পুরনো-নতুনের মেলবন্ধনে ফিরে আসার গল্প

‘ফিরে আসার গল্প’ ধারাবাহিকের অভিনয়শিল্পীরা
একটি গল্প যখন পর্দার সীমানা পেরিয়ে মানুষের আবেগের অংশ হয়ে ওঠে, তখন তার পরের গল্পের অপেক্ষাটাও অন্যরকম আগ্রহে পরিণত হয়। ‘এটা আমাদের গল্প’-এর সাফল্যের পর মোস্তফা কামাল রাজ নির্মাণ করছেন নতুন ধারাবাহিক ‘ফিরে আসার গল্প’। ৭ অক্টোবর থেকে প্রতি বুধ ও বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ‘সিনেমাওয়ালা’র ইউটিউব চ্যানেলে এটি দেখতে পাবেন দর্শকরা।
‘ফিরে আসার গল্প’ হয়ে উঠেছে বাংলাদেশি নাটকের পুরনো ও নতুন সময়ের এক মিলনমঞ্চ। শহীদুজ্জামান সেলিম, জাহিদ হাসান, সুমাইয়া শিমু, ডা. এজাজুল ইসলাম, মনিরা মিঠু, খায়রুল বাসার, তানজিম সাইয়ারা তটিনী, ফয়জুল ইয়ামিনসহ অনেক শিল্পীকে নিয়ে সাজানো হয়েছে এর অভিনয়ভুবন।
শুটিং সেটে দাঁড়িয়ে সেই অনুভূতি প্রকাশ করেছেন জাহিদ হাসান। তিনি বলেছেন, ‘এখানে আমরা সিনিয়র-জুনিয়র সবাই মিলে কাজ করছি। আমার কাছে মনে হয়েছে, আমরা সবাই যেন একসঙ্গে দাঁড়িয়ে ঢেউয়ের বিপরীতে লড়াই করছি। এটি আসলে আমাদের সবার ফিরে আসার গল্প।’
শুধু শিল্পীদের একত্র হওয়াই নয়, গল্প বলার ধরন নিয়েও নতুন করে ভাবা হয়েছে এই ধারাবাহিকে। সময়ের সঙ্গে দর্শকের রুচির পাশাপাশি বদলেছে গল্প বলার ভঙ্গিও। জাহিদ বললেন, ‘ভালো কনটেন্ট তৈরি করলেই হবে না, তার যত্নও নিতে হবে। একটা ছোট গাছ যেমন পরিচর্যা করলে বড় হয়, ভালো কনটেন্টকেও তেমন নার্সিং করতে হয়। আমরা যদি সবাই মিলে সে যত্ন করতে পারি, তাহলে বাংলা নাটক আবারও অনেক দূর যেতে পারবে।’
দীর্ঘদিন পর অভিনয়ে ফিরে সুমাইয়া শিমু বললেন, ‘অভিনয় অনেক মিস করছিলাম। এখানে কাজ করতে পারছি, এটা আমার ভালো লাগছে। বর্তমানে যারা নিয়মিত অভিনয় করছেন, তাদের অনেকের সঙ্গেই এখনো কাজ করার সুযোগ হয়নি আমার। যারা সিনিয়র আছেন, যেমন— সেলিম ভাই, জাহিদ ভাই, মিঠু আপাসহ অনেকের কাছ থেকে অনেক কিছু শিখেছি। এখন যারা নিয়মিত কাজ করছেন, তাদের কাছ থেকেও অনেক কিছু শেখার আছে।’
দীপা খন্দকারের কাছে বিষয়টি অনেকটা শিকড়ে ফিরে যাওয়ার মতো। তিনি মনে করেন, “আগের সময়ের সঙ্গে বর্তমানের তুলনা করে আগে ‘ভালো ছিল, এখন ভালো নয়’— এভাবে দেখার কোনো কারণ নেই। সময়ের সঙ্গে গল্প বলার ধরন এবং অভিনয়ের ভাষা বদলায়। সেই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়েই কাজ করতে চাচ্ছি।”
অন্যদিকে খায়রুল বাসারের কাছে ‘ফিরে আসার গল্প’ নতুন একটি স্বপ্ন পূরণের মতো। এর আগে ‘এটা আমাদের গল্প’-এ কাজের পর আবারও রাজের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ তার কাছে বড় পাওয়া। তিনি বলেছেন, ‘নির্মাতা রাজ শুধু একটি গল্পই বলেন না; সেটিকে বাস্তবতার মতো করে তোলেন। ফলে অভিনয়শিল্পীরা চরিত্রের পরিস্থিতির মধ্যে নিজেদের সহজেই আবিষ্কার করতে পারেন।’
ইয়ামিনের জন্যও এটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ‘প্রেশার কুকার’ চলচ্চিত্র এবং ‘তাজমহল’ ওয়েব ফিল্মের পর এটি তার প্রথম ফিকশন। তিনি বলেছেন, ‘এমন গুণী নির্মাতা ও অভিনয়শিল্পীদের সঙ্গে কাজের সুযোগ পাওয়া আমার জন্য বড় অর্জন। অভিনয়কে পেশা হিসেবে নিতে আমি আমেরিকা থেকে ফিরে এসেছি। তাই এ কাজ আমার কাছে ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ।’
‘ফিরে আসার গল্প’ যে ‘এটা আমাদের গল্প’-এর পুনরাবৃত্তি নয়; বরং সম্পূর্ণ নতুন গল্প— এ বিষয়ও পরিষ্কার করেছেন অভিনয়শিল্পীরা। ডা. এজাজ বলেছেন, ‘শুটিং শুরুর আগে ২ মিনিটে গল্পের সারসংক্ষেপ শুনে আমার চোখে পানি এসে গিয়েছিল। আশা করি দর্শকও এভাবে গল্পটার সঙ্গে যুক্ত হতে পারবেন।’ এটা একেবারেই নতুন ও মৌলিক গল্প, জানালেন মনিরা মিঠু। তিনি বলেছেন, “রাজ এবার অনেক বড় একটি স্ক্রিপ্ট লিখেছেন। গল্পটা নিয়ে তিনি অনেক কাজ করেছেন। আগের গল্প নিয়ে দর্শকের নানা ধরনের মন্তব্য ছিল।
এবার তিনি এমন একটি মৌলিক গল্প নিয়ে এসেছেন, যেটার প্রতি আমার শুরু থেকেই বিশ্বাস তৈরি হয়েছে। আমরা সবাই সেটা পড়েছি, রিহার্সেল করে শুটিং শুরু করেছি। নাটকে শহীদুজ্জামান সেলিম ভাই আছেন। ওনাকে দেখে প্রতিনিয়ত শিখছি। জাহিদ হাসান ভাইয়ের সঙ্গে জীবনের প্রথম শুটিং করেছিলাম হুমায়ূন আহমেদ স্যারের নাটকে। সে সময় তিনি আমাকে বলেছিলেন, ‘আপনি একটুও ঘাবড়াবেন না। আপনার মতো করে অভিনয় চালিয়ে যান।’ আমি অভিনয় চালিয়ে গেছি। অনেক দিন পর সেই মানুষের সঙ্গে অভিনয় করলাম।”







