‘দ্য রিং’ এবং ‘লিলো অ্যান্ড স্টিচ’ সিনেমার অভিনেত্রী ডেভি চেজ মারা গেছেন

হলিউড অভিনেত্রী ডেভি চেজ। ছবি : সংগৃহীত
হলিউডের জনপ্রিয় হরর অভিনেত্রী ডেভি চেজ মাত্র ৩৫ বছর বয়সে মারা গেছেন।
বুধবার লস অ্যাঞ্জেলেসের একটি হাসপাতালে তিনি মারা যান বলে নিশ্চিত করেছেন তার দীর্ঘদিনের ম্যানেজার জন রায়ান জুনিয়র। তিনি জানালেন, মেনিনজাইটিসে আক্রান্ত হওয়ার পর সেপসিসে ভুগছিলেন এই অভিনেত্রী।
রায়ান বলেছেন, মৃত্যুর আগে চেজকে অপুষ্টির কারণে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।
চার বছর বয়সে লাস ভেগাসে ভয়েসওভার ও থিয়েটারের অভিনয় শুরু করেন চেজ। সাত বছর বয়সে হলিউডের প্রথম কাজ পান এবং ২০১৫ সালে তিনি পূর্ণকালীন অভিনয় থেকে অবসর নেন।
জনপ্রিয় আমেরিকান সিটকম সাবরিনা দ্য টিনেজ উইচ-এ একটি ছোট চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে তার ক্যারিয়ার শুরু হয়, যেখানে প্রধান চরিত্রে ছিলেন মেলিসা জোয়ান হার্ট।
২০০১ সালে ‘ডনি ডার্কো’ ছবিতে সামান্থা ডার্কো চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি হলিউডে সাফল্য পান এবং পরবর্তীতে ২০০৯ সালের ‘এস ডার্কো’ ছবিতে মূল ভূমিকায় থাকা নায়িকার বোনের চরিত্রে অভিনয় করেন।
২০০২ সালে ‘দ্য রিং’ নামক হরর ফিল্মে সামারা মরগান চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে চেজ চলচ্চিত্রে অমরত্ব লাভ করেন। এই ছবিতে তিনি ছিলেন লম্বা চুলের এক ভূতের ভূমিকায়, যে টিভি থেকে হামাগুড়ি দিয়ে বেরিয়ে আসে। এটি ছিল একটি জাপানি ক্লাসিকের আমেরিকান রিমেক, যার গল্প ছিল এমন একটি ভিডিওটেপ নিয়ে যা দেখলে মানুষের মৃত্যু হয়।
একই বছর তিনি অ্যানিমেটেড হিট ‘লিলো অ্যান্ড স্টিচ’-এ এলভিস-ভক্ত হাওয়াইয়ান মেয়ে লিলো চরিত্রে কণ্ঠ দেন। এই ভূমিকার জন্য তিনি একটি অ্যানিমেটেড ফিচার প্রোডাকশনে সেরা ভয়েস অ্যাক্টিংয়ের জন্য অ্যানি অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেন এবং পরবর্তী স্পিন-অফগুলোতেও চরিত্রটিতে কণ্ঠ দেওয়া অব্যাহত রাখেন।
ভুতুড়ে ও দানবীয় এক চরিত্রে অভিনয়ের জন্য তিনি ২০০৩ সালে সেরা খলনায়িকা হিসেবে এমটিভি মুভি অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেন।
তিনি ‘চার্মড’, ‘ইআর’ এবং ‘টাচড বাই অ্যান অ্যাঞ্জেল’-এর মতো টিভি ড্রামায় অভিনয়ন করেছেন। এ ছাড়া চেজ এইচবিও-র বহুবিবাহবিষয়ক ড্রামা ‘বিগ লাভ’-এ ৩২টি পর্বে বাল্যবধূ রোন্ডা ভলমারের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন।
হলিউড সাংবাদিকদের তথ্যানুযায়ী, পরবর্তী জীবনে চেজকে একাধিক আইনি ঝামেলায় পড়তে হয়েছিল, যার মধ্যে মাদক রাখা এবং চুরি করা গাড়িতে আনন্দভ্রমণের অভিযোগও ছিল।
সূত্র: বিবিসি




