কুমিল্লার স্বর্ণের দোকানে ডাকাতির দাবি করা ভিডিওটি ভারতের

ছবি: আগামীর সময়
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি সিসিটিভি ফুটেজ ছড়িয়ে দিয়ে দাবি করা হচ্ছে যে, কুমিল্লার একটি স্বর্ণের দোকানে সশস্ত্র ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে এবং এর মাধ্যমে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
তবে যাচাইয়ে দেখা গেছে, প্রচারিত দাবিটি মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। ভিডিওটির সাথে কুমিল্লার বা বাংলাদেশের কোনো সম্পর্ক নেই; এটি মূলত মহারাষ্ট্র রাজ্যের নাগপুরের একটি স্বর্ণের দোকানে সংঘটিত সশস্ত্র ডাকাতির দৃশ্য।
কী দাবি করা হচ্ছে?
আজ শনিবার '@banglaleague224' নামের একটি এক্স (X) অ্যাকাউন্ট থেকে একটি সিসিটিভি ফুটেজ পোস্ট করা হয়। ভিডিওটিতে সশস্ত্র ব্যক্তিদের একটি স্বর্ণের দোকানে প্রবেশ করে ডাকাতি করতে দেখা যায়।
পোস্টটির ক্যাপশানে লেখা হয়, ‘কুমিল্লায় এক স্বর্ণের দোকানে সশস্ত্র ডাকাতি হয়েছে। বাংলাদেশ সত্যিই ব্যবসায়ীদের জন্য অনিরাপদ হয়ে উঠেছে’।
আসল ঘটনা কী?
প্রচারিত ভিডিওটির কি-ফ্রেম নিয়ে রিভার্স-ইমেজ সার্চ করা হলে জি নিউজ, এনডিটিভি হিন্দি এবং টিভি৯ ভারতর্ষসহ বিভিন্ন ভারতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত আসল ফুটেজ ও প্রতিবেদন সামনে আসে। প্রতিটি প্রতিবেদনে ঘটনাটির স্থান ভারতের মহারাষ্ট্রের নাগপুর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
‘দ্য লাইভ নাগপুর’, ‘ইন্ডিয়া টিভি’, ‘লোকমত’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ৩ অক্টোবর দুপুরে নাগপুরের এমআইডিসির (MIDC) থানাধীন ওয়ানাদোংরির মহাজনওয়াড়িতে অবস্থিত ‘ঢোমনে জুয়েলার্স’-এ (Dhomne Jewellers) এই সশস্ত্র ডাকাতির ঘটনা ঘটে।
প্রতিবেদনে আরও জানা যায়, চারজন দুষ্কৃতকারী মোটরসাইকেলে করে এসে পর্যায়ক্রমে দোকানে প্রবেশ করে। তারা দোকানের শাটার নামিয়ে দিয়ে শুভম হাদগে নামের এক কর্মচারীকে বন্দুকের মুখে জিম্মি করে এবং একটি ব্যাগে প্রচুর সোনার গহনা ভর্তি করে ফেলে। পালিয়ে যাওয়ার সময় তারা তার মোবাইল ফোনটিও ছিনিয়ে নেয়।
দোকানের কর্মী শুভম হাদগে ডাকাতদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে, তারা তাকে মোটরসাইকেলের সাথে কিছুটা দূরে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যায়, ফলে তিনি গুরুতর আহত হন। প্রাথমিক প্রতিবেদনে জানা যায়, ডাকাত দল প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ ভরি সোনা লুট করে নিয়ে যায়, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৪০ থেকে ৬০ লাখ রুপি।
এ ঘটনায় এমআইডিসি পুলিশ একটি মামলা দায়ের করে এবং দোকান ও আশেপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ শুরু করে। ‘লোকমত’-এর প্রতিবেদনে জানানো হয়, সন্দেহভাজনদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেফতারে এমআইডিসি পুলিশ ও নাগপুর ক্রাইম ব্র্যাঙ্কের মোট নয়টি বিশেষ দল মাঠে কাজ করছে।
সুতরাং, ভারতের নাগপুরের একটি গহনার দোকানে ঘটে যাওয়া ডাকাতির ভিডিওকে কুমিল্লার ঘটনা সাজিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে।





