জাংকুকের ট্যাটুতে লুকিয়ে জীবনগাথা

জাংকুক। ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বসংগীতের জগতে তিনি পপ-ফিনোমেনন, লক্ষ কোটি হৃদয়ের স্পন্দন। তবে গ্লোবাল সুপারস্টার পরিচয়ের বাইরেও বিটিএস সদস্য জাংকুক একজন গভীর অনুভূতির শিল্পী। গান দিয়ে তো বটেই, নিজের অনুভূতি ও জীবনের নানামুখী গল্প প্রকাশে তিনি ক্যানভাস হিসেবে বেছে নিয়েছেন নিজের শরীরকেই।
বিভিন্ন সময়ে আঁকা তার শরীরের বিচিত্র ট্যাটুগুলো কেবল কোনো ফ্যাশন স্টেটমেন্ট নয়, বরং প্রতিটি চিহ্নের পেছনে লুকিয়ে আছে গভীর অর্থ, আবেগ এবং তার জীবনের এক একটি অধ্যায়। আজ তার ২৯তম জন্মদিনে এক নজর দেখে নেওয়া যাক এই তারকা গায়কের কালজয়ী কিছু ট্যাটুর গল্প।
জাংকুকের শরীরে আঁকা প্রথম ট্যাটুটিই তার বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা ভক্তদের জন্য নিবেদিত। তার আঙুলের গিঁটে স্পষ্ট অক্ষরে লেখা ‘আর্মি’ এবং পাশে একটি বেগুনি রঙের হৃদয়। ‘এ’ অক্ষরের ওপর একটি ক্ষুদ্র মুকুট নির্দেশ করে তার জীবনে বিটিএস ভক্ত বা আর্মিদের রাজকীয় ও বিশেষ অবস্থানের কথা।
বৃদ্ধাঙুলের কাছে আঁকা ‘০৬১৩’ সংখ্যাটি জাংকুক ও তার ভক্তদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র। এটি ২০১৩ সালের ১৩ জুনের কথা মনে করিয়ে দেয়— যে দিনটিতে বিটিএস আনুষ্ঠানিকভাবে সংগীতজগতে পা রেখেছিল। পরবর্তীতে এক সাক্ষাৎকারে জাংকুক জানান, এই একটি দিন তার জীবনের পুরো গতিপথ বদলে দিয়েছিল।
জাংকুকের ডান বাহুতে রয়েছে তার জন্ম-ফুল টাইগার লিলি, যার সাথে লেখা রয়েছে ‘প্লিজ লাভ মি’। তিনি নিজেই এক সাক্ষাৎকারে ফুলটিকে অত্যন্ত সুন্দর কিন্তু বেদনাময় হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন।
পাশাপাশি গ্রাঞ্জ রক ব্যান্ড ‘নির্বানা’-র একটি বিখ্যাত গান থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি লিখে রেখেছেন, ‘রাদার বি ডেড দ্যান কুল’ (কৃত্রিম জনপ্রিয়তার চেয়ে মৃত হওয়া ভালো)। বিশ্ব পপ সংস্কৃতির স্রোতে ভেসে না গিয়ে নিজের আসল রূপ ও স্বপ্নের প্রতি অবিচল থাকার এক বড় বার্তা দেয় এই উক্তিটি।
নিজের জীবনের মানসিক পরিবর্তন ও উত্তরণ বোঝাতে জাংকুক তার একটি পুরোনো ট্যাটু ঢেকে সেখানে এঁকেছেন ‘সাপের’ ছবি, যা পুনর্জন্ম ও ব্যক্তিগত উন্নতির প্রতীক।
সবচেয়ে আবেগঘন ট্যাটুটি লুকিয়ে রয়েছে তার কানের ঠিক পেছনে, ‘৭’ সংখ্যাটি। বিটিএস-এর সাত সদস্যের অটুট পারিবারিক বন্ধনের প্রতীক হিসেবেই সাতজন সদস্যই এই বিশেষ ট্যাটুটি করিয়েছেন।
সোলো ক্যারিয়ারে বিশ্বজয় করলেও বিটিএস যে তার মূল পরিচয়, এই ছোট ট্যাটুটি যেন প্রতিনিয়ত সেই সত্যই মনে করিয়ে দেয়।














