যৌন হয়রানির মামলা খারিজ
উইল স্মিথের মাথা থেকে নামল পাহাড়সম বোঝা

উইল স্মিথ
হলিউড সুপারস্টার উইল স্মিথকে ঘিরে থাকা আইনি ঝামেলার মেঘ শেষমেশ কেটে গেল। ক্যালিফোর্নিয়ার এক আদালত তার বিরুদ্ধে আনা যৌন হয়রানি আর অন্যায়ভাবে চাকরি থেকে বের করে দেওয়ার মামলাটি খারিজ করে দেওয়া হয়েছে।
২০২৫ সালের এক কনসার্ট ট্যুরকে কেন্দ্র করে ওঠা এই অভিযোগ বিনোদন দুনিয়ায় বেশ শোরগোল ফেলে দিয়েছিল গত কয়েকদিন ধরে। তবে আদালতের এই রায়ে আপাতত স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন অস্কারজয়ী এই অভিনেতা।
এই মামলার নেপথ্যে ছিলেন ইলেকট্রিক ভায়োলিনিস্ট ব্রায়ান কিং জোসেফ, যাকে মানুষ চেনে ‘আমেরিকা’স গট ট্যালেন্ট’ এর ফাইনালিস্ট হিসেবে। ব্রায়ান অভিযোগ তুলেছিলেন যে, লাস ভেগাসের এক হোটেলে থাকাকালীন তার রুমে কেউ একজন গোপনে ঢুকে পড়েছিল।
তিনি ঘরে না থাকার সুযোগে সেখানে বিয়ার, এইচআইভি ওষুধ আর এক রহস্যময় চিরকুট রেখে যায় অজ্ঞাত সেই ব্যক্তি। চিরকুটে লেখা ছিল, ‘আমি ফিরছি, শুধু আমরা দুজন থাকব’, যা ব্রায়ানের কাছে মনে হয়েছিল এক ধরণের নোংরা যৌন হয়রানি।
তবে আদালত এই অভিযোগগুলোকে ধোপে টিকতে দেয়নি কোনোভাবেই। বিচারক সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, ব্রায়ানের বলা এই ঘটনাগুলো ক্যালিফোর্নিয়ার আইন অনুযায়ী কোনোভাবেই বড় মাপের যৌন হয়রানির পর্যায়ে পড়ে না।
এমনকি হোটেল রুমের সেই কাণ্ড নিয়েও মিলেছে অনেক বড় বড় ফাঁকফোকর। জানা গেছে যে, ব্রায়ান নিজেই তার রুমের চাবি এক ভ্যানে ফেলে রেখেছিলেন, যা টিমের অন্য সদস্যদের কাছে ছিল একদম সহজলভ্য। তাই কে ওই কাজ করেছে, তার কোনো সঠিক প্রমাণ দিতে পারেননি তিনি।
ব্রায়ান দাবি করেছিলেন যে, বিষয়টি নিয়ে ম্যানেজমেন্টের কাছে অভিযোগ করায় তাকে ট্যুর থেকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আদালত দেখল যে, তাকে বরখাস্ত করার পেছনে ওই ঘটনার কোনো সরাসরি যোগসূত্র নেই।
উইল স্মিথের জন্য এই জয় অনেক বড় হলেও এখনই লড়াইটা পুরোপুরি থামছে না। আদালত ব্রায়ানকে আরও ৩০ দিন সময় দিয়েছে নতুন কোনো প্রমাণ বা যুক্তি দিয়ে আবেদন করার জন্য। যদি এই সময়ের মধ্যে তিনি জোরালো কিছু দেখাতে না পারেন, তবে উইল স্মিথ এই কলঙ্ক থেকে চিরতরে পাবেন মুক্তি।




