গাড়িভাড়ার টাকা ছিল না পকেটে, সেই অভিজিৎই পরে হয়েছিলেন ‘ইন্ডিয়ান আইডল’

অভিজিৎ সাওয়ান্ত
‘ইন্ডিয়ান আইডল’-এর প্রথম সিজন জিতে রাতারাতি পুরো ভারতের জাতীয় ক্রাশ ও জনপ্রিয় গায়কে পরিণত হয়েছিলেন অভিজিৎ সাওয়ান্ত। তবে তার শুরুর গল্পটি কিন্তু মোটেও মসৃণ ছিল না। একসময় সামান্য ১০০ টাকার বিনিময়ে পাড়ার প্যান্ডেলে গান গাইতেন তিনি। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের কিশোর বয়সের এক হৃদয়বিদারক কিন্তু অবিশ্বাস্য অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করেছেন এ গায়ক।
ফিল্মিজ্ঞানকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অভিজিৎ জানান, তখন তার বয়স মাত্র ১৫ বছর। পরিবার থেকে সংগীতে আসার সাপোর্ট ছিল না, পকেটে সর্বদা টাকার টানাপড়েন। এমনই এক দিনে একটি ছোট শো’তে গান গাইতে যাওয়ার জন্য মায়ের কাছ থেকে ১০ টাকা নিয়ে বাসে উঠেছিলেন তিনি। বাসের টিকিট কাটতেই পকেটে অবশিষ্ট থাকে মাত্র ১ টাকা।
কিন্তু বিপত্তি ঘটে মাঝপথে। চেম্বুর এলাকায় হঠাৎ বাসটির ইঞ্জিন নষ্ট হয়ে গেলে সবাইকে নেমে যেতে হয়।
অভিজিৎ বলেছেন, ‘আমার পকেটে তখন মাত্র ১ টাকা। শো’র জায়গায় যাওয়ার গাড়িভাড়া নেই, আবার মায়ের কাছে ফিরে যাব তারও উপায় নেই। রাস্তায় একটা পিটিটি ফোন বুথ দেখে সেই ১ টাকার কয়েনটা দিয়ে আয়োজকদের ফোন করলাম এটা জানাতে যে আমি আসতে পারছি না। কিন্তু কথা শেষ হওয়ার আগেই কল কেটে গেল আর আমার শেষ ১ টাকাও শেষ হয়ে গেল’।
অপরিচিত জায়গায় পকেটে ১ টাকাও না থাকায় অসহায় হয়ে পড়েছিলেন ১৫ বছরের সেই কিশোর। ফোন বুথের দোকানে বসেই অঝোরে কাঁদতে শুরু করেন তিনি।
অভিজিৎ স্মরণ করে বলেন, ‘আমি নিজেকে আর নিজের ভাগ্যকে অভিশাপ দিচ্ছিলাম। হঠাৎ দোকানের লোকটা আমার কান্না দেখে এগিয়ে আসেন এবং কোথায় যাব জানতে চান। সব শুনে তিনি কোনো টাকা-পয়সা ছাড়াই আমাকে আধা ঘণ্টা গাড়ি চালিয়ে নিরাপদে আমার গ্রাম মাহুল গাঁওয়ে পৌঁছে দেন। সেদিন বুঝেছিলাম উপরওয়ালা বলে কেউ একজন আছেন যিনি আমাদের বিপদে রক্ষা করেন’।
এই কঠিন সংগ্রামের পর ২০০৪ সালে অনুষ্ঠিত হয় ‘ইন্ডিয়ান আইডল’-এর প্রথম সিজন। অমিত সানা ও রাহুল বৈদ্যকে পেছনে ফেলে ২০০৫ সালে বিজয়ী হন অভিজিৎ সাওয়ান্ত।
পুরস্কার হিসেবে পুরো ১ কোটি টাকার চেক পান তিনি। অভিজিৎ বলেন, ‘কর কাটার পর পাওয়া পুরো টাকাটাই ব্যাংকে জমা রেখেছিলাম। সৃষ্টিকর্তার অশেষ আশীর্বাদে এরপর থেকে আমার বা আমার পরিবারের আর কখনো টাকার সমস্যা দেখতে হয়নি’।
পরে হিন্দি সিনেমায় প্লেব্যাক, নিজের একাধিক পপ অ্যালবাম, ‘বিগ বস মারাঠি’-র ফাইনালিস্ট হিসেবে কাজ করে আজ নিজের শক্ত এক পরিচয় গড়ে তুলেছেন অভিজিৎ সাওয়ান্ত।




