পরিধেয়
দুই প্রজন্মের পোশাক-আনন্দ

পোশাক ও ছবি: রঙ বাংলাদেশ ও বিশ্বরঙ কোলাজ: অপূর্বা
উৎসবের পোশাকে চাই বয়সের সঙ্গে মানানসই রঙ, স্বস্তি আর নিজস্ব সৌন্দর্য। লিখেছেন তুলি রহমান
নবীনের জন্য: পূজার কেনাকাটায় শিশুদের পোশাক বাছাই করতে গিয়ে মন চলে যায় রঙের দুনিয়ায়। লাল, হলুদ, নীল, সবুজ— উজ্জ্বল রঙের পোশাকে তাদের দেখতে লাগে আরও প্রাণবন্ত। মেয়েশিশুর জন্য ফ্রক, ঘেরওয়ালা লেহেঙ্গা, সালোয়ার-কামিজ কিংবা ছোট্ট শাড়ি; ছেলেশিশুর জন্য পাঞ্জাবি-পায়জামা, ধুতি-পাঞ্জাবি কিংবা আরামদায়ক কুর্তায় জমে ওঠে পূজার আনন্দ। আবার মায়ের লাল পাড়ের শাড়ির সঙ্গে মেয়ের লাল-সাদা ফ্রক, বাবার সাদা পাঞ্জাবির সঙ্গে ছেলের ছোট্ট পাঞ্জাবি— এমন মিলিয়ে পারিবারিক ছবিও হয়ে ওঠে বিশেষ। চাইলে একই রঙ না পরে পোশাকে রাখতে পারেন রঙের সামঞ্জস্য। যেমন, মায়ের সরষে শাড়ির সঙ্গে মেয়ের অফ-হোয়াইট ফ্রক কিংবা বাবার নীল পাঞ্জাবির সঙ্গে ছেলের সাদা কুর্তাও বেশ মানিয়ে যায়। তবে খেয়াল রাখতে হবে পোশাকের সৌন্দর্য যেন তার স্বাভাবিক চঞ্চলতা আটকে না দেয়। নরম সুতি কাপড়, সহজে খোলা ও পরা যায়— এমন নকশা এবং শরীরে না বিঁধে— এমন বোতাম বা সেলাই বেছে নেওয়া ভালো। অতিরিক্ত ভারী কাজ, শক্ত কাপড় কিংবা খুব আঁটসাঁট পোশাক এড়িয়ে চললে পূজার ঘোরাঘুরি, খাওয়াদাওয়া আর খেলাধুলা— সবই হবে স্বচ্ছন্দ।
প্রবীণের জন্য: প্রবীণ নারীদের কেউ ভালোবাসেন চিরাচরিত শাড়ি; কেউ আবার কুর্তা কিংবা পাঞ্জাবিতে স্বচ্ছন্দ। পূজার সাজে তাদের জন্য তাই আরাম ও রুচির মেলবন্ধনই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। নারীদের জন্য জামদানি, তাঁত, সুতি কিংবা নরম সিল্কের শাড়ি হতে পারে চমৎকার পছন্দ। অফ-হোয়াইট, মেরুন, নীল, জলপাই, বেগুনি কিংবা মাটির রঙে ফুটে উঠবে পরিণত সৌন্দর্য। শাড়ির সঙ্গে মানানসই ব্লাউজ, ছোট মুক্তার দুল, একটি ঘড়ি কিংবা পছন্দের পুরনো গয়নায় সাজ পাবে ব্যক্তিগত ছেঁায়া। যাদের শাড়ি সামলাতে অসুবিধা হয়, তারা বেছে নিতে পারেন আরামদায়ক সালোয়ার-কামিজ বা কুর্তি।
অন্যদিকে, সাদা বা অফ-হোয়াইট পাঞ্জাবির সঙ্গে পায়জামা, কিংবা হালকা রঙের কুর্তা— প্রবীণ পুরুষের পূজার সাজে এনে দেবে মার্জিত আবহ। পছন্দ অনুযায়ী তারা বেছে নিতে পারেন খাদি, সুতি বা নরম বুননের কাপড়। পাঞ্জাবিতে সূক্ষ্ম নকশা কিংবা কলারে সামান্য কারুকাজ থাকলেই বেশ লাগবে। সঙ্গে আরামদায়ক জুতা বা স্যান্ডেল এবং প্রয়োজনমতো হালকা চাদর। তবে খেয়াল রাখুন, পোশাকের কাট এমন হতে হবে, যাতে বসা, ওঠা কিংবা হাঁটাচলায় অসুবিধা না হয়।



