সুশান্তের ম্যানেজার দিশা সালিয়ান হত্যা মামলায় নতুন মোড়

দিশা সালিয়ান ও সুশান্ত সিং রাজপুত
প্রয়াত বলিউড অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুতের প্রাক্তন ম্যানেজার দিশা সালিয়ানের রহস্যজনক মৃত্যু মামলায় এবার এক নতুন ও চাঞ্চল্যকর মোড় এসেছে। দিশার পরিবারের আইনজীবী সিবিআই-এর হাতে তুলে দিয়েছেন এক বিস্ফোরক নতুন তথ্য, যা ২০২০ সালের সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে করা ‘আত্মহত্যা’র তত্ত্বকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে।
নতুন এ তথ্য সামনে আসার পর আসামিদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার দাবি উঠেছে এবং বম্বে হাইকোর্টে নতুন একটি পিটিশন দাখিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, দিশার বাবা সতীশ সালিয়ানের আইনজীবী নীলেশ ওঝা দাবি করেছেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া একটি গোপন রিপোর্ট এখন তাদের হাতে এসেছে।
২০২০ সালের ৯ জুন দিশার মৃত্যুর ঠিক চার দিন আগে, অর্থাৎ ৫ জুন ২০২০ তারিখে বরখাস্ত হওয়া বিতর্কিত পুলিশ কর্মকর্তা শচীন ওয়াজেকে নিয়ম ভেঙে তড়িঘড়ি করে ক্রাইম ইন্টেলিজেন্স ইউনিটে পুনর্বহাল করা হয়েছিল।
আইনজীবী ওঝা অভিযোগ করে বলেন, ‘সিআইইউ-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার অফিসার থাকার নিয়ম থাকলেও শচীন ওয়াজে সেই যোগ্য ছিলেন না।তা সত্ত্বেও তাকে কেন আনা হয়েছিল? তদন্তের আড়ালে দিশার হত্যাকাণ্ডকে আত্মহত্যা হিসেবে চালিয়ে দেওয়া, চাঁদাবাজি এবং মাদক চক্রের মতো অবৈধ কাজ সহজ করার ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবেই তাকে জরুরি ভিত্তিতে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল।’
শনিবার সিবিআই-এর কাছে সমস্ত নতুন প্রমাণ ও তথ্য জমা দিয়ে আইনজীবী জানান, পুরো বিষয়টি নিয়ে বম্বে হাইকোর্টের সরাসরি নজরদারিতে পুনরায় স্বাধীন তদন্তের আবেদন জানানো হবে।
পাশাপাশি সন্দেহভাজনদের অবিলম্বে হেফাজতে নিয়ে কঠোর জিজ্ঞাসাবাদের দাবি জানিয়েছেন তারা।
২০২০ সালের ৯ জুন মুম্বাইয়ের মালাডের একটি বহুতল ভবনের ১২ তলা থেকে পড়ে মারা যান দিশা সালিয়ান। ঘটনার পর স্থানীয় পুলিশ এটিকে একটি অপমৃত্যু এবং আত্মহত্যা বলে কেস বন্ধ করে দেয়।
এমনকি পরে ২০২৩ সালে গঠিত বিশেষ তদন্ত দলও এতে কোনো চক্রান্তের প্রমাণ মেলেনি বলে জানিয়েছিল। তবে নতুন করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এ রিপোর্ট সামনে আসায় দিশার মৃত্যু কেসে ফের বড় ধরনের তোলপাড় শুরু হলো।




