আজ রাতে শিল্পকলায় ‘শুভঙ্কর হাত ধরতে চেয়েছিল’

‘শুভঙ্কর হাত ধরতে চেয়েছিল’ নাটকের দৃশ্য-তীরন্দাজ রেপার্টরি
জুলাই গণঅভ্যুত্থান, স্বৈরাচারবিরোধী লড়াই, বৈষম্যহীন সমাজের স্বপ্ন এবং হারিয়ে যাওয়া মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতার কথা নিয়ে মঞ্চে আসছে তীরন্দাজ রেপার্টরির সপ্তম প্রযোজনা ‘শুভঙ্কর হাত ধরতে চেয়েছিল’। ঢাকার শিল্পকলা একাডেমির এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার মিলনায়তনে আজ শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টায় এর প্রদর্শনী হবে।
নাটকটির গল্প লিখেছেন দীপক সুমন। নির্দেশনা তারই। নাট্যরূপ দিয়েছেন ঋজু লক্ষ্মী অবরোধ। এর কেন্দ্রীয় চরিত্র শুভঙ্কর ভোগবাদী সমাজের স্বপ্ন ও বাস্তবতার বিস্তর ফারাকের মধ্যে বেড়ে ওঠা এক নতজানু নাগরিক। তার জীবনের বড় অংশ জুড়ে রয়েছে সয়ে যাওয়ার ইতিহাস ও না-পাওয়ার দীর্ঘশ্বাস।
শুভঙ্কর এবং তার মা-বাবার মধ্যে এই বাস্তবতা হতাশা এনে দেয় এবং তাদের স্বপ্ন থেকে বিচ্ছিন্ন করে। তবু শুভঙ্কর স্বপ্ন দেখে বৈষম্যহীন সময়ের। সে উপলব্ধি করে, এমন সময় গড়ে তুলতে হলে লড়াই চাই। সময়ের প্রয়োজনে শুভঙ্কর একসময় হাজির হয় রাজপথে। অনেক না-পাওয়ার গ্লানি ও অসংখ্য আকাঙ্ক্ষা নিয়ে স্বৈরাচারের গুলির সামনে দাঁড়িয়ে অন্যদের মতো কণ্ঠে স্লোগান তোলে সে।
যুদ্ধের চিরাচরিত নিয়মের মতোই কেউ পুড়ে যায় বলেই কেউ আলো পায়। সেই নিয়মে ভিড়ের মধ্যে শুভঙ্কর হয়তো হারিয়ে যায়, কিংবা সমাজ তাকে হারিয়ে ফেলে। সময়ের পরিক্রমায় যারা তাকে হারায়নি, তারাও হয়তো শুভঙ্করদের ভুলে যায়। তবে কেউ কেউ স্মৃতি আঁকড়ে ধরে তাদের জীবন্ত রাখে। নাটকের আরেক চরিত্র ফাইরুয তেমনই এক স্মৃতি আগলে রাখে।
তীরন্দাজ রেপার্টরির ভাষ্য, ‘শুভঙ্কর হাত ধরতে চেয়েছিল’ নাটকের মধ্য দিয়ে শুধু স্মৃতিচারণ কিংবা বিজয় উদযাপন নয়, হারিয়ে যাওয়া প্রতিটি জীবনের প্রতি দায়বদ্ধতার কথাও মনে করিয়ে দিতে চায় নাট্যদলটি।
অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে দেশ-বিদেশে চলমান অস্থিরতা ও উদ্বেগের ছাপ এই নাট্যপ্রযোজনায় স্পষ্টভাবে প্রতিফলন হয়েছে বলে মনে করেন নির্দেশক দীপক সুমন। এতে অভিনয় করেছেন আবদুল্লাহ আল নোমান, মানসিফ তাজরিয়ান, মাহিমা সাদিক লিমা, সাদিয়া শাহীন অন্তু, কৌশিক আহমেদ, ফারজানা মেহেজাবীন, নিলয় কুমার বিশ্বাস, বাপ্পী হায়দার, সৈয়দ গোলাম নবী, সোনালী কবির, মো. সাজাওয়ার হোসেন অরণ্য, সামিয়া চৌধুরী, ফজলে নাভিদ অনন, আল ওয়ালীদ জিয়ান, সারাহ মীম ও সাগর মৈত্রী।




