সালমান শাহর লাশ তোলার অনুমতি বাতিলের পর বহাল

চিত্রনায়ক সালমান শাহ- সংগৃহীত
চিত্রনায়ক সালমান শাহর মরদেহ কবর থেকে উত্তোলনের পূর্বের আদেশ বাতিল করেছিলেন আদালত। তবে সেই আদেশ আবারও বহাল করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার প্রথমে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা বাদীপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে লাশ তোলার আবেদন বাতিল করে আদেশ দেন। কিছুক্ষণ পর সেই আদেশ বদলে জানানো হয়, আবেদনটি নথিভুক্ত করা হয়েছে।
তাই সালমানের লাশ উত্তোলনের আগের আদেশ বহাল রয়েছে। এতে ক্ষুব্ধ হয়েছেন মামলার বাদী মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম।
এ বিষয়ে বাদীপক্ষের আইনজীবী আবিদ হাসান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, সকালে প্রকাশ্যে আদালত সালমান শাহর দেহাবশেষ উত্তোলনের আদেশ বাতিল করেন। কিন্তু দুপুরে শুনছি আদেশ নাকি নথিভুক্ত করা হয়েছে। বিষয়টি আমার বোধগম্য হচ্ছে না। বিচার বিভাগের সব কাজ আরও স্বচ্ছতা থাকা উচিত। প্রকাশ্য আদালতে বিচারকের সামনে আদেশ ঘোষণা করা হয়েছে। বিচারকের সামনে এমন ভুল হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কীভাবে হয়েছে আমার বোধগম্য হচ্ছে না।
সালমান শাহর মামা ও মামলার বাদী আলমগীর কুমকুমের ভাষ্য, আমি কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে যখন আবেদন করি তখন আদালত বলেছেন এক্সেপটেড (গ্রহণ)। আমি নিজের কানে শুনেছি। কিন্তু হঠাৎ করে শুনছি নথিভুক্ত হয়েছে। এটা কীভাবে সম্ভব।
এদিন বাদীপক্ষের আইনজীবী আবিদ হাসানের মাধ্যমে মামলার বাদী মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম লাশ উত্তোলনের অনুমতি বাতিল চেয়ে আবেদন করেন। ওই আবেদনে বলা হয়েছে, মামলাটি ৩০ বছরের বেশি সময় ধরে চলমান। প্রাকৃতিক কারণে সালমানের দেহাবশেষ পাওয়ার সম্ভাবনা খুব ক্ষীণ। ১৯৯৭ সালের ১৩ জানুয়ারি ভিকটিমের মৃতদেহ আদালতের নির্দেশে উত্তোলন করা হলে হাইলিডি কম্পোস্ট (মাত্রা অতিরিক্ত পচনশীল) অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল।
আবেদনে আরও বলা হয়, সালমান শাহর মৃতদেহ হযরত শাহজালাল (রহ:) এর মাজার প্রাঙ্গণে দাফন করা হয়েছিল। বর্তমানে সেখানেই কবরস্থ আছে। তাই ভিকটিমের লাশ বারবার উত্তোলনের ক্ষেত্রে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানবে। ব্যাপক বাধার সৃষ্টি হতে পারে। বারবার লাশ উত্তোলনে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানবে। ব্যাপক বাধার সৃষ্টিসহ সংঘর্ষ হওয়ার অধিকতর সম্ভাবনা রয়েছে। বাদী মো. আলমগীর কুমকুম এবং তথ্য দানকারী নীলা চৌধুরীর ব্যাপক আপত্তি আছে। তাই সালমানের লাশ উত্তোলনের আদেশ বাতিল করা প্রয়োজন। শুনানি শেষে আদালত আবেদনটি মঞ্জুর করেন।
এর আগে গত ২০ মে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) পরিদর্শক জিয়াউল মোর্শেদ লাশ উত্তোলনের অনুমতি চেয়ে আবেদনটি করেন। গত ২৪ মে আদালত আবেদনটি মঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে লাশ উত্তোলন, সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি এবং ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করার নির্দেশ দেন।
গত বছরের ২০ অক্টোবর সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় করা অপমৃত্যু মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন আদালত। এই নির্দেশের পর ওইদিন মধ্যরাতে সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে তার ভাই মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেন। মামলায় সাবেক স্ত্রী সামীরা হক ও খলনায়ক ডনসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন সামীরা হকের মা লতিফা হক লুছি, ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, লতিফা হক লুসি, খলনায়ক ডন, ডেবিট, জাভেদ, ফারুক, রুবী, আ. ছাত্তার, সাজু, রেজভি আহমেদ ওরফে ফরহাদ।
১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ইস্কাটনের বাসা থেকে সালমান শাহর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ওই সময় প্রথমে অপমৃত্যুর মামলা করেন সালমানের বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী। পরে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই অভিযোগটি হত্যা মামলায় রূপান্তরের আবেদন করা হয়। এ বিষয়ে তদন্ত করতে সিআইডিকে নির্দেশ দেন আদালত। তদন্ত শেষে ১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয় সিআইডি। প্রতিবেদনে এ ঘটনাকে আত্মহত্যা বলা হয়। পরে ওই বছরের ২৫ নভেম্বর ঢাকার সিএমএম আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন গৃহীত হয়। তবে প্রতিবেদনটি প্রত্যাখ্যান করে রিভিশন মামলা করেন কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী। পরে ২০০৩ সালের ১৯ মে মামলাটি বিচার বিভাগীয় তদন্তে পাঠান আদালত।
দীর্ঘ ১১ বছর পর ২০১৪ সালের ৩ আগস্ট আদালতে বিচার বিভাগীয় তদন্তের প্রতিবেদন দাখিল করেন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইমদাদুল হক। ওই প্রতিবেদনেও সালমান শাহর মৃত্যুকে অপমৃত্যু বলা হয়। কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরীর মৃত্যুর পর ছেলে হত্যা মামলার বাদী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন মা নীলা চৌধুরী। ২০১৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি তিনি ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজির আবেদন করেন। সর্বশেষ মামলাটি পিবিআই তদন্ত করে। ২০২১ সালের ৩১ অক্টোবর আদালত ওই প্রতিবেদন গ্রহণ করে মামলাটি নিষ্পত্তি করেন। ২০২২ সালের ১২ জুন এই আদেশের বিরুদ্ধে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে রিভিশন মামলা হয়।






