‘রকস্টার’ বানাতে চুল-ওজন হারিয়েছিলেন ইমতিয়াজ আলী

ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে অন্যতম এক কাল্ট ক্লাসিক ইমতিয়াজ আলীর ‘রকস্টার’
রণবীর কাপুর এবং নার্গিস ফাখরি অভিনীত ২০১১ সালের ‘রকস্টার’ ছবিটিকে ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে অন্যতম এক ‘কাল্ট ক্লাসিক’ বলা হয়। ‘জর্ডান’ চরিত্রের সেই পাগলামি, এ আর রহমানের গান আর ইমতিয়াজ আলীর জাদুকরী পরিচালনা আজও সিনেপ্রেমীদের বুঁদ করে রাখে। তবে রুপালী পর্দায় যে বেদনা আর উন্মাদনা দর্শক দেখেছিলেন, তার চেয়েও বড় ‘জুনুন’ বা পাগলামি চলেছিল ক্যামেরার পেছনে। সম্প্রতি এক পডকাস্টে এসে পরিচালক ইমতিয়াজ আলী ফাঁস করলেন এই ছবি বানাতে গিয়ে আক্ষরিক অর্থেই নিজের চুল ও শরীরের ওজন হারিয়েছিলেন তিনি!
ইউটিউবার রাজ শামানির পডকাস্টে এসে ‘রকস্টার’ নির্মাণের দিনগুলো মনে করে ইমতিয়াজ আলী জানান, ওটা কোনো সাধারণ সিনেমার শুটিং ছিল না, ওটা ছিল একটা ঘোর। পরিচালক বলেছেন—‘রকস্টারের শুটিংয়ের সময় আমাদের পুরো টিমের ওপর এক অদ্ভুত ভূত সওয়ার হয়েছিল। আমরা কেন যে অতটা ইমোশনাল হয়ে পড়েছিলাম, তা আজও জানি না। সেটে টেনশন আর খাটুনিতে আমাদের সবার চুল পড়ে যাচ্ছিল, ওজন কমছিল। আমি তিন বেলা ঠিকঠাক খাওয়া-দাওয়া করতাম, তাও শুটিং চলাকালীন আমার শরীর থেকে প্রায় ৭-১০ কেজি ওজন ঝরে যায়! আমি এক্কেবারে রোগা আর রোদে পুড়ে কালো হয়ে গিয়েছিলাম।’
ইমতিয়াজ আরও যোগ করেন, সিনেমাটি তার ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা সৃষ্টি হলেও, জীবনের সেই যন্ত্রণাদায়ক ও পাগল করা অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে তিনি আর দ্বিতীয়বার যেতে চান না।
পরিচালক ইমতিয়াজ আলীর পাশাপাশি এই ছবির জন্য নিজের হাড়মাস এক করেছিলেন অভিনেতা রণবীর কাপুরও। ছবিতে জর্ডানের ঘরছাড়া এবং ফুটপাতে ঘুরে বেড়ানোর দিনগুলো বাস্তবসম্মত করতে রণবীরের ওপর চলেছিল কঠোর ডায়েট।
রণবীরের ফিটনেস ট্রেইনার প্রদীপ ভাটিয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান, ‘রণবীর আগে থেকেই ফিট ছিল। কিন্তু বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার পর জর্ডানের যে জীর্ণ দশা হয়, তা ফুটিয়ে তুলতে রণবীরকে আমরা ৭৪ কেজি থেকে কমিয়ে এক ধাক্কায় ৬৭ কেজিতে নামিয়ে আনি। ওর ডায়েট থেকে ভাত-রুটি অর্থাৎ কার্বোহাইড্রেট সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল এবং মাংস খাওয়াও নিষেধ ছিল।’
পরিচালক ও অভিনেতার এই হাড়ভাঙা খাটুনি আর নাওয়া-খাওয়া ভুলে করা ‘পাগলামি’র কারণেই যে পর্দায় ‘জর্ডান’ চরিত্রটি এতটা জীবন্ত হয়ে উঠেছিল, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।









