বিএনপির চাঁদাবাজি নাকি সড়ক দুর্ঘটনার ক্ষোভ?

ছবি: আগামীর সময়
চাঁদা না দেওয়ায় বিএনপির নেতাকর্মীরা একটি ট্রাকে আগুন লাগিয়ে দিয়েছেন—দাবি করে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। তবে তথ্য অনুসন্ধানে দেখা গেছে, প্রচারিত এই দাবিটি সম্পূর্ণ অসত্য ও বিভ্রান্তিকর। ভিডিওটির সাথে চাঁদা দাবি বা বিএনপির কোনো ধরনের রাজনৈতিক কর্মসূচির কোনো সম্পর্ক নেই। এটি মূলত গত ২৩ মে যশোর-খুলনা মহাসড়কে একটি মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর কাভার্ডভ্যানে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার দৃশ্য।
ভিডিওর আসল উৎস ও ঘটনার প্রেক্ষাপট
ছড়ানো ভিডিওটির সত্যতা যাচাইয়ে ‘রিভার্স ইমেজ সার্চ’ করা হলে মূলধারার গণমাধ্যম ‘দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড’-এর অফিশিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে গত ২৩ মে প্রকাশিত একটি ভিডিও প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। ওই প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ২৩ মে দুপুরে যশোর-খুলনা মহাসড়কের চাউলিয়া তেল পাম্পের সামনে একটি কাভার্ডভ্যান একটি ইজিবাইককে চাপা দেয়। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ইজিবাইকের চালক ও যাত্রীসহ ঘটনাস্থলেই চারজন মারা যান। দুর্ঘটনার পর ক্ষুব্ধ স্থানীয় এলাকাবাসী সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন এবং একপর্যায়ে চাপা দেওয়া কাভার্ডভ্যানটিতে আগুন ধরিয়ে দেন।
ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের ভূমিকা
পরবর্তীতে প্রাসঙ্গিক কীওয়ার্ড অনুসন্ধানের মাধ্যমে দেশের একাধিক মূলধারার সংবাদমাধ্যমে এই ঘটনা নিয়ে প্রকাশিত আরও বেশ কিছু প্রতিবেদন পাওয়া যায়। গণমাধ্যম ‘বাংলা স্ট্রিম’-এর প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, কাভার্ডভ্যানে আগুন দেওয়ার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। একই সাথে পুলিশ প্রশাসনও তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক করে।
সামগ্রিক তথ্য-প্রমাণ ও গণমাধ্যমের প্রতিবেদন বিশ্লেষণ শেষে এটি শতভাগ নিশ্চিত যে, ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি কোনো চাঁদাবাজি বা রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা নয়। যশোর-খুলনা মহাসড়কে কাভার্ডভ্যান চাপায় চারজন নিহতের ঘটনায় স্থানীয় সাধারণ মানুষের তাৎক্ষণিক ক্ষোভ ও কাভার্ডভ্যানে আগুন দেওয়ার দৃশ্য এটি। সড়ক দুর্ঘটনার এই পুরোনো ও দুঃখজনক ভিডিওটিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক রূপ দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।






