নতুন জেমস বন্ডকে ঘিরে ৭ প্রশ্ন

ক্যালাম টার্নার, জ্যাকব এলর্ডি, জ্যাক লোডেন— পরবর্তী জেমস বন্ডের দৌড়ে সম্ভাব্য তিন নাম
সিনেমার ইতিহাসে ‘জেমস বন্ড’ শুধু একটি কাল্পনিক চরিত্র নয়, এটি বৈশ্বিক পপ-কালচার ও এক রাজকীয় ঐতিহ্যের প্রতীক। শন কনারি থেকে শুরু করে ড্যানিয়েল ক্রেইগ; দীর্ঘ ছয় দশকে রূপালি পর্দায় এমআই৬-এর এই আইকনিক ব্রিটিশ স্পাই হিসেবে অভিনয় করেছেন মাত্র ছয়জন তারকা।
বিষয়টি কতটা বিরল জানেন? গত ১০ বছরে ব্রিটেনে যতজন প্রধানমন্ত্রী বদলেছেন, কিংবা এ পর্যন্ত যত মানুষ চাঁদের মাটিতে পা রেখেছেন— তাদের চেয়েও কমসংখ্যক মানুষ বন্ড চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পেয়েছেন!
২০০৫ সালে ড্যানিয়েল ক্রেইগকে ‘০০৭’ হিসেবে ঘোষণার পর কেটে গেছে দুই দশকেরও বেশি সময়। এখন বিশ্ব জুড়ে সিনেমাপ্রেমীদের মনে একটিই বড় প্রশ্ন— কে হতে যাচ্ছেন পরবর্তী জেমস বন্ড?
অ্যামাজন এমজিএম স্টুডিওস ৮ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে এই ফ্র্যাঞ্চাইজির স্বত্ব কেনার পর থেকে বন্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। কাস্টিং ও সিনেমা মুক্তির সময়সীমা নিয়ে ভক্তদের বহুল কাঙ্ক্ষিত কিছু প্রশ্নের উত্তর উঠে এসেছে বিবিসির এক প্রতিবেদনে।
১. বন্ডের চেয়ারে বসছেন কে?
গত ছয় বছর ধরে হলিউডের আনাচে-কানাচে একটাই আলোচনা— নতুন বন্ড কে? হেনরি ক্যাভিল, হ্যারিস ডিকিনসন, জেমস নর্টন, অ্যারন টেলর-জনসন কিংবা জ্যাকব এলর্ডির মতো তারকাদের নাম দীর্ঘদিন ধরেই ঘুরছে। তবে সম্প্রতি মঞ্চ অভিনেতা টম ফ্রান্সিস, ‘গ্ল্যাডিয়েটর ২’ তারকা পল মেসকাল এবং জ্যাক বার্টনের নামও অডিশন তালিকায় যুক্ত হয়েছে। তবে প্রযোজকরা স্পষ্ট করে দিয়েছেন, রূপালি পর্দায় বন্ড পুরুষ চরিত্রেই থাকছেন, কোনো নারী চরিত্রে এটি রূপান্তরিত হচ্ছে না।
২. অডিশন কি তবে শেষ পর্যায়ে?
বন্ডের স্বত্বাধিকারী অ্যামাজন এমজিএম স্টুডিওস নিশ্চিত করেছে কাস্টিং কাজ চলছে। তবে সূত্রের খবর, অডিশন একদম শেষ পর্যায়ে! প্রথমে সাতজন, তারপর সেখান থেকে তিনজন চূড়ান্ত করে হয়তো আসল মানুষটিকে খুঁজেও পাওয়া গেছে। প্রযোজকদের ইঙ্গিত, এ বছরের শেষের দিকেই হয়তো নতুন বন্ডের নাম জানতে পারবেন ভক্তরা।
৩. কেমন হয় এই কঠিন অডিশন?
