হলিউড কি টম ক্রুজ, ব্র্যাড পিট ও ডিক্যাপ্রিওর মতো অভিনেতা আর পাবে না?

টম ক্রুজ, ব্র্যাড পিট ও লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও
আজকের যুগে সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি মানেই ফ্র্যাঞ্চাইজি, মাল্টিভার্স, সুপারহিরো আর ভিএফএক্স-এর চমক। যেখানে কোনো নির্দিষ্ট অভিনেতার চেয়ে ‘ব্যাটম্যান’ বা ‘স্পাইডারম্যান’-এর ব্র্যান্ড ভ্যালু অনেক বেশি। কিন্তু এই ভিড়েও এখনও পুরনো দিনের নিয়ম মেনে শুধুমাত্র নিজের নামেই শত শত কোটি টাকার ব্যবসা করে যাচ্ছেন তিনজন তারকা—টম ক্রুজ, ব্র্যাড পিট এবং লিওনার্ডো ডিক্যাপ্রিও।
প্রশ্ন উঠছে, তবে কি হলিউড তার তারকা তৈরির কালচার হারিয়ে ফেলেছে? তারা তিনজনই কি এই সুপারস্টার সংস্কৃতির শেষ উত্তরসূরি?
আজকে যেখানে সামাজিক মাধ্যম আর ওটিটির কল্যাণে তারকারা হাতের মুঠোয়, সেখানে এই তিন তারকা নিজেদের রেখেছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।
৬৪ বছর বয়সী টম ক্রুজ, ৬২ বছরের ব্র্যাড পিট কিংবা ৫১ বছর বয়সী লিওনার্ডো ডিক্যাপ্রিও—তাদের সিনেমার মূল ইউএসপি হলো তাদের ফেসভ্যালু।
কোনো সুপারহিরোর পোশাক না পরে, কেবল নিজেদের অভিনয় দক্ষতা, সাহসিকতা এবং সঠিক পরিচালক নির্বাচনের মাধ্যমেই তারা দর্শককে প্রেক্ষাগৃহে টেনে আনছেন।
ক্রুজ যেমন রিয়েল অ্যাকশন ও লার্জার-দান-লাইফ ইভেন্টের প্রতিশব্দ, ব্র্যাড পিট নিজের গ্ল্যামারের বাইরে গিয়ে দারুণ সব চিত্রনাট্য বাছাইয়ের রাজা, আর ডিক্যাপ্রিও তো অস্কারজয়ী পরিচালকদের (যেমন নোলান, স্করসেসি, তারান্তিনো) সঙ্গেই নিজের এক আলাদা ফ্র্যাঞ্চাইজি বানিয়ে ফেলেছেন।
একসময় হলিউডে জুলিও রবার্টস, স্যান্ড্রা বুলক বা নিকোল কিডম্যানদের নামেই ছবি হাউজফুল হতো। কিন্তু বর্তমান সময়ে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে কেবল অ্যান হ্যাথাওয়ে ছাড়া এমন তারকা-কেন্দ্রিক আধিপত্য খুব একটা চোখে পড়ে না।
এমা ওয়াটসন বা ডাকোটা জনসনদের মতো তারকারা বিপুল জনপ্রিয় হলেও কেবল নাম দিয়ে সিনেমা হিট করানোর ক্ষমতা হলিউড ব্যবস্থা তাদের হাতে তুলে দেয়নি।
বর্তমান স্টুডিওগুলো তারকাদের চেয়ে ‘ব্র্যান্ড’ বা ‘আইপি’ তৈরি করতে বেশি পছন্দ করে। কারণ কোনো ব্যাটম্যানের বয়স বাড়ে না, পারিশ্রমিক নিয়ে দরদাম করে না, কিংবা ডাইনোসরের কোনো শেয়ার দেওয়া লাগে না।
কিন্তু ক্রুজ, পিট ও ডিক্যাপ্রিও এই ছক ধরে ফেলেছিলেন। তারা কোনো সস্তা সোশ্যাল মিডিয়া স্টান্ট বা প্রতিদিনের রাজনৈতিক বিতর্কে নিজেদের জড়ান না। বছরে বা দুই বছরে একটা সিনেমা আনেন, আর তাতেই বাজিমাৎ করেন।
দিনশেষে একটি কথাই থেকে যায়—দর্শকরা কিন্তু আজও ভালো অভিনেতা বা ‘মুভি স্টার’ দেখতে চান। তবে হলিউডই হয়তো আর আগের মতো খাঁটি ‘তারকা’ তৈরি করার কারখানা চালু রাখেনি।





