শখের প্যারোডি সিনেমা যখন বিশ্ব জুড়ে সুপারহিট!

সংগৃহীত ছবি
একেবারেই কম বাজেট, নেই কোনো বড় তারকা, আর গল্পটাও তৈরি হয়েছে কানাডার টরন্টো শহরের কিছু আঞ্চলিক কৌতুক নিয়ে। শুরুতে দুই বন্ধুর কাছে এটি ছিল শুধুই একটি শখের কাজ বা প্যাশন প্রজেক্ট। কিন্তু সব হিসাব-নিকাশ উল্টে দিয়ে সেই সিনেমাই এখন আমেরিকা থেকে দক্ষিণ কোরিয়া— বিশ্ব জুড়ে মাতিয়ে বেড়াচ্ছে।
বলছি, কানাডিয়ান কমেডি সিনেমা ‘নির্ভানা দ্য ব্যান্ড দ্য শো দ্য মুভি’র কথা। আজ থেকে যুক্তরাজ্যের প্রেক্ষাগৃহেও মুক্তি পেয়েছে এই চমৎকার ছবিটি।
হলিউডের টাইম ট্রাভেলের বিখ্যাত ক্লাসিক সিনেমা ‘ব্যাক টু দ্য ফিউচার’-এর গল্পকে কিছুটা হাস্যরসাত্মক বা প্যারোডি আকারে সাজিয়েছেন দুই বন্ধু— ম্যাট জনসন ও জে ম্যাকক্যারল। সিনেমায় তারা দুজনে এমন দুই বোকা মিউজিশিয়ানের চরিত্রে অভিনয় করেছেন, যারা সফল হওয়ার জন্য নিজেদের তৈরি একটি টাইম মেশিনে চড়ে বর্তমান সময় থেকে ২০০৮ সালের টরন্টো শহরে চলে যায়।
এরপর সেখানে গিয়ে তারা নানা অদ্ভুত কাণ্ডকারখানা শুরু করে। মজার বিষয় হলো, শুটিংয়ের সময় সাধারণ মানুষের অজান্তেই তাদের অনেক রিয়েল লাইফ প্রতিক্রিয়া গোপনে ক্যামেরাবন্দি করা হয়েছে, যা সিনেমাটিকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলেছে।
সিনেমার একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে খাঁটি কানাডিয়ান কৌতুক। টরন্টোর সিএন টাওয়ার, স্থানীয় বেসবল দল, সেখানকার পুরনো রেডিও শো, এমনকি কানাডার একটি বিলুপ্ত কোমল পানীয় নিয়ে তৈরি করা কৌতুকগুলো বিদেশের দর্শকরা বুঝবে কি না— তা নিয়ে চিন্তায় ছিলেন নির্মাতারা।
কিন্তু সিনেমাটি যখন আমেরিকায় মুক্তি পায়, তখন দেখা যায় দর্শকরা প্রতিটি কৌতুকেই হো হো করে হাসছেন। এ প্রসঙ্গে অভিনেতা জে ম্যাকক্যারল বলেছেন, ‘আমেরিকানরা যেকোনো জিনিসে একটু অতিরিক্ত কানাডিয়ান ছোঁয়া থাকলে তা খুব পছন্দ করে। আমাদের দেশের চেনা পরিবেশ ও খুঁটিনাটি বিষয়গুলোই বিদেশের দর্শকদের কাছে বেশ নতুন ও আকর্ষণীয় লেগেছে।’
সিনেমার পরিচালক ম্যাট জনসনের ক্যারিয়ার এখন বেশ তুঙ্গে। তার আগের ছবি ‘ব্ল্যাকবেরি’ আমেরিকায় বেশ নাম করেছিল এবং বিখ্যাত হলিউড প্রযোজনা সংস্থা ‘এ২৪’-এর ব্যানারে তার নতুন সিনেমা ‘টনি’ আগামী মাসেই মুক্তি পেতে যাচ্ছে।
এত বড় বড় প্রজেক্টের মধ্যেও ‘নির্ভানা দ্য ব্যান্ড’ ছিল তার মনের ভেতরের একটি স্বপ্নের কাজ। কোনো বড় প্রত্যাশা ছাড়া তৈরি করা এই ছবিই এখন বিশ্ব জুড়ে লাখ লাখ ভক্ত তৈরি করেছে।
নির্মাতাদের মতে, এই সিনেমার সাফল্যের পথটা মোটেও সহজ ছিল না। কোনো নামি তারকা ছাড়া দুজন ৪০ বছর বয়সী সাধারণ মানুষের কম বাজেটের এই ছবি দেখে মানুষ প্রেক্ষাগৃহে আসবে, এমনটা ভাবাই কঠিন ছিল।
কিন্তু ছবির চমৎকার হিউমার ও অভিনব ডকু-স্টাইল সব বাধাকে জয় করেছে। শুধু এই ছবিই নয়, চলতি বছর ‘ব্লু হেরন’ ও ‘মাইল অ্যান্ড কিকস’-এর মতো আরও বেশ কিছু কানাডিয়ান সিনেমা বিশ্ব জুড়ে দারুণ সাড়া ফেলছে।
বিদেশে বেড়াতে গিয়ে মানুষ যেমন স্মৃতি হিসেবে পারফিউম বা চকোলেট নিয়ে আসে, এই সিনেমাটি দর্শকদের জন্য ঠিক তেমনই একটি সুন্দর উপহার। বিনোদনের কোনো সীমানা নেই— সহজ ভাষার এই নিখাদ কমেডি সিনেমাটি যেন বিশ্ব জুড়ে আরও একবার সেটাই প্রমাণ করল।




