শান্তশিষ্ট চরিত্র এখন বেশি করছি

টানা বৃষ্টিতে ঢাকার অদূরে নতুন একটি নাটকের শুটিং করছেন অভিনেত্রী জান্নাতুল সুমাইয়া হিমি। তার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মীর রাকিব হাসান
নতুন কী কাজ করছেন?
নাটকের শুটিং থেকেই কথা বলছি। এর নাম এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এটি পরিচালনা করছেন তৌফিকুল ইসলাম। এতে আমার সহশিল্পী মুশফিক আর. ফারহান। আজ (গতকাল) দ্বিতীয় দিনের শুটিং চলছে। পরশু পর্যন্ত চলবে।
টানা বৃষ্টিতে শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা কেমন?
পুরো লোকেশন কাদায় ভরে গেছে। যাতায়াত করতে সমস্যা হচ্ছে। যোগাযোগ থেকে শুরু করে প্রায় সব দিকেই ঝামেলা তৈরি হয় বৃষ্টিতে। তবে একটা ভালো দিকও আছে। যেহেতু পুবাইলে গ্রামীণ লোকেশনে কাজ করছি, তাই বৃষ্টির সুবাদে চারপাশের সবুজ বেশ সতেজ ও সুন্দর লাগে। প্রকৃতির সৌন্দর্য বৃষ্টির জলে অনেক বেশি ফুটে ওঠে। এ সৌন্দর্যকে নাটকে তুলে ধরার চেষ্টা করছি আমরা। কষ্ট হলেও সব মিলিয়ে মানিয়ে নিতে হচ্ছে।
নাটকে আপনার চরিত্রে দর্শক কি ভিন্ন কিছু দেখতে পাবেন?
অবশ্যই। এখানে খুবই কোমল ও শান্ত-স্বভাবের একটি মেয়ের চরিত্রে অভিনয় করছি। দর্শক আমাকে সাধারণত একটু রাগী, চঞ্চল বা তেজি চরিত্রে বেশি দেখেছেন। কিন্তু এবার সম্পূর্ণ বিপরীত ধরনের একটি চরিত্রে কাজ করছি। গল্পে দেখা যাবে, মেয়েটির পছন্দের মানুষ রেগে গেলেও মেয়েটিকে দেখলেই শান্ত হয়ে যায়। প্রেমিকেরা যেমন প্রিয় মানুষকে দেখলে বদলে যায়, তেমন একটি ব্যাপার। মূল গল্পটি প্রেম, প্রেমের পর বিয়ে এবং সেই সম্পর্কের পরবর্তী বাস্তবতাকে ঘিরে।
নারীপ্রধান গল্পেও এখন আপনাকে দেখা যাচ্ছে। এটা কি সচেতন সিদ্ধান্ত?
কয়েকটি নারীপ্রধান গল্পের কাজ করেছি সম্প্রতি। যেমন ‘কাজের মেয়ে অরিন’। এর আগে ‘রুপার সংসার’ নাটকে দেখা গেছে আমাকে। সেখানে পুরো গল্পই ছিল রুপা নামের একটি মেয়েকে কেন্দ্র করে। নিলয় আলমগীর ভাই একটি অতিথি চরিত্রে কাজ করেছিলেন। আমার ক্যারিয়ারের শুরুতে এ ধরনের গল্প খুব একটা আসেনি। আর এলেও হয়তো তখন এত ভালোভাবে ফুটিয়ে তুলতে পারতাম না। যেহেতু অনেক বছর ধরে অভিনয় করছি, তাই এখন চরিত্রগুলো গভীরভাবে বুঝতে পারি।
নিলয় আলমগীরের সঙ্গে কমেডি জুটিতে আপনাকে বেশি দেখা গেছে। সেই ইমেজ কি ভাঙার চেষ্টা করছেন?
হ্যাঁ, আমরাও সেটি অনুভব করছি। আমাদের কাজগুলোর একটু ভিন্ন আদল দেওয়া দরকার। গত ঈদের কাজগুলোতে আমরা সেই চেষ্টা করেছি। সামনে যেসব কাজ আসবে, সেগুলোতেও চেষ্টা থাকবে যেন দর্শক আমাদের একইভাবে না দেখে। অবশ্য আমাদের সীমাবদ্ধতাও আছে। একই শিল্পী নিয়ে বারবার কাজ করলে কিছুটা পরিচিত অনুভূতি আসবেই। তারপরও গল্প, ফ্রেমিং, সংলাপ বলার ধরন— এসব জায়গায় পরিবর্তন আনার চেষ্টা করছি, যাতে নতুনত্ব আসে।
সিনেমা বা ওয়েব ফিল্মে কাজ করার কোনো পরিকল্পনা আছে?
সত্যি বলতে, এই মুহূর্তে সিনেমা বা ওয়েব ফিল্মে কাজ করার কোনো আগ্রহ নেই আমার। ভবিষ্যতে প্রাধান্য বদলাতেও পারে, তখন হয়তো ভাবব। কিন্তু এখন নয়। অনেকে বলেন, অফার এসেছে কি না। এটি আসলে শুধু অফারের নয়। সিনেমায় মনোযোগ দিতে গেলে নাটক কমিয়ে দিতে হবে। সেটি এখন করতে চাই না। নাটকের দর্শক আমাকে যেভাবে ভালোবাসেন, সেটি উপভোগ করি। দেশ-বিদেশে, বিশেষ করে প্রবাসী বাংলাদেশিরাও নিয়মিত নাটক দেখেন। অল্প সময়ের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ গল্প উপভোগ করা যায়। তাই আপাতত নাটক ছেড়ে সিনেমা বা অন্য প্ল্যাটফর্মে যাওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই।




