খুলনার আদালত চত্বরে ধর্ষণ মামলার আসামিদের হত্যার দাবির অন্তরালে কী

ছবি: আগামীর সময়
খুলনার আদালত প্রাঙ্গণে ধর্ষণ মামলার দুই আসামিকে প্রকাশ্য দিবালোকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে-এমন একটি চাঞ্চল্যকর দাবি সম্প্রতি একটি ভিডিওসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং কিছু অনলাইন গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারী এই ভিডিওটি মুহূর্তের মধ্যেই ভাইরাল হয়ে যায়। তবে তথ্য অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এই দাবির সঙ্গে বাস্তব ঘটনার কোনো মিল নেই। মূলত, গত বছরের একটি সম্পূর্ণ ভিন্ন অপরাধের ভিডিও চিত্রকে বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ক্যাপশন জুড়ে দিয়ে প্রচার করা হচ্ছে।
অনুসন্ধান ও ঘটনার প্রকৃত প্রেক্ষাপট
ভাইরাল হওয়া ভিডিওটির সত্যতা যাচাইয়ে অনুসন্ধান চালিয়ে দেখা যায়, এটি সাম্প্রতিক কোনো ঘটনার দৃশ্য নয়। এটি মূলত গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালের ৩০ নভেম্বর খুলনা মহানগর দায়রা জজ আদালতের প্রধান ফটকের বাইরে ঘটে যাওয়া একটি হত্যাকাণ্ডের চিত্র।
সেদিন আদালতে একটি পুরোনো অস্ত্র মামলায় হাজিরা শেষে বের হওয়ার পর প্রকাশ্য রাস্তায় দুর্বৃত্তদের আকস্মিক হামলার শিকার হন রাজন ও হাসিব নামে দুই ব্যক্তি। হামলাকারীরা তাদের লক্ষ্য করে নির্বিচারে গুলি চালায় এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। ফলশ্রুতিতে ঘটনাস্থলেই ওই দুই ব্যক্তি নিহত হন। এই সম্পূর্ণ ভিন্ন ঘটনার ভিডিওটিকেই বর্তমান সময়ে এসে ‘ধর্ষণ মামলার আসামিদের শাস্তি’র তকমা দিয়ে ফেসবুকে ছড়ানো হচ্ছে।
ভিডিওর প্রকৃত উৎস ও প্রমাণাদি
অনুসন্ধানের গভীরতায় গিয়ে ‘Shihab Uddin Rubel’ নামের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্টে গত বছরের ২৫ নভেম্বর প্রকাশিত একটি ভিডিওর সন্ধান পাওয়া যায়, যার দৃশ্য ও পারিপার্শ্বিকতার সঙ্গে বর্তমান ভাইরাল ভিডিওটির হুবহু মিল রয়েছে। ওই ভিডিওর ক্যাপশনে আদালত এলাকায় একটি সুনির্দিষ্ট গোলাগুলি ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনার কথা উল্লেখ থাকলেও, সেখানে কোনো শিশু ধর্ষণকারী বা ধর্ষণ মামলার আসামি সংক্রান্ত তথ্যের বিন্দুমাত্র অস্তিত্ব ছিল না।
একই ঘটনার সত্যতা মেলে দেশের মূলধারার গণমাধ্যম ‘মাছরাঙা টেলিভিশন’-এর অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশিত ভিডিও প্রতিবেদনেও। ওই সময় প্রচারিত তাদের সংবাদে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছিল, অস্ত্র মামলায় হাজিরা দিয়ে বের হওয়ার সময় দুর্বৃত্তদের গুলি ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে রাজন ও হাসিব নামের দুই ব্যক্তি নিহত হন। শুধু এই টেলিভিশনই নয়, ওই সময় দেশের অন্যান্য শীর্ষস্থানীয় ও নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করেও এই তথ্যের সত্যতা শতভাগ নিশ্চিত হওয়া গেছে।
তাছাড়া, সাম্প্রতিক সময়ে খুলনার কোনো আদালত প্রাঙ্গণে ধর্ষণ মামলার আসামিকে গুলি করে বা অন্য কোনোভাবে হত্যার কোনো ঘটনার খবর আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা কোনো বিশ্বস্ত সূত্রে পাওয়া যায়নি।
সামগ্রিক তথ্য-প্রমাণ, গণমাধ্যমের এবং প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ শেষে এটি সম্পূর্ণ স্পষ্ট যে, আলোচিত ওই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ধর্ষণ বা শিশু নির্যাতনের কোনো সংশ্লিষ্টতাও নেই। গত বছরের একটি ভিন্ন অপরাধের ভিডিও চিত্র ব্যবহার করে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, বানোয়াট ও বিভ্রান্তিকর দাবি প্রচারের মাধ্যমে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করা হচ্ছে।






