নতুন টম ক্রুজের সঙ্গে নতুন রেসিডেন্ট ইভিল

হলিউডে একই দিনে আসছে দুই ভিন্ন ঘরানার দুই আলোচিত সিনেমা। একদিকে দুইবারের অস্কারজয়ী নির্মাতা আলেহান্দ্রো জি. ইনারিতুর নতুন সিনেমা ‘ডিগার’, অন্যদিকে জনপ্রিয় সারভাইভাল হরর ফ্র্যাঞ্চাইজি ‘রেসিডেন্ট ইভিল’-এর নতুন কিস্তি। ২ অক্টোবর আন্তর্জাতিক মুক্তির দিনেই বাংলাদেশের দর্শকদের জন্য স্টার সিনেপ্লেক্সে মুক্তি পাবে সিনেমা দুটি।
ডিগার
টম ক্রুজকে এতটা ভিন্ন রূপে আগে কখনো দেখেছেন কি না, সেটি নিয়ে দর্শকদের মধ্যে ইতোমধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। ধূসর-সাদা চুল, বড় ভুঁড়ি, বলিরেখায় ভরা মুখ আর সম্পূর্ণ বদলে যাওয়া শরীরী ভাষায় ‘ডিগার’ সিনেমায় হাজির হয়েছেন হলিউডের এই তারকা।
‘মিশন: ইম্পসিবল’ কিংবা ‘টপ গান’-এর সুদর্শন ও দুর্ধর্ষ নায়ক হিসেবে টম ক্রুজকে দেখতে অভ্যস্ত দর্শকদের জন্য চরিত্রটি তাই বেশ চমকপ্রদ। তবে শুধু চেহারার পরিবর্তন নয়, অভিনয়ের ধরনেও নতুন কিছু দেখানোর চেষ্টা করেছেন তিনি।
‘ডিগার’ পরিচালনা করেছেন ‘বার্ডম্যান’ ও ‘দ্য রেভেন্যান্ট’খ্যাত আলেহান্দ্রো জি. ইনারিতু। এটি মূলত ব্ল্যাক কমেডির আবহে নির্মিত একটি ব্যঙ্গাত্মক সিনেমা। গল্পে জলবায়ু সংকট, করপোরেট লোভ, রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার এবং মানবসভ্যতার ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠে এসেছে।
সিনেমায় টম ক্রুজ অভিনয় করেছেন ডিগার রকওয়েল নামের এক ক্ষমতাধর ধনকুবেরের চরিত্রে। তার প্রতিষ্ঠানের একটি প্রকল্পের কারণে গ্রিনল্যান্ডের হিমবাহে পরিবর্তন শুরু হয়। ছোট একটি পরিবেশগত সংকট ধীরে ধীরে রূপ নেয় বৈশ্বিক বিপর্যয়ে। বিজ্ঞানীদের সতর্কবার্তার পরও ডিগার শুরুতে বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে চান না। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে নিজের ভাবমূর্তি ও প্রভাব ধরে রাখার লড়াইয়ে নামতে হয় তাকে।
চরিত্রটি ফুটিয়ে তুলতে টম ক্রুজ মেকআপ, পোশাক, দাঁতের গঠন, হাঁটার ধরন ও কণ্ঠস্বরের মতো বিষয়েও কাজ করেছেন। ফলে পর্দায় দর্শক যে টম ক্রুজকে দেখতে পাবেন, তার সঙ্গে অভিনেতার পরিচিত তারকাসুলভ অবয়বের বড় পার্থক্য রয়েছে।
ট্রেলার প্রকাশের পর থেকেই সিনেমাটি নিয়ে দর্শকদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। ইনারিতুর পরিচালনা এবং টম ক্রুজের ব্যতিক্রমী চরিত্র, দুই মিলিয়ে ‘ডিগার’ নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে আন্তর্জাতিক দর্শকদের মধ্যে।
নতুন রেসিডেন্ট ইভিল
হররপ্রেমীদের জন্য একই দিনে থাকছে আরেকটি আকর্ষণ। জাপানি গেম নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ক্যাপকমের জনপ্রিয় ভিডিও গেম সিরিজ অবলম্বনে তৈরি ‘রেসিডেন্ট ইভিল’ ফ্র্যাঞ্চাইজি আবারও বড় পর্দায় ফিরছে।
২০০২ সালে পল ডব্লিউ. এস. অ্যান্ডারসনের পরিচালনায় মিলা জোভোভিচ অভিনীত ‘রেসিডেন্ট ইভিল’ দিয়ে হলিউডে যাত্রা শুরু করে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। পরবর্তী সময়ে এটি সাতটি সিনেমার একটি সিরিজে পরিণত হয়। ২০২১ সালে ‘রেসিডেন্ট ইভিল: ওয়েলকাম টু রাকুন সিটি’ দিয়ে নতুনভাবে শুরু করার চেষ্টা করা হয়। এবার আসছে সিরিজটির আরেকটি রিবুট।
জ্যাক ক্রেগার পরিচালিত নতুন ‘রেসিডেন্ট ইভিল’-এ অভিনয় করেছেন অস্টিন আব্রামস, জ্যাক চেরি, কালি রেইস, পল ওয়াল্টার হাউসারসহ অনেকে। সিনেমাটি আগের চলচ্চিত্রগুলোর সরাসরি সিক্যুয়েল নয়। বরং ভিডিও গেমের মূল সারভাইভাল হরর আবহকে সামনে রেখে নতুন গল্প তৈরি করা হয়েছে।
সিনেমাটির গল্পের সময়কাল ‘রেসিডেন্ট ইভিল ২’-এর ঘটনার কাছাকাছি। তবে এটি গেমটির সরাসরি চলচ্চিত্রায়ণ নয়। বরং রাকুন সিটিতে ঘটে যাওয়া সেই ভয়াবহ বিপর্যয়ের অন্য একটি প্রান্তের গল্প দেখানো হবে। গেমের পরিচিত চরিত্ররা যখন নিজেদের লড়াইয়ে ব্যস্ত, তখন শহরের অন্য অংশে ব্রায়ান কীভাবে বেঁচে থাকার চেষ্টা করছে, সেটিই হয়ে উঠেছে সিনেমার মূল বিষয়।
পরিচালক জ্যাক ক্রেগার হরর ঘরানায় পরিচিতি পান ২০২২ সালের ‘বারবারিয়ান’ দিয়ে। এবার ‘রেসিডেন্ট ইভিল’-এর মাধ্যমে তিনি জনপ্রিয় ভিডিও গেমের আবহকে বড় পর্দায় নতুনভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন।
একদিকে টম ক্রুজের সম্পূর্ণ নতুন অবতার, অন্যদিকে গেমভিত্তিক সারভাইভাল হররের পরিচিত জগৎ। ফলে ২ অক্টোবর স্টার সিনেপ্লেক্সে মুক্তি পেতে যাওয়া এই দুই সিনেমা হলিউডপ্রেমী দর্শকদের জন্য একই দিনে দুই ধরনের অভিজ্ঞতা নিয়ে আসছে।




