দুই ঘণ্টা পর পর প্রশংসার মেসেজ না এলে অদ্ভুত লাগে : রাসিকা দুগাল

রাসিকা দুগাল
ওটিটিতে নিজের দুর্দান্ত অভিনয় দিয়ে বহু আগেই দর্শকদের মন জয় করেছিলেন রাসিকা দুগাল। তবে বড় পর্দার চকমকে আলো আর বক্স অফিসের ১০০ কোটি রুপির ‘আসল জাদু’ বোধহয় এবার হাড়েই হাড়েই টের পেলেন এই জনপ্রিয় অভিনেত্রী। প্রেক্ষাগৃহে এখন ঝড় তুলেছে ‘মির্জাপুর: দ্য মুভি’।
মুক্তির প্রথম দিনেই ঘরোয়া বক্স অফিসে প্রায় ২৫ কোটি রুপির এক অবিশ্বাস্য বাম্পার ওপেনিংয়ের পর, ছবিটি এখন বিশ্বজুড়ে ২০০ কোটির ল্যান্ডমার্কের দিকে ছুটছে। আর ঠিক এই অভূতপূর্ব সাফল্যের হাত ধরেই ‘মির্জাপুর’-এর বিণা ত্রিপাঠি খ্যাত রাসিকা দুগাল নিজের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে প্রথমবার ‘১০০ কোটির ক্লাব’-এর মর্যাদাপূর্ণ স্বাদ লাভ করলেন।
ছবিটির সাফল্য ও দর্শকদের উপচে পড়া ভালোবাসা নিয়ে নিউজ১৮-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের উচ্ছ্বাস ধরে রাখতে পারেননি রাসিকা। তিনি বলেছেন, ‘সাধারণত ওটিটিতে কাজের পর ফল নিয়ে আমি অত চাপ নিই না। কিন্তু মির্জাপুর সিনেমার জন্য একটা আলাদা দায়িত্ববোধ কাজ করছিল। কারণ দীর্ঘ আট বছর ধরে ভক্তরা আমাদের ভালোবাসছেন। আমি শুধু চেয়েছিলাম সিনেমা হল থেকে দর্শক যেন মুখে হাসি নিয়ে ফেরে। এখন সত্যি খুব দারুণ সময় কাটছে।’
ছবিটির সবচেয়ে চর্চিত বিষয় হলো রাসিকা দুগলের ওপর চিত্রায়িত বিখ্যাত ‘সাসো কী মালা পে’ গানটির ব্যবহার। ক্লাইম্যাক্সের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে এই গানটি পুরো দৃশ্যে এক অনন্য কাব্যিক মাত্রা যোগ করেছে।
নুসরাত ফতেহ আলি খানের কালজয়ী গানটি এমন বড় বাজেটের মশলাদার চলচ্চিত্রে ব্যবহার হওয়া নিয়ে রাসিকা বলেছেন, ‘ছোটবেলা থেকে যে গান শুনে বড় হয়েছি, সেটাই আমার এত গুরুত্বপূর্ণ এক দৃশ্যে ব্যাকগ্রাউন্ডে বাজছে—ভাবলেই গায়ে কাঁটা দেয়। রূপালি পর্দায় পুরোদস্তুর বাণিজ্যিক সিনেমায় অভিনয় করার স্বপ্ন কার না থাকে? আমি ভেবেছিলাম যদি সুযোগ পাই তবে সেরাটা দেব, আর ঠিক সেটাই ঘটে গেল।’
এতদিন শুধু সমালোচকদের প্রশংসা পেলেও এই প্রথম বক্স অফিসের বিশাল অংকের আয়ের অংশ হতে পেরে দারুণ রোমাঞ্চিত রাসিকা। হাসতে হাসতে রাসিকা বলেন, ‘সত্যি বলতে কি, বক্স অফিসের হিসাব-নিকাশ বা সংখ্যাগুলো কখনো আমার অভিধানে বা আলোচনার তালিকায় থাকবে তা ভাবিনি। কিন্তু এখন খুব ভালো লাগছে।’
এমনকি প্রযোজক-পরিচালক করণ জোহর থেকে শুরু করে ইন্ডাস্ট্রির সহকর্মীরাও এখন রাসিকাকে ভাসাচ্ছেন প্রশংসার জোয়ারে। এই প্রসঙ্গে রাসিকা মজা করে যোগ করেন, ‘যাদের বানানো সিনেমা দেখে বড় হয়েছি, তাদের কাছ থেকে এমন প্রতিক্রিয়া পাওয়া সত্যিই স্পেশাল। গত কয়েকদিন ধরে এত মেসেজ আসছে যে এখন আমি লোভী হয়ে গেছি। দুই ঘণ্টা পর পর যদি কোনো প্রশংসার মেসেজ না আসে, তবে বড্ড অদ্ভুত লাগে। আমি আসলে এখন রক্তের স্বাদ পেয়ে গেছি’।




