প্রথম দেখাতেই মীরার কাছে অদ্ভুত আবদার করেছিলেন শহিদ কাপুর

শহিদ কাপুর ও মীরা রাজপুত
বলিউডের অন্যতম মিষ্টি জুটি শহিদ কাপুর ও মীরা রাজপুত। সম্প্রতি অভিনেতা ঈশান খট্টরকে সঙ্গে নিয়ে তারা হাজির হয়েছিলেন জনপ্রিয় কমেডি শো ‘দ্য গ্রেট ইন্ডিয়ান কপিল শো’-র মঞ্চে। সেখানে তাদের সম্পর্কের শুরুর দিনের নানা অজানা ও মজার তথ্য শেয়ার করেন এই তারকা দম্পতি।
প্রথম সাক্ষাতে শহিদের অদ্ভুত আবদার থেকে শুরু করে হবু শ্বশুরের প্রতিক্রিয়া, সব মিলিয়ে জমজমাট আড্ডায় মেতেছিলেন তারা।
প্রথম সাক্ষাতের স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে মীরা জানান, শহিদের সঙ্গে দীর্ঘ সময় কথা বলে বেশ ভালোই লাগছিল, কিন্তু হঠাৎ মাঝপথে এক অদ্ভুত দাবি করে বসেন অভিনেতা।
মীরার কথায়, “২-৩ ঘণ্টা কথা বলার পর ও হঠাৎ আমাকে ফোন বের করে ওর জুতোর ছবি তুলতে বলে। আমরা প্রথমবার দেখা করছি, আর ও আমাকে বলছে ওর জুতোর ছবি তুলতে। আমি তো অবাক। ফ্ল্যাশ জ্বালিয়ে ছবি তুলে যখন দেখালাম যে এতে বিশেষ কী আছে, তখন ও খুব গর্ব করে বলল, ‘আমার জুতো অন্ধকারে জ্বলে’। আমি তো ভেবেই পাচ্ছিলাম না এতে এত বিশেষ কী আছে।”
মীরার এই অভিযোগের জবাবে হাসতে হাসতে শহিদ ওই জুতোর পেছনের আসল রহস্য ফাঁস করেন। অভিনেতা জানান, পাপারাজ্জিদের ক্যামেরার ফ্ল্যাশ এড়াতেই ওই বিশেষ জুতো তিনি পরেছিলেন।
শহিদের ভাষায়, ‘আমাদের যখন প্রথম দেখা হয়, তখন মীরার বয়স ২০ আর আমার ৩৪। আমাদের চিন্তাভাবনা মিলবে কি না ভাবতেই ভাবতেই কীভাবে যে ৭ ঘণ্টা কেটে গেল বুঝতেই পারিনি। আর ও যে সিনেমা জগতের কেউ নয়, ফ্ল্যাশ-অ্যাবজর্বিং জুতোর ফান্ডা যে ও বুঝবে না, সেটা আমি ভুলেই গিয়েছিলাম।’
বিয়ে ও সম্পর্কের শুরুর দিকের অন্য এক মজার স্মৃতি শেয়ার করে শহিদ জানান, বিয়ের আগে তিনি যখন ‘উড়তা পাঞ্জাব’ সিনেমার শুটিং করছেন, সেই সময়ে দিল্লির মীরার বাড়িতে যান। তার মাথায় তখন ‘টমি সিং’ চরিত্রের সেই আইকনিক সবুজ চুল।
দরজা খোলার মুহূর্তটি স্মরণ করে শহিদ বলেন, “দরজা খুলেছিলেন আমার শ্বশুরমশাই। তিনি অত্যন্ত ডিসিপ্লিনড একজন মানুষ, একজন ইঞ্জিনিয়ার ও আইআইটিয়ান। আমার সবুজ চুল আর লুক দেখে উনি দরজাতেই কিছুক্ষণ ফ্রিজ হয়ে থ মেরে দাঁড়িয়ে রইলেন। তার মুখের ভাবভঙ্গি দেখে মনে হচ্ছিল উনি ভাবছেন, ‘কার হাতে নিজের মেয়েকে দিচ্ছি আমি’। আমি তার সেই মুখটা কোনওদিন ভুলব না।”
পরবর্তীতে বিয়ের পর এডিটিং রুমে বসে ‘উড়তা পাঞ্জাব’ দেখেছিলেন মীরা। সেই সিনেমা দেখে মীরার অবস্থা কেমন হয়েছিল তা নিয়ে শহিদ মজার ছলে জানান, ‘সিনেমা শেষ হওয়ার পর ও সোফার অন্য প্রান্তে বসে ছিল। ভীষণ উদ্বেগে ছিল ও, ভাবছিল কাকে বিয়ে করে ফেলল।’
তবে যতই নাটকীয়তা থাকুক না কেন, ২০১৫ সালে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার পর শহিদ ও মীরার সংসার এখন দুই সন্তান মিশা ও জাইনকে নিয়ে বেশ সুখের। কপিলের শোয়ে তাদের এই রসায়ন আবারও প্রমাণ করে দিল যে বছর গড়ালেও তাদের প্রেমের জাদু আজও সমান সতেজ।




