এআই দিয়ে বানানো নকল অডিওতে ধ্বংস কোরিয়ান সুপারস্টারের ক্যারিয়ার!

এই কেলেঙ্কারি দক্ষিণ কোরিয়ার একসময়কার জনপ্রিয় তারকা কিম সু-হিউনের ক্যারিয়ারকে বড় ধাক্কা দিয়েছে
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার যে কতটা ভয়ঙ্কর হতে পারে, তার এক নির্মম উদাহরণ তৈরি হলো দক্ষিণ কোরিয়ায়। এআই দিয়ে তৈরি জাল অডিও এবং ভুয়া চ্যাট স্ক্রিনশটের মাধ্যমে দেশটির অন্যতম শীর্ষ অভিনেতা কিম সু-হিউনের ক্যারিয়ার ও জীবন পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক জনপ্রিয় ইউটিউবারের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত ইউটিউবার কিম সে-উই এর বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করার আবেদন করেছে দক্ষিণ কোরিয়ান পুলিশ।
ঘটনার সূত্রপাত গত বছর, যখন দক্ষিণ কোরিয়ার মাত্র ২৪ বছর বয়সী জনপ্রিয় তরুণী অভিনেত্রী কিম সে-রন মানসিক অবসাদের কারণে আত্মহত্যা করেন। তার মৃত্যুর পরপরই প্রায় ১০ লাখ সাবস্ক্রাইবার থাকা ওই ইউটিউবার তার চ্যানেলে একটি অডিও ফাইল এবং কিছু চ্যাটের স্ক্রিনশট ফাঁস করেন। সেখানে দাবি করা হয়, অভিনেত্রী যখন মাত্র ১৫ বছরের অপ্রাপ্তবয়স্ক স্কুলছাত্রী ছিলেন, তখন থেকেই তার চেয়ে বয়সে অনেক বড় সুপারস্টার কিম সু-হিউন তার সাথে প্রেমের মেলামেশা করছিলেন।
কোরীয় সমাজে তারকাদের নৈতিকতার বিষয়টি অত্যন্ত কঠোরভাবে দেখা হয়। ফলে এই ‘অপ্রাপ্তবয়স্কদের সাথে প্রেম’-এর স্ক্যান্ডাল বা কেলেঙ্কারি ছড়িয়ে পড়তেই রাতারাতি খলনায়কে পরিণত হন কিম সু-হিউন। একের পর এক বিজ্ঞাপন ও নাটক থেকে তাকে বাদ দেওয়া হয়। এমনকি তিনি যে ‘নক-অফ’ নামের একটি বড় ওয়েব সিরিজের শুটিং করছিলেন, সেটির মুক্তিও অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে যায়। চারপাশের তীব্র ঘৃণা ও বয়কটের মুখে পড়ে সম্পূর্ণ আড়ালে চলে যান এই অভিনেতা।
কোরিয়ান পুলিশে তদন্ত প্রতিবেদনে জানিয়েছেন, ‘ইউটিউবার নিজের আর্থিক লাভের জন্য জেনেশুনে এই ভুয়া তথ্য ছড়িয়েছিলেন। এর ফলে কিম সু-হিউনের সামাজিক ও অর্থনৈতিক জীবন পুরোপুরি ধসে গেছে। তিনি এতটাই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন যে বর্তমানেও তাকে সাইকিয়াট্রিস্ট বা মানসিক ডাক্তারের চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।’
দীর্ঘ তদন্তের পর পুলিশ জানিয়েছে, ইউটিউবারের পেশ করা সেই অডিও ক্লিপটি সম্পূর্ণ ভুয়া এবং এটি এআই বা ভয়েস ক্লোনিং প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছিল। এছাড়া মেসেজের স্ক্রিনশটগুলোও সফটওয়্যার দিয়ে বিকৃত করা হয়েছিল। মূলত ভিউ ও ইউটিউব থেকে টাকা কামানোর লোভেই এই নোংরা ছক সাজানো হয়েছিল।
২০২৫ সালের মার্চ মাসে এক অশ্রুসজল সংবাদ সম্মেলনে কিম সু-হিউন বলেছিলেন, ‘আমি কেবল তখনই তার সাথে এক বছর প্রেম করেছিলাম যখন সে প্রাপ্তবয়স্ক ছিল। যে অপরাধ আমি করিনি, তা আমি কীভাবে স্বীকার করব?’ এরপরই তিনি ওই ইউটিউবারের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
পুলিশের তদন্তে অভিনেতার নির্দোষ হওয়ার প্রমাণ মিললেও, যে ক্যারিয়ার ও মানসিক শান্তি তিনি হারিয়েছেন, তা আর কোনোদিন ফিরে আসবে কি না সেই প্রশ্নই তুলছেন তার ভক্তরা।








