ডাকাতির চেষ্টাকে 'জিজিয়া কর না দেওয়ার হামলা' দাবি বলে প্রচার

ছবি: আগামীর সময়
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি তথ্য ছড়িয়ে দাবি করা হচ্ছে— খুলনার হিন্দু মালিকানাধীন ‘শ্যামা জুয়েলার্স’-এর মালিক জিজিয়া কর দিতে অস্বীকৃতি জানালে ইসলামপন্থীরা দোকানটিতে লুটের চেষ্টা চালায়। (উল্লেখ্য, ঐতিহাসিকভাবে জিজিয়া হলো মুসলিম শাসনের অধীনে অমুসলিমদের ওপর নিরাপত্তা ও সামরিক সেবা থেকে অব্যাহতির বিনিময়ে ধার্য করা একটি ফি বা কর)। এক্স পোস্টটিতে ‘খুলনায় হিন্দু মালিকানাধীন শ্যামা জুয়েলার্স লুট করার চেষ্টা করেছে জামায়াতে ইসলামীর গুন্ডারা’ শীর্ষক একটি ফটোকার্ডও যুক্ত করা হয়।
তবে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, প্রচারিত দাবিটি একটি চলমান অপরাধমূলক ঘটনার ভুলভাবে উপস্থাপন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচার করা হচ্ছে। ঘটনাটি কোনো জিজিয়া কর আদায় বা ধর্মীয় সহিংসতার নয়; বরং এটি একটি সাধারণ সশস্ত্র ডাকাতির চেষ্টার ঘটনা।
অনুসন্ধানের তথ্য ও গণমাধ্যমের প্রতিবেদন
সংশ্লিষ্ট বিষয়ভিত্তিক কি-ওয়ার্ড অনুসন্ধানের মাধ্যমে স্থানীয় ও জাতীয় গণমাধ্যম—‘খুলনার প্রতিচ্ছবি’, ‘দেশ চ্যানেল’ এবং ‘আজকের পত্রিকা’-য় প্রকাশিত সংবাদের সাথে ঘটনাটির সূত্র খুঁজে পাওয়া যায়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার রাতে খুলনার নিউ মার্কেটের শ্যামা জুয়েলার্সে ৮ থেকে ১০ জনের একটি সংগঠিত সশস্ত্র দল ডাকাতির চেষ্টা চালায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলাকারীরা আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে মালিক ও কর্মচারীদের ভয় দেখায় এবং দোকানটি লুটের চেষ্টা করে, যার ফলে নিউ মার্কেটের মতো ব্যস্ত এই বাণিজ্যিক এলাকায় তাৎক্ষণিক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
পুলিশের বক্তব্য ও মূল তথ্য
ঘটনার বিষয়ে সোনাডাঙ্গা থানার ওসি মো. রফিকুল ইসলাম নিশ্চিত করেন যে, ১০ থেকে ১২ জন লোক জুয়েলারি দোকানে ঢোকার খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেয়। তিনি জানান, দোকান বন্ধ থাকায় পুলিশ অবিলম্বে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করতে পারেনি, তবে তদন্তের অংশ হিসেবে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার কাজ চলছে।
উল্লিখিত সংবাদ প্রতিবেদন কিংবা পুলিশ— কোনো পক্ষই হামলাকারীদের ইসলামপন্থী বা জামায়াতে ইসলামীর সদস্য হিসেবে চিহ্নিত করেনি। এ ছাড়া জিজিয়া দাবি করার কথা কিংবা এই ডাকাতির চেষ্টার পেছনে দোকান মালিকের ধর্মীয় পরিচয় জড়িত থাকার বিষয়েও পুলিশ বা প্রত্যক্ষদর্শীদের নিকট থেকে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণ ও দাপ্তরিক অনুসন্ধানের ভিত্তিতে এটি শতভাগ নিশ্চিত যে, এক্সে ছড়ানো দাবিটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর। খুলনার নিউ মার্কেটে একটি জুয়েলারি দোকানে সংঘটিত সশস্ত্র ডাকাতির চেষ্টার ঘটনাকে কেন্দ্র করে কোনো প্রকার যাচাই-বাছাই ছাড়াই জিজিয়া কর ও সাম্প্রদায়িক উদ্দেশ্য জুড়ে দিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।




