কেন কানাডায় বারবার হামলার মুখে পড়ছেন পাঞ্জাবি তারকারা?

অ্যামি ভিরক, এপি ধিলোঁর ও গিপ্পি গ্রেওয়াল
কানাডার মাটিতে আবারও এক পাঞ্জাবি তারকার গাড়িবহরে গুলির ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে পুরো বিনোদন জগতে। জনপ্রিয় গায়ক ও অভিনেতা অ্যামি ভিরকের কনসার্ট শেষ হতেই ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার অ্যাবটসফোর্ডে তার কনসার্ট বহরের একটি গাড়ি লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালায় অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতকারীরা।
ভাগ্যক্রমে এই ঘটনায় কেউ হতাহত হননি। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করলেও হামলার মূল কারণ এবং সেই মুহূর্তে গাড়িতে কারা উপস্থিত ছিলেন তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়ে গেছে।
তবে এবারই প্রথম নয়। গত কয়েক বছরে কানাডায় বারবার হামলার শিকার হচ্ছেন ভারতের জনপ্রিয় পাঞ্জাবি তারকারা।
২০২৩ সালের নভেম্বরে পশ্চিম ভ্যাঙ্কুভারে জনপ্রিয় পাঞ্জাবি অভিনেতা ও গায়ক গিপ্পি গ্রেওয়ালের বাসার বাইরে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। পরে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করা একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট থেকে ঘটনার দায় স্বীকার করে বলা হয়, বলিউড তারকা সালমান খানের সঙ্গে সম্পর্ক থাকার কারণেই নাকি এই হামলা।
২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার কোলউডে আরেক নামী গায়ক এপি ধিলোঁরের বাড়ি লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালানো হয় এবং সেখানে থাকা একাধিক গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। কানাডীয় পুলিশ দক্ষিণ এশীয় কমিউনিটিকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা সংগঠিত অপরাধ ও চাঁদাবাজির কোণ ধরে বিষয়টি তদন্ত শুরু করে।
নিজ বাসভবনে গুলির মুখে পড়েন পাঞ্জাবি গায়ক প্রেম ধিলোঁরও। ঘটনাটি ঘটে ২০২৫ এর ফেব্রুয়ারিতে। হামলার পরপরই ‘জাইপাল ভুল্লার গ্যাং’ সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট দিয়ে এর দায় স্বীকার করে। পোস্টে নিহত গায়ক সিধু মুসেওয়ালা ও বন্দি গ্যাংস্টার জাগ্গু ভগবানপুরিয়ার কথা উল্লেখ করা হয়।
হামলা থেকে বাদ যাননি কমেডি তারকা কপিল শর্মাও। ২০২৫ সালে কানাডার সারেতে অবস্থিত তার জনপ্রিয় প্রতিষ্ঠান ‘ক্যাপস ক্যাফে’তে মাত্র এক মাসের ব্যবধানে দু-দুবার গুলিবর্ষণ করে দুষ্কৃতকারীরা।
প্রথম হামলাটি ঘটে ১০ জুলাই রাত ১টা ৫০ মিনিটের দিকে, যখন কর্মীরা ভেতরে থাকা অবস্থায়ই এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়া হয়। ভাগ্যক্রমে কেউ হতাহত হননি। এরপর ৭ আগস্ট ক্যাফেটিকে আবার টার্গেট করে হামলা চালানো হয়।
কানাডায় বিশালসংখ্যক দক্ষিণ এশীয় ও পাঞ্জাবি প্রবাসী বাস করেন। ফলে ব্রিটিশ কলাম্বিয়া ও ওন্টারিওর মতো বড় বড় শহরগুলোতে প্রায়ই মেগা কনসার্ট করতে যান এই তারকারা।
পুলিশের অনুসন্ধানে জানা গেছে, কানাডায় থাকা প্রভাবশালী দক্ষিণ এশীয়দের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের চাঁদাবাজির এক ভয়াবহ চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। যেহেতু প্রবাসীদের কাছে এই শিল্পীদের আকাশছোঁয়া জনপ্রিয়তা ও দৃশ্যমানতা বেশি, তাই ভয় দেখিয়ে চাঁদা আদায় করতেই বারবার গ্যাংস্টাররা তাদের টার্গেট করছে।
কানাডার আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা ফিনট্র্যাক জানিয়েছে, এশীয় প্রবাসীদের টার্গেট করে হুমকি, অগ্নিসংযোগ ও গোলাগুলির পেছনে আন্তর্জাতিক সংগঠিত গ্যাংস্টার নেটওয়ার্ক কাজ করছে। বর্তমানে কানাডিয়ান পুলিশ ও বিশেষ টাস্ক ফোর্স পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।
প্রবাসের মাটিতে ভারতীয় তারকাদের এভাবে বারবার হামলার মুখে পড়ার ঘটনা সাধারণ প্রবাসী থেকে শুরু করে পুরো বিনোদন জগতের নিরাপত্তাকে মারাত্মক প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।




