গে অফ-হোয়াইট কিংবা সাদা পাঞ্জাবিতে হালকা সুতার কাজ, গলায় সূক্ষ্ম নকশা থাকলে পোশাকে আসে আভিজাত্য। অষ্টমীর সকালের জন্য এমন সাজ হয়ে উঠবে নির্ভার ও পরিশীলিত।
রঙে উৎসব: পাঞ্জাবিতে এবার থাকতে পারে সাহসের রঙ। সরষে হলুদ, গেরুয়া, মেরুন, লাল, কচি সবুজ কিংবা নীল-সাদা ধুতির সঙ্গে সবই মানিয়ে যায়। পাঞ্জাবির রঙ যত উজ্জ্বল হবে, নকশা তত সীমিত রাখা ভালো। আবার মাটি রঙ, ছাই, জলপাই বা ধূসর পাঞ্জাবি চাইলে সাজ হবে শান্ত ও পরিণত।
নকশার জাদু: পাঞ্জাবির গায়ে থাকা ছোট্ট নকশাও বদলে দিতে পারে পুরো পোশাকের আবেদন। বাংলার লোকজ মোটিফ, ফুল-পাতা, কলকা কিংবা জ্যামিতিক নকশার পাঞ্জাবি বেছে নিতে পারেন। হাতার কিনারা বা গলার কাছে সূক্ষ্ম কারুকাজ থাকলে তো কথাই নেই! এমন পোশাকে মণ্ডপে ঘুরে বেড়াতে পারবেন বাঙালিবাবু সেজে।
ধুতিতে আধুনিকতা: ধুতি পরার ঐতিহ্য থাকলেও এর ধরনে এসেছে বেশ কিছু পরিবর্তন। যারা ধুতি পরায় অভ্যস্ত নন, রেডিমেড ধুতি তাদের জন্য। এতে ঐতিহ্যবাহী সৌন্দর্য থাকে, আবার চলাফেরাও সহজ হয়। ধুতির সঙ্গে পাঞ্জাবির দৈর্ঘ্য ও কাটের সামঞ্জস্য রাখা জরুরি। খুব লম্বার বদলে মাঝারি দৈর্ঘ্যের পাঞ্জাবি ধুতির সঙ্গে চমৎকার দেখায়।
পূজায় অনেকটা হাঁটাহাঁটি হবে, তাই সৌন্দর্যের পাশাপাশি স্বস্তিও মাথায় রাখা জরুরি
পাঞ্জাবির কাপড়ে: খাদি, সিল্ক, সুতি কিংবা মসলিনের মতো হালকা কাপড় দিনের সাজে স্বস্তি দেবে। সন্ধ্যার আয়োজনে বেছে নিতে পারেন একটু ভারী বুননের পাঞ্জাবি। কাপড় ভালো হলে পোশাকের সৌন্দর্যও আলাদা করে চোখে পড়ে।
উত্তরীয় সংযোগ: বিশেষ দিনের সাজে উত্তরীয় যোগ করলে ধুতি-পাঞ্জাবি পায় আরও উৎসবমুখর রূপ। সাদা পাঞ্জাবির সঙ্গে গেরুয়া, মেরুন বা বাসন্তী উত্তরীয় বেশ মানানসই। আবার রঙিন পাঞ্জাবির সঙ্গে অফ-হোয়াইট উত্তরীয়ও দারুণ দেখায়। উত্তরীয় খুব কায়দা করে জড়িয়ে রাখার চেয়ে কাঁধে স্বাভাবিকভাবে ফেলে রাখলেই অনেক সময় বেশি মানায়।
পায়ে স্বস্তি: ধুতি-পাঞ্জাবির সঙ্গে জুতায়ও বাঙালিয়ানা ছাপ রাখা যায়। নাগরা, চামড়ার স্যান্ডেল কিংবা সাধারণ নকশার পাদুকা ভালো মানাবে। পাঞ্জাবির সঙ্গে মিলিয়ে জুতার রঙ বেছে নিতে পারেন। তবে পূজায় অনেকটা হাঁটাহাঁটি হবে, তাই সৌন্দর্যের পাশাপাশি স্বস্তিও মাথায় রাখা জরুরি।
গয়না কম, ব্যক্তিত্ব বেশি: পুরুষের পূজার সাজে গয়না থাকতেই পারে। সে ক্ষেত্রে হাতে ঘড়ি, আঙুলে একটি আংটি কিংবা গলায় সরু চেইনই যথেষ্ট। কেননা, খুব বেশি অনুষঙ্গ পোশাকের স্বাভাবিক সৌন্দর্যকে আড়াল করতে পারে। আসলে নানা রকমের পোশাকের ভিড়ে ধুতি-পাঞ্জাবির সবচেয়ে বড় অলংকার আত্মবিশ্বাস।
দিনভেদে রূপ: প্রতিদিন একই ধরনের সাজ ভালো বুদ্ধি নয়! ষষ্ঠীর সন্ধ্যায় হতে পারে হালকা রঙের, সপ্তমীতে সাদা অফ-হোয়াইট, অষ্টমীতে সাদা ধুতি ও গেরুয়া আর নবমীর সন্ধ্যায় মেরুন কিংবা গাঢ় নীল পাঞ্জাবি। দশমীর জন্য আবার সাদা পোশাকে ফেরা যেতে পারে। কেননা, রঙ বদলালে একই ধুতি-পাঞ্জাবির মেজাজও বদলে যাবে।



