৫০ বছর পর নিজের বিখ্যাত ছবি নিষিদ্ধ করলেন অস্কারজয়ী পরিচালক

পরিচালক ভিম ভেন্ডার্স
চলচ্চিত্রের স্বার্থে ক্যামেরার সামনে তারকাদের খোলামেলা হওয়া বা নগ্ন দৃশ্যে অভিনয় করা হলিউড বা ইউরোপীয় সিনেমায় নতুন কিছু নয়। তবে সেই দৃশ্য যদি কোনো ১৩ বছরের নাবালিকার সম্মতি ছাড়া বা তাকে ভুল বুঝিয়ে করানো হয়, তবে তা অপরাধের শামিল।
দীর্ঘ ৫০ বছর পর নিজের তেমনই এক ভুলের জন্য প্রকাশ্য আদালতে ও সোশ্যাল মিডিয়ায় নিঃশর্ত ক্ষমা চাইলেন অস্কার মনোনীত প্রখ্যাত জার্মান পরিচালক ভিম ভেন্ডার্স। শুধু তাই নয়, ছবির প্রধান অভিনেত্রী নাস্তাসজা কিনস্কি-র তীব্র আপত্তির মুখে নিজের ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা ও পুরস্কৃত ছবি ‘রং মুভ’-কে বিশ্বজুড়ে নিষিদ্ধ ও প্রত্যাহার করার ঘোষণা দিলেন এই পরিচালক।
১৯৭৫ সালে যখন ‘রং মুভ’ সিনেমাটির শুটিং হয়, তখন অভিনেত্রী নাস্তাসজার বয়স ছিল মাত্র ১৩ বছর। নিজের জীবনের প্রথম ছবিতে পরিচালকের কথামতো ক্যামেরার সামনে অনাবৃত বক্ষে অভিনয় করতে বাধ্য হয়েছিলেন তিনি। শুধু তাই নয়, ছবিতে তার চেয়ে বয়সে প্রায় বিশ বছরের বড় এক অভিনেতার সাথে তার একটি অন্তরঙ্গ ও আপত্তিকর দৃশ্যও রাখা হয়েছিল। ছবিটি সে সময় তুমুল ব্যবসা করে এবং পরিচালক হিসেবে ভেন্ডার্স ‘জার্মান ফিল্ম অ্যাওয়ার্ডস’-এ সেরা পরিচালকের পুরস্কারও পান।
দীর্ঘ পাঁচ দশক ধরে এই দৃশ্যটি সিনেমা থেকে বাদ দেওয়ার জন্য পরিচালকের কাছে অনুনয়-বিনয় করে আসছিলেন নাস্তাসজা। সম্প্রতি একটি জার্মান পত্রিকাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিজের ক্ষোভ উগরে দিয়ে এই অভিনেত্রী বলেছেন—‘ওটা আমার প্রথম ছবি ছিল। পরিচালক হিসেবে ভেন্ডার্সের দায়িত্ব ছিল সেটে আমাকে রক্ষা করা, কিন্তু তিনি আমাকে কোনো নিরাপত্তা দেননি। ওই নগ্নতার দৃশ্যগুলো আমাকে মানসিকভাবে এক্কেবারে টুকরো টুকরো করে ধ্বংস করে দিয়েছিল।’
অভিনেত্রীর এই বিস্ফোরক মন্তব্যের পর বিশ্বজুড়ে তীব্র নিন্দার মুখে পড়েন ৮০ বছর বয়সী এই প্রবীণ পরিচালক। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে গত বুধবার নিজের ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেলে নাস্তাসজার কাছে হাত জোড় করে ক্ষমা চান তিনি। ভেন্ডার্স লেখেন—‘একজন নাবালিকা হিসেবে সে সময় নাস্তাসজাকে আগলে রাখা আমার উচিত ছিল, যা আমি করতে পারিনি। এর জন্য আমি কোনো অজুহাত ছাড়াই নাস্তাসজার কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাচ্ছি।
একই সাথে তিনি ঘোষণা করেন— নেটফ্লিক্স, আমাজন প্রাইমসহ পৃথিবীর সমস্ত ওটিটি প্ল্যাটফর্ম, টেলিভিশন চ্যানেল এবং সিনেমা হল থেকে ‘রং মুভ’ ছবিটির প্রদর্শন ও ডিস্ট্রিবিউশন আজ থেকেই স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হলো। নাস্তাসজা এবং চলচ্চিত্র বিশেষজ্ঞদের সাথে আলোচনা করে ওই আপত্তিকর দৃশ্যটি স্থায়ীভাবে কেটে বাদ দেওয়ার পরেই কেবল ছবিটি পুনরায় মুক্তির কথা ভাবা হবে।
পরিচালকের এই সিদ্ধান্তকে নাস্তাসজার আইনজীবী স্বাগত জানালেও, তিনি হতাশা প্রকাশ করে বলেছেন, এই শুভবুদ্ধি উদয় হতে পরিচালকের দীর্ঘ ৫০ বছর সময় লাগল, আর তাও এল কেবল সমাজ ও মিডিয়ার তীব্র চাপের মুখে পড়ে।
এই ঘটনাটি বর্তমানে বিশ্বজুড়ে মিটু আন্দোলন এবং চলচ্চিত্রে শিশু ও নাবালিকাদের সুরক্ষার বিষয়টি নিয়ে নতুন করে এক বড় বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।









