মেরিলিন মনরোকে নিয়ে ৮ বায়োপিক, কোথায় বাস্তব আর কোথায় কল্পনা?

সংগৃহীত ছবি
১৯৬২ সালের ৪ আগস্ট রহস্যজনকভাবে প্রাণ হারিয়েছিলেন হলিউডের চিরন্তন সৌন্দর্যের আইকন মেরিলিন মনরো। তার চলে যাওয়ার ছয় দশক পার হয়ে গেলেও রূপালি পর্দায় তার সম্মোহনী রূপ আর রহস্যঘেরা জীবন নিয়ে বিশ্ব চলচ্চিত্রপ্রেমিদের কৌতূহল একটুও কমেনি।
কখনো ঐতিহাসিক তথ্য, কখনো মনের গভীর অনুভূতির নাটকীয়তা, আবার কখনো শুধু রূপক বা কল্পনার ওপর ভিত্তি করে হলিউডের পরিচালকরা পর্দায় বারবার বাঁচিয়ে রেখেছেন এই গ্ল্যামার কন্যাকে।
চলতি ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রিমিয়ার হতে যাচ্ছে ম্যাগি জিলেনহাল পরিচালিত মনরোকে নিয়ে নতুন সিনেমা ‘ফ্লেশ ইম্প্যাক্ট’। বিশেষ এই উপলক্ষে দেখে নেওয়া যাক হলিউডের ইতিহাসে মেরিলিন মনরোর জীবন ও সত্য-মিথ্যার মিশ্রণে তৈরি বিখ্যাত ৮টি চলচ্চিত্র:
১. ফ্লেশ ইম্প্যাক্ট (২০২৬)ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসব ২০২৬-এ প্রদর্শনের অপেক্ষায় থাকা ১৭ মিনিটের এই শর্ট ফিল্মে মেরিলিন মনরোর বাস্তব জীবন নিয়ে কোনো বায়োপিক বানানো হয়নি। বরং এখানে কল্পনা করা হয়েছে— মনরো যদি ৯৬ বছর বয়স পর্যন্ত বেঁচে থাকতেন তবে কেমন হতো তার জীবন? এতে তার তরুণ বয়সের চরিত্রে দেখা যাবে ডাকোটা জনসনকে এবং বয়স্ক মনরোর কাল্পনিক রূপ ফুটিয়ে তুলেছেন প্রবীণ অভিনেত্রী এলেন বার্স্টিন।
২. ব্লন্ড (২০২২)
জয়েস ক্যারোল ওটসের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত নেটফ্লিক্সের এই সিনেমাটি মনরোর জীবনের অন্যতম বিতর্কিত চিত্রায়ণ। পরিচালক অ্যান্ড্রিউ ডমিনিক এতে আনা দে আরমাসকে দিয়ে মনরোর ট্রমাটিক ও মানসিক কষ্টের একটি কাল্পনিক রূপ তুলে ধরেছিলেন। বাস্তবতার সঙ্গে অতিরিক্ত নিখুঁত অভিনয়ের কারণে অনেক দর্শক কাল্পনিক দৃশ্যগুলোকেও সত্য বলে ভুল করেছিলেন!
৩. দ্য সিক্রেট লাইফ অব মেরিলিন মনরো (২০১৫)
জে র্যান্ডি তারা বোরেলির বিখ্যাত জীবনীগ্রন্থের ওপর ভিত্তি করে তৈরি এই মিনি-সিরিজটি মনরোর জীবনের বাস্তব ও নথিবদ্ধ ইতিহাসকে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দিয়েছে। এতে অভিনেত্রী কেলি গার্নার মনরোর মানসিক অসুস্থতায় ভোগা মা ও তার শৈশবের কঠিন দিনগুলোকে বেশ নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন।
৪. মাই উইক উইথ মেরিলিন (২০১১)
১৯৫৬ সালে যুক্তরাজ্যে ‘দ্য প্রিন্স অ্যান্ড দ্য শোগার্ল’ সিনেমার শুটিং চলাকালে মনরোর বাস্তব অভিজ্ঞতা ও এক তরুণ সহকারীর সঙ্গে তার বন্ধুত্বের সত্য ঘটনা নিয়ে তৈরি সিনেমাটি। এতে মেরিলিন মনরোর চরিত্রে অনবদ্য অভিনয় করে অস্কার মনোনয়ন পেয়েছিলেন মিশেল উইলিয়ামস।
৫. নর্মা জিন অ্যান্ড মেরিলিন (১৯৯৬)
বাস্তবের ‘নর্মা জিন’ কীভাবে গ্ল্যামার জগতের ‘মেরিলিন মনরো’ হয়ে উঠেছিলেন এবং তার ভেতরের মানসিক দ্বন্দ্ব কেমন ছিল— তা নিয়ে এই মনস্তাত্ত্বিক ড্রামা। এতে তরুণী নর্মা জিনের চরিত্রে অ্যাশলি জুড এবং গ্ল্যামারাস মেরিলিন চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন মিরা সরভিনো।
৬. মেরিলিন অ্যান্ড ববি: হার ফাইনাল অ্যাফেয়ার (১৯৯৩)আমেরিকান রাজনৈতিক প্রভাবশালী কেনেডি পরিবারের সঙ্গে মনরোর কথিত প্রেম ও সম্পর্ক নিয়ে নানা মুখরোচক ট্যাবলয়েড গুজব ও ষড়যন্ত্র তত্ত্বের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত সিনেমা এটি। এতে মনরোর ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন মেলোডি অ্যান্ডারসন।
৭. ইনসিগনিফিকেন্স (১৯৮৫)এটি শতভাগ একটি কাল্পনিক কমেডি-ড্রামা। নিউ ইয়র্কের একটি হোটেল রুমে এক রাতে যদি মেরিলিন মনরো, বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানী অ্যালবার্ট আইনস্টাইন, জো ডিম্যাজিওর মতো কিংবদন্তিরা একসঙ্গে হতেন— তবে কী হতো, তা নিয়ে কল্পনার ডানা মেলেছিলেন পরিচালক। এতে মনরো চরিত্রে ছিলেন থেরেসা রাসেল।
৮. মেরিলিন: দ্য আনটোল্ড স্টোরি (১৯৮০)নরম্যান মেইলারের বিখ্যাত বই অবলম্বনে নির্মিত এই টিভি মুভিটি মনরোর জীবনের সূচনা থেকে শেষ পরিণতি পর্যন্ত একদম সাধারণ ও প্রথাগত জীবনী ফুটিয়ে তুলেছিল। এতে মূল চরিত্রে অভিনয় করে প্রশংসিত হন ক্যাথরিন হিকস।












