সমাজের মানসিকতা বদলাতে তিন-চার প্রজন্ম লাগতে পারে: নীনা গুপ্তা

নীনা গুপ্তা ও কৃতি শ্যানন
মেয়েদের পোশাক নিয়ে সমাজের কটাক্ষ ও ‘কী পরা উচিত’ এই মানসিকতার বিরুদ্ধে বারবার সরব হয়েছেন অভিনেত্রী নীনা গুপ্তা। এবারও একই প্রসঙ্গে মুখ খুলে তিনি দাবি করেছেন, সমাজের এই দৃষ্টিভঙ্গি সহজে বদলাবে না। পরিবর্তন আনতে হয়তো কয়েক প্রজন্ম সময় লেগে যেতে পারে।
সম্প্রতি তার আসন্ন ওয়েব সিরিজ ‘চুম্বক’-এর প্রচারে গিয়ে মেয়েদের পোশাক নিয়ে সমাজের মানসিকতা প্রসঙ্গে কথা বলেন নীনা। দিল্লির সীতারাম বাজারের উদাহরণ দিয়ে অভিনেত্রী জানান, এখনও এমন জায়গা রয়েছে, যেখানে নারীদের ঘোমটা দিয়ে মুখ ঢেকে রাখার প্রত্যাশা করা হয়।
নীনা বলেন, ‘আমার মনে হয় এটা এমনই থেকে যাবে। বদলাবে না। একেবারেই না। কারণ সমাজটাই এমন। আজও খুব একটা কিছু বদলায়নি।’
নীনার মতে, সমাজে যতটুকু পরিবর্তন এসেছে, তা খুবই সামান্য। সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হলো, মেয়েরা এখন নিজেদের উপার্জন করছেন। তবে শুধুমাত্র অর্থনৈতিক স্বাধীনতা এলেই যে মানসিকতার পরিবর্তন হবে, তা নয় বলেই মনে করেন অভিনেত্রী।
এই পরিস্থিতি বদলানোর উপায় হিসেবে নীনা ছেলেদের সঠিক শিক্ষা দেওয়ার কথা বলেন। ছোট থেকেই তাঁদের মহিলাদের সম্মান করতে শেখানোর ওপর জোর দেন তিনি। অভিনেত্রীর মতে, হয়তো এক-দুই নয়, তিন-চার প্রজন্ম পর গিয়ে সমাজে বড়সড় পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। বিশেষ করে ছোট শহর ও গ্রামাঞ্চলে এখনও ছেলেদের অগ্রাধিকার দেওয়ার মানসিকতা রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এর আগেও পোশাক নিয়ে কটাক্ষের মুখে পড়েছেন নীনা গুপ্তা। ২০২২ সালে নিজের একটি পোশাকের জন্য সামাজিক মাধ্যমে ট্রোল হওয়ার পর অভিনেত্রী স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, কারও পোশাক দেখে তাঁর যোগ্যতা বিচার করা উচিত নয়। নিজের সংস্কৃতে এমফিল করার কথাও উল্লেখ করেছিলেন তিনি।
এদিকে, নীনার এই মন্তব্য সামনে এল কৃতি শ্যাননের পোশাক বিতর্কের কয়েকদিন পরেই। রাখিবন্ধন উপলক্ষে একটি বিজ্ঞাপনে কৃতির পোশাক নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। পরে সংশ্লিষ্ট ব্র্যান্ড বিজ্ঞাপনটি সরিয়ে নেয়। বিতর্কের মধ্যেই কৃতি প্রশ্ন তুলেছিলেন, ‘কবে আমরা নারীদের কী পরা উচিত, তা বলা বন্ধ করব?’ তার বক্তব্য ছিল, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য একজন নারীর হৃদয়ে থাকে, তাঁর পোশাকের গলার কাটে নয়।
কৃতি শ্যাননের বিতর্কের আবহে নীনা গুপ্তার মন্তব্য ফের উসকে দিল মেয়েদের পোশাক ও স্বাধীনতা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ক।






