কত টাকার সম্পদ রেখে গেলেন নানা পাটেকর

নানা পাটেকর
মাত্র ৩৫ রুপি মাসিক আয় থেকে শুরু হয়েছিল পথচলা। স্কুলে পড়ার সময় সিনেমার পোস্টার আঁকতেন নানা পাটেকর। বিনিময়ে মিলত মাসে ৩৫ রুপি ও দিনে একবেলা খাবার। সেই কঠিন বাস্তবতা পেরিয়ে পরবর্তী সময়ে ভারতীয় চলচ্চিত্রের অন্যতম সম্মানিত অভিনেতা হয়ে ওঠেন তিনি। মৃত্যুর সময় তার সম্পদের পরিমাণও পৌঁছেছিল কয়েক দশমিক কোটি রুপিতে। তবে বিপুল অর্থ-সম্পদের মালিক হয়েও জীবনযাপনে বিলাসিতাকে কখনোই প্রাধান্য দেননি নানা পাটেকর।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ৭৫ বছর বয়সে মারা গেছেন এই বর্ষীয়ান অভিনেতা। গোয়ার ডোনা পাওলার বাড়িতে অসুস্থ হয়ে পড়ার পর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন। পরে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
নানা পাটেকরের শৈশব কেটেছে আর্থিক সংকটের মধ্যে। নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় মাত্র ১৩ বছর বয়সে কাজ শুরু করেন তিনি। স্কুল শেষে মুম্বাইয়ের চুনাভাট্টি এলাকায় হেঁটে গিয়ে সিনেমার পোস্টার আঁকতেন। এর বিনিময়ে মাসে ৩৫ রুপি আয় করতেন এবং পেতেন একবেলা খাবার। পরবর্তী সময়ে সেই অভিজ্ঞতা ও অভাবের দিনগুলোই তার জীবনদর্শনে গভীর প্রভাব ফেলে।
১৯৭৮ সালে ‘গমন’ সিনেমার মাধ্যমে হিন্দি চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় নানা পাটেকরের। এরপর ‘পারিন্দা’, ‘ক্রান্তিবীর’, ‘অগ্নিসাক্ষী’, ‘অব তক ছাপ্পান’, ‘নাটসম্রাট’ ও ‘ওয়েলকাম’-এর মতো সিনেমায় অভিনয় করে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেন তিনি। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ একাধিক সম্মাননা পেয়েছেন। ২০১৩ সালে তাকে পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত করে ভারত সরকার।
কত সম্পদের মালিক ছিলেন নানা?
বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাম্প্রতিক হিসাব অনুযায়ী, মৃত্যুর সময় নানা পাটেকরের মোট সম্পদের পরিমাণ আনুমানিক ৬০ থেকে ৮০ কোটি রুপির মধ্যে। অভিনয় ও বিভিন্ন বাণিজ্যিক কাজ থেকে আয় করলেও সেই অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে তার জীবনযাপন ছিল বেশ সংযত।
মুম্বাইয়ের আন্ধেরিতে তার প্রায় ৭৫০ বর্গফুটের একটি এক শয়নকক্ষের ফ্ল্যাট আছে। কয়েক দশক আগে প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার রুপিতে কেনা ওই বাড়িটির বর্তমান মূল্য আনুমানিক ৩ কোটি রুপি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। গোয়াতেও তার একটি বাড়ি আছে।
তবে তার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সম্পত্তিগুলোর একটি পুনের খড়কওয়াসলার কাছে প্রায় ২৭ একরজুড়ে থাকা ফার্মহাউস। সেখানে সাতটি কক্ষ ও একটি বড় হল রয়েছে। ফার্মহাউসে ধান, গম, বাজরা ও বিভিন্ন সবজি চাষ করতেন তিনি। গরুসহ বিভিন্ন প্রাণীও আছে সেখানে।
গাড়ির ক্ষেত্রেও অন্য অনেক বলিউড তারকার মতো বিলাসবহুল গাড়ির বিশাল সংগ্রহ ছিল না নানা পাটেকরের। তার গাড়ির তালিকায় আছে মাহিন্দ্রা জিপ সিজে৪, মাহিন্দ্রা স্করপিও এবং অডি কিউ৭।
নানা পাটেকরের জীবনযাপনের সবচেয়ে আলোচিত দিকগুলোর একটি ছিল অর্থের প্রতি তার দৃষ্টিভঙ্গি। একবার প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ রুপি দামের একটি বিলাসবহুল গাড়ি কেনার পরিবর্তে সেই অর্থ কৃষক আত্মহত্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে সহায়তা হিসেবে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন চিত্রনাট্যকার রণবীর পুষ্প।
কৃষকদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য অভিনেতা মকরন্দ আনাসপুরের সঙ্গে ‘নাম ফাউন্ডেশন’-এর সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন নানা পাটেকর। কৃষক ও গ্রামীণ মানুষের সহায়তা, পানি সংরক্ষণ এবং কৃষক পরিবারের সন্তানদের শিক্ষাসহ বিভিন্ন উদ্যোগে সংগঠনটি কাজ করেছে।
তাই কোটি কোটি রুপির সম্পদের মালিক হয়েও নানা পাটেকরের পরিচয় শুধু একজন সফল অভিনেতা হিসেবে নয়। অভাব থেকে উঠে এসে খ্যাতি ও অর্থের শিখরে পৌঁছেও সাধারণ জীবনযাপন, কৃষকদের পাশে দাঁড়ানো এবং মাটির সঙ্গে সম্পর্ক ধরে রাখার কারণেও আলাদা হয়ে থাকবেন তিনি।
সূত্র-ডিএনএ ইন্ডিয়া