বন্ড অডিশনে কোনো মারামারি বা গাড়ির ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার অভিনয় করতে হয় না। ঐতিহ্যগতভাবে ‘ফ্রম রাশিয়া উইথ লাভ’ সিনেমার একটি বিশেষ দৃশ্য অভিনয় করে দেখাতে হয়, যেখানে বন্ড তার বাথরুম থেকে বের হয়ে দেখে তাতিয়ানা রোমানোভা নামের এক নারী তার বিছানায় শুয়ে আছে। কোনো গ্যাজেট ছাড়া, স্রেফ নিজস্ব ব্যক্তিত্ব, হাঁটাচলা আর আকর্ষণীয় ভঙ্গিমায় যিনি বাজিমাত করতে পারেন, তিনিই হন বন্ড!
৪. কীভাবে আসবে নতুন বন্ডের ঘোষণা?
আগে সবসময় লন্ডনে জাঁকজমকপূর্ণ সংবাদ সম্মেলন করে নতুন বন্ডকে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হতো। তবে এবার প্রেক্ষাপট ভিন্ন। ৮ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারে বন্ডের স্বত্ব কেনা অ্যামাজন এমজিএম হয়তো চমক দেবে। ধারণা করা হচ্ছে, তাদের ওটিটি প্ল্যাটফর্ম ‘প্রাইম ভিডিও’-তে সরাসরি লাইভ বা এক্সক্লুসিভ ঘোষণার মাধ্যমে নতুন বন্ডের মুখ উন্মোচন করা হতে পারে। ৫ অক্টোবর ‘গ্লোবাল জেমস বন্ড ডে’-তে এই ধামাকা আসতে পারে বলে ভক্তরা দিন গুনছেন।
৫. নতুন সিনেমা সম্পর্কে কী জানা গেল?
ছবির নাম কিংবা মুক্তির তারিখ এখনো পাকাপোক্ত হয়নি। বিখ্যাত সিরিজ ‘পিকি ব্লাইন্ডার্স’-এর স্রষ্টা স্টিভেন নাইট লিখছেন এর চিত্রনাট্য, আর পরিচালনা করছেন ‘ডিউন’ খ্যাত ডেনিস ভিলনেভ। ইয়ান ফ্লেমিংয়ের মূল ৪টি অপ্রকাশিত গল্প থেকে নাম বেছে নেওয়া হতে পারে। তবে জানা গেছে, ছবিটি দেখতে ভক্তদের ২০২৮ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে। যা বন্ডের ইতিহাসে দুটি সিনেমার মধ্যে সবচেয়ে দীর্ঘ সময়ের বিরতি!
৬. ভবিষ্যৎ নিয়ে অ্যামাজনের প্ল্যান কী?
মার্ভেল বা স্টার ওয়ার্সের মতো অ্যামাজনও বন্ডকে নিয়ে আগামী ১০ বছরের মেগা প্ল্যান করছে। প্রতি ২-৩ বছর পর পর সিনেমা আনা হবে কি না, কিংবা তরুণ বন্ড বা মানিপেনির চরিত্র নিয়ে আলাদা সিরিজ বানানো হবে কি না—তা নিয়ে ভেবেচিন্তে এগোচ্ছে তারা।
৭. আগের সিনেমার মর্মান্তিক শেষের পর কী হবে?
‘নো টাইম টু ডাই’ সিনেমার শেষে আমরা দেখেছি বোমার আঘাতে ড্যানিয়েল ক্রেইগের বন্ড মারা যান। তাহলে নতুন গল্প কীভাবে শুরু হবে? গুঞ্জন বলছে, নতুন সিনেমাটি বন্ডের জীবনের একদম শুরুর দিকের গল্প দিয়ে শুরু হবে— যা হবে এক নতুন অধ্যায়। ফলে পুরনো কাহিনীর সঙ্গে কোনো ঝামেলা থাকবে না।
আর বন্ড ভক্তরা তো জানেনই, প্রতিটি সিনেমার শেষে পর্দায় ভেসে ওঠে সেই বিখ্যাত প্রতিশ্রুতি— ‘জেমস বন্ড আবার ফিরবে’। এখন শুধু নতুন মুখের অপেক্ষায় পুরো বিশ্ব।







