যেভাবে বলিউডের ‘কিং খান’ হয়ে উঠলেন শাহরুখ

শাহরুখ খান
আজ ২ নভেম্বর, বলিউড প্রেমীদের বিশেষ উদযাপনের দিন। ভারতীয় চলচ্চিত্রকে একচ্ছত্রভাবে শাসন করে চূড়ান্তে পৌঁছে দেওয়া ইন্ডাস্ট্রির শেষ মেগাস্টার, বলিউডের ‘বাদশাহ’ শাহরুখ খানের জন্মদিন আজ।
ওটিটি প্ল্যাটফর্ম ও সামাজিক মাধ্যমের এই যুগে প্রতিনিয়ত নতুন মুখের জন্ম হলেও গত তিন দশক ধরে ভারতীয় চলচ্চিত্রের কেন্দ্রবিন্দুতে অনড় আছেন শাহরুখ খান। চলচ্চিত্র সমালোচক থেকে শুরু করে বিশ্বজুড়ে ভক্তদের কাছে তিনি আজ ‘দ্য লাস্ট অব দ্য স্টারস’ বা বলিউডের শেষ প্রকৃত সুপারস্টার।
কিন্তু কেন ডিজিটাল যুগের ভিড়েও কেবল তাকেই এই অদ্বিতীয় বিশেষণে ভূষিত করা হয়? এই প্রশ্নের উত্তর লুকিয়ে আছে তার সংগ্রামের গল্পে। কোনো গডফাদার বা ফিল্মি ব্যাকগ্রাউন্ড ছাড়া, দিল্লির এক সাধারণ পরিবারের ছেলেটি কীভাবে থিয়েটার ও টেলিভিশনের গণ্ডি পেরিয়ে মুম্বাইয়ের রুপালি জগৎ জয় করলেন, তা যেকোনো সিনেমার চেয়েও রোমাঞ্চকর।
পকেটে টাকার টানাপড়েন আর এক বুক স্বপ্ন নিয়ে দিল্লি থেকে মুম্বাই এসেছিলেন তিনি, সঙ্গে ছিল অগাধ আত্মবিশ্বাস আর বাবার দেওয়া সততার শিক্ষা। নব্বইয়ের দশকের শুরুতে ‘ফৌজি’ বা ‘সার্কাস’-এর মতো টিভি সিরিয়াল দিয়ে অভিনয় জীবন শুরু করলেও রুপালি পর্দায় তার অভিষেক ছিল কাকতালীয়।
১৯৯২ সালে প্রযোজক গুড্ডু ধানওয়ার ‘দিওয়ানা’ সিনেমায় মূল নায়ক হিসেবে প্রথমে আরমান কোহলির অভিনয় করার কথা থাকলেও ভুল-বোঝাবুঝিতে তিনি সরে দাঁড়ান। আর সেই ফাঁকা জায়গাতেই ভাগ্য খুলে যায় ২৬ বছরের তরুণ শাহরুখ খানের।
প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়া প্রথম ছবিতেই ঋষি কাপুর ও দিব্যা ভারতীর পাশে নিজের অভিনয় দক্ষতায় বাজিমাত করে জিতে নেন ফিল্মফেয়ারের ‘সেরা নতুন অভিনেতা’র পুরস্কার। এরপর শুরুতেই রোমান্টিক হিরো না হয়ে, ১৯৯৩-৯৪ সালে ‘বাজিগর’, ‘ডর’ কিংবা ‘অঞ্জামের’ মতো সিনেমায় খলচরিত্রে অভিনয় করে কাঁপিয়ে দেন পুরো বলিউড।
১৯৯৫ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত সর্বকালের অন্যতম সেরা ব্লকবাস্টার ‘দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে যায়েঙ্গে’সহ ‘দিল তো পাগল হ্যায়’, ‘কুছ কুছ হোতা হ্যায়’, ‘মহব্বতেঁ’ ও ‘কাভি খুশি কাভি গম’ ছবির মাধ্যমে তিনি হয়ে ওঠেন বলিউডের একচ্ছত্র ‘কিং অব রোমান্স’।
কেবল প্রেমের ছবিই নয়, ‘দেবদাস’, ‘স্বদেশ’, ‘চক দে ইন্ডিয়া’ কিংবা ‘মাই নেম ইজ খান’-এর মতো বৈচিত্র্যময় চরিত্রে অভিনয় করে নিজেকে নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়। পরবর্তীতে ‘চেন্নাই এক্সপ্রেস’, ‘পাঠান’ ও ‘জাওয়ান’ দিয়ে বক্স অফিসেও অব্যাহত রেখেছেন নিজের আধিপত্য।
৮০টিরও বেশি চলচ্চিত্রে অভিনয় করা এই অভিনেতার ঝুলিতে রয়েছে ১৪টি ফিল্মফেয়ার পুরস্কার, ভারতের সর্বোচ্চ সম্মাননা ‘পদ্মশ্রী’ এবং ফরাসি সরকারের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান।
এমনকি ২০২৫ সালে অনুষ্ঠিত ৭১তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ‘জওয়ান’ সিনেমার জন্য ক্যারিয়ারের প্রথম জাতীয় পুরস্কার অর্জন করে তিনি সৃষ্টি করেছেন নতুন ইতিহাস।
দিল্লির সেই সাধারণ ছেলেটি আজ বিশ্বজুড়ে ‘কিং খান’ নামে পরিচিত, যিনি প্রমাণ করে দিয়েছেন, স্বপ্ন সত্যি করার তীব্র ইচ্ছা থাকলে কোনো বাধাই মানুষকে আটকে রাখতে পারে না।




