২৫ বছর পরও লোপেজের সেই পোশাক আলোচনায়

জেনিফার লোপেজ ও মিকা আবদাল্লা
মনে আছে ২০০০ সালের গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডসের মঞ্চে জেনিফার লোপেজের পরা সেই সবুজ রঙের গাঢ় গলাকাটা ‘ভার্সেস ড্রেস’-এর কথা? হলিউড ফ্যাশন ইতিহাসের অন্যতম কাঁপানো সেই ড্রেসটি দেখতে ইন্টারনেট দুনিয়ায় মানুষ এতটাই হুমড়ি খেয়ে পড়েছিল যে, মানুষের সেই উন্মাদনা দেখেই খোদ গুগল কর্তৃপক্ষ তৈরি করতে বাধ্য হয়েছিল ‘গুগল ইমেজ সার্চ’। এবার দীর্ঘ ২৫ বছর পর আবারও জে-লো-র সেই আইকনিক সবুজ ড্রেস এবং তার ১৫ বছর পুরনো একটি গান সোশ্যাল মিডিয়ায় এমন ঝড় তুলল যে, স্পটিফাইয়ে ইতিহাস গড়ে বসলেন এই মার্কিন পপ সম্রাজ্ঞী!
আমাজন প্রাইম ভিডিওতে সদ্য মুক্তি পেয়েছে তরুণ প্রজন্মের মন কেড়ে নেওয়া কলেজ-ভিত্তিক হকি রোমান্স সিরিজ ‘অফ ক্যাম্পাস’। এই সিরিজের একটি হ্যালোইন পার্টিতে প্রধান চরিত্র ‘অ্যালি হেইস’ জেনিফার লোপেজের সেই আইকনিক সবুজ ড্রেসটির হুবহু নকল বা কসপ্লে করে হাজির হয়। পার্টিতে জে-লো-র ২০১১ সালের ব্লকবাস্টার হিট গান ‘অন দ্য ফ্লোর’-এর তালে অ্যালির নাচ দেখে ক্লিন বোল্ড হয়ে যায় হকি হিরো ডিন। এই দুই তারকার অন-স্ক্রিন কেমিস্ট্রি আর ব্যাকগ্রাউন্ডে পিটবুল ও জে-লো-র সেই চেনা গান— ব্যস, টিকটক থেকে শুরু করে এক্স পাড়ায় রাতারাতি ভাইরাল হয়ে যায় এই রোমান্টিক দৃশ্যটি।
পুরনো গানটি নতুন করে ভাইরাল হতেই বিশ্বজুড়ে শ্রোতারা গানটি লুপে শোনা শুরু করেছেন। ফলাফল? মুক্তির ১৫ বছর পর এই প্রথম ১.১৯ মিলিয়ন স্ট্রিমিং নিয়ে স্পটিফাইয়ের গ্লোবাল চার্টে এন্ট্রি মেরেছে ‘অন দ্য ফ্লোর’। শুধু তাই নয়, গানটি ইতিমধ্যেই স্পটিফাইয়ে ১ বিলিয়নেরও বেশি স্ট্রিমিংয়ের এক অভাবনীয় মাইলফলক পার করে ফেলেছে।
সিরিজের এই দৃশ্যটি নজর এড়ায়নি খোদ পপ কুইন জেনিফার লোপেজেরও। তিনি নিজে এক্স-এ এই নাচের সিনটি শেয়ার করে লিখেছেন— ‘আই লাভ দিস শো!’ শুধু তাই নয়, ২০২৬ সালের হ্যালোইনের সেরা কাপল কস্টিউম হিসেবে এই লুকটিকে স্বীকৃতি দিয়ে সিরিজের প্রধান অভিনেতা-অভিনেত্রীদের নিজের ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইল থেকে ফলোও করেছেন জে-লো। আচমকা খোদ জেনিফার লোপেজের কাছ থেকে এমন সারপ্রাইজ পেয়ে ঘোরের মধ্যে আছেন অভিনেত্রী মিকা আবদাল্লা। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন— ‘গাড়িতে করে ফেরার সময় রেডিওতে এই গানটা বাজছিল আর তখনই দেখলাম জে-লো আমাদের ফলো করেছেন। আমার এখনো বিশ্বাসই হচ্ছে না!’
ছবির কস্টিউম ডিজাইনার শার্লিন আকুয়ামোয়াহ জানান, জেনিফারের আসল ড্রেসের মতো কাপড় দুনিয়ার কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। অনেক কষ্টে মিললেও তার সবুজ রঙে গলদ ছিল। পরে পুরো কাপড়ের রোলটিতে বিশেষ স্প্রে করে সবুজের সেই নিখুঁত শেড আনা হয়। শুটিংয়ের দিন অভিনেত্রী মিকা যাতে ওই সাহসী পোশাকে স্বাচ্ছন্দ্যে নাচতে পারেন, সেজন্য বডি-টেপ দিয়ে নিখুঁতভাবে ড্রেসটি তাঁর শরীরে সেট করা হয়েছিল।
ডিজাইনারের সেই খাটুনি আর জে-লো-র নস্টালজিয়া ওটিটির দুনিয়ায় এক নতুন ইতিহাস তৈরি করল!








