অভিনয়ই আমার একমাত্র সম্পত্তি: স্পর্শিয়া

অভিনেত্রী অর্চিতা স্পর্শিয়া
এক যুগের বেশি সময় ধরে অভিনয়ের সঙ্গে পথচলা অর্চিতা স্পর্শিয়ার। বিজ্ঞাপন, টিভি নাটক, চলচ্চিত্র, ওটিটি— বিভিন্ন মাধ্যমে নানা চরিত্রে দর্শকের সামনে এসেছেন তিনি। সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া ‘লালপরী’ নাটকে ভৌতিক চরিত্রে দেখা গেছে তাকে। তার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন স্বর্ণা রায়
‘লালপরী’তে অভিনয়ের অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?
আসলে প্রত্যেকটা কাজেই কষ্ট আছে। অনেক সময় দিন-রাত জেগে আমরা কাজ করি। কিন্তু এই কষ্টের মধ্যেও একটা ভালো লাগা থাকে। আর ভালো লাগাটা আরও বেড়ে যায়, যখন রেজাল্ট ভালো হয়। সব মিলিয়ে বলতে পারি, ‘লালপরী’ আমার জন্য খুবই চমৎকার এক অভিজ্ঞতা ছিল।
চরিত্রটি দর্শকের কাছে কতটা পরিচিত, আর কতটা অচেনা?
দর্শক আমাকে আগেও হরর জনরার কাজে অভিনয় করতে দেখেছেন। তাই ওই জায়গা থেকে ‘লালপরী’র চরিত্রটিকে একেবারে নতুন বলব না। তবে তার গল্পটা ভিন্ন। এখানে এই মেয়ের একটি আলাদা জার্নি, একটি ব্যক্তিগত গল্প আছে এবং রিভেঞ্জের টুইস্ট আছে। এ কারণেই চরিত্রটিতে অভিনয় করতে আকৃষ্ট হয়েছিলাম। এরই মধ্যে দর্শকের কাছ থেকে খুব ভালো সাড়া পাচ্ছি।
এই নাটকে অভিনয় করতে গিয়ে সবচেয়ে বেশি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়েছে কোন ক্ষেত্রে?
অনেক সময় একটানা ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে প্রস্থেটিক মেকআপে থাকতে হয়েছে আমাকে। চোখে লেন্স ছিল; তাই ঠিকমতো দেখতে পেতাম না। সবকিছু ঝাপসা লাগত। পুরো চেহারা, শরীর, হাত-পায়ে প্রস্থেটিক মেকআপ করতে হয়েছিল। এই মেকআপ করার মতোই তুলে ফেলতেও প্রচুর সময় লাগে। আর সেটা নিয়ে সারা দিন থাকা বেশ কষ্টের এবং চ্যালেঞ্জিং ছিল।
বাস্তবতা, মতিভ্রম ও অতিপ্রাকৃত— চরিত্রটিতে তিন ধরনের আবহ একসঙ্গে থাকায় অভিনয়ের ক্ষেত্রে কী ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছিলেন?
যেকোনো কাজের পেছনেই একজন অভিনেতার যথেষ্ট প্রস্তুতি থাকে। আমার মানসিক প্রস্তুতি নেওয়ার দরকার হয় বেশি। কারণ আমি ব্যক্তিগতভাবে এক রকম মানুষ; কিন্তু যখন কোনো চরিত্রে অভিনয় করছি, তখন সেটিকে নিজের ভেতরে ধারণ করতে হয়। চরিত্রটির ওপর আস্থা রাখতে হয় আমাকে। তার সুখ-দুঃখ— সবকিছু আমাকে অনুভব করতে হয়।
হ্যাঁ, হয়েছি। কিন্তু সেই অভিজ্ঞতা প্রকাশ করব না। কেননা, এগুলো খুব ব্যক্তিগত ও সংবেদনশীল বিষয়। তবে বাস্তবে যেহেতু এ ধরনের একাধিক অভিজ্ঞতা হয়েছে আমার, তাই এসব বিষয় বিশ্বাস করি।
এখন আপনি কী নিয়ে ব্যস্ত?
‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’-এর লাস্ট লটের শুটিং চলছে। এখানে স্পর্শিয়াকেও দর্শক অনেক কাছ থেকে পেয়েছেন এবং ভালোবাসার সঙ্গে গ্রহণ করেছেন। এটি অবশ্যই আমার ক্যারিয়ারকে আরেক মাত্রায় নিয়ে গেছে। এই টিমের আমরা সবাই আসলে একটি পরিবার। আমাদের প্রায় দেড় বছরের একটি জার্নি শেষ হতে যাচ্ছে, তাই একটু মন খারাপ। তবে এ নিয়েই এখন ব্যস্ত আছি। আমাদের টানা শুটিং চলছে।
ভক্তদের নিয়ে আপনার মনে রাখার মতো কোনো অভিজ্ঞতা আছে?
১৬ বছরের ক্যারিয়ার আমার। এতদিনে ফ্যানডম আসলে আমার জীবনের একটি অংশ হয়ে গেছে। এখন ভক্তদের কোনো বিড়ম্বনাকে আর বিড়ম্বনা মনে হয় না; আবার কোনো মজার ঘটনাকেও আলাদাভাবে মজাদার লাগে না। আমি এসবে অভ্যস্ত হয়ে গেছি। তাই রাস্তায় বের হলে কেউ যদি ছবি তুলতে আসেন, তাকে আমার কাছে অচেনা কেউ মনে হয় না। মনে হয়, তিনি যেহেতু আমার ফ্যান, তার মানে তো আপন কেউই।
বিজ্ঞাপনের মডেল থেকে অভিনয়ে আসার সময় কি কখনো ভেবেছিলেন, এই যাত্রা একসময় দেড় দশকে পৌঁছাবে?
বিজ্ঞাপনে ক্যারিয়ার শুরু করলেও সে বছরই অভিনয় শুরু করি। আলাদা করে খুব বেশি দিন মডেলিং করিনি। তবে অভিনয়ের যাত্রাটা যে ১৬ বছর পার করবে বা এত লম্বা হবে, তা কখনো ভাবিনি। শুরুর দিকে অভিনয়কে ক্যারিয়ার হিসেবে দেখিনি। অনেক পরে এটিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছি।
অভিনেত্রী হিসেবে আপনার সবচেয়ে বড় ভয় কী?
অভিনয়ের সুযোগ না পাওয়া নিয়ে কোনো ভয় নেই আমার; বরং অভিনয় করতে না পারার, আমাকে দিয়ে অভিনয় না হওয়ার ভয়ই সবচেয়ে ভীত করে। অভিনয়ের প্রতিভাকে আমি কখনোই হারাতে চাই না। কারণ এটিই আমার একমাত্র সম্পত্তি।
দীর্ঘ পথচলায় আপনাকে এখনো প্রাসঙ্গিক রাখার মূল কারণ কী বলে মনে করেন?
আমার জাদুর কাঠি হচ্ছে কাজের প্রতি ভালোবাসা। এতটাই ভালোবাসি যে অনেক সময় কাজ ছেড়ে দিতে চাইলেও পারি না। আর এত ভালোবাসার সঙ্গে কাজ করি, ফলে মানুষও আমাকে ভালোবাসে। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মের মানুষ আমাকে ভালোবাসছে, এটা আমার জন্য অনেক বড় পাওয়া। আমি মনে করি, টিকে থাকার জন্য কাজের প্রতি সততা, ভালোবাসা এবং নিবেদিতপ্রাণ হওয়া খুব জরুরি।
চলচ্চিত্রে আপনাকে কম দেখা যাওয়ার কারণ কী?
চলচ্চিত্র আমার কাছে ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। যখনই কোনো চিত্রনাট্য ও চরিত্র আমার পছন্দ হয়েছে, সেই চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছি। এখনো নিয়মিত প্রস্তাব পাই; কিন্তু নিজের মন থেকে সায় পাচ্ছি না বলে সেগুলোয় অভিনয় করছি না। আবার যখন ব্যাটে-বলে মিলবে, কোনো মনমতো চিত্রনাট্য ও চরিত্র পাব, নিশ্চয় অভিনয় করব।





