দক্ষিণি ছবিতে খোলামেলা উপস্থাপন নিয়ে বিতর্ক, মুখ খুললেন জাহ্নবী

জাহ্নবী কাপুর
মুক্তির প্রথম দিন থেকেই বক্স অফিসে তুমুল ব্যবসা করলেও, সাউথের মেগা প্রজেক্ট ‘পেড্ডি’ এখন জড়িয়ে পড়েছে চরম বিতর্কে। তবে এবার বিতর্ক ছবির গল্প নিয়ে নয়, বরং ছবির নায়িকা জাহ্নবী কাপুরকে ক্যামেরার সামনে যেভাবে ‘অশালীন ও আপত্তিকর’ উপায়ে উপস্থাপন করা হয়েছে, তা নিয়ে। ছবিতে জাহ্নবীর অভিনয় ও সুযোগ নিয়ে দর্শকদের হতাশার পর এবার স্বয়ং জাহ্নবীও পরোক্ষভাবে মেনে নিলেন যে— এই ছবির সেটে এবং পর্দায় তাকে চরম অবমাননা করা হয়েছে! নির্মাতারা স্রেফ বক্স অফিসের ব্যবসার স্বার্থে তার শরীরের কোমর, নাভি আর পিঠের অংশকে অতিরিক্ত মাত্রায় ওভারসেক্সুয়ালাইজড হিসেবে ব্যবহার করেছেন।
সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ইনস্টাগ্রাম পোস্টের স্ক্রিনশট দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে। ওই পোস্টে ‘পেড্ডি’ ছবির পরিচালক বুচি বাবু সানাকে ধুয়ে দিয়ে লেখা হয়েছিল, ‘জাহ্নবীর চরিত্রটি এই সিনেমার সবচেয়ে ব্যয়বহুল অবমাননা। পরিচালকের ক্যামেরা স্রেফ জাহ্নবীর কোমর আর পিঠ দেখানোর জন্য অবশেসড হয়ে ছিল। শুধু তাই নয়, এডিটিং টেবিলে জাহ্নবী নিজে এই ধরণের আপত্তিকর শটগুলো কেটে বাদ দিতে বলেছিলেন। তিনি একজন পেশাদার নারী হিসেবে নিজের বাউন্ডারি টেনে দিয়েছিলেন। কিন্তু পরিচালক জানহভির সেই সম্মতি কে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে দৃশ্যগুলো ছবিতে রেখে দেন। কারণ পরিচালকের কাছে জাহ্নবীর সম্মতির চেয়ে বক্স অফিসের কালেকশন বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল।’
সবচেয়ে বড় চমক হলো, এই তীব্র সমালোচনামূলক পোস্টটিতে খোদ জাহ্নবী কাপুর নিজের অফিসিয়াল অ্যাকাউন্ট থেকে লাইক ঠুকে দিয়েছেন! বিষয়টি ভক্তদের নজরে আসতেই শোরগোল পড়ে যায়। যদিও জাহ্নবী পরে লাইকটি সরিয়ে নিয়েছেন, তবে ততক্ষণে স্ক্রিনশট ভাইরাল হয়ে প্রমাণ করে দিয়েছে যে ছবির পরিচালকের ওপর কতটা ক্ষুব্ধ এই অভিনেত্রী।
সিনেমার গল্পে জাহ্নবীকে যেভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, তার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে দেশের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমগুলো। নিউজ১৮ তাদের রিভিউতে ছবিটিকে মাত্র ১.৫ রেটিং দিয়ে লিখেছে—"ছবিতে জাহ্নবীর ইন্ট্রোডাকশন সিনটাই অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ। রাম চরণের মুখ দিয়ে জাহ্নবীর শরীর নিয়ে অত্যন্ত নোংরা ডায়লগ দেওয়ানো হয়েছে। এমনকি রাতের বেলা জাহ্নবীর ঘরে ঢুকে রাম চরণ তাকে জোর করে চুম্বন করে। জাহ্নবী বারবার বাধা দিলেও রাম চরণ ডায়লগ দেয়— ‘এটা আমার ভালোবাসার স্টাইল!’ রাম চরণ বা জাহ্নবীর মতো তারকারা কীভাবে এই ধরণের নোংরা ও নারীবিদ্বেষী দৃশ্যে অভিনয় করতে রাজি হলেন, তা আমাদের বোধগম্য নয়।"
সোশ্যাল মিডিয়ায় এখন নেটিজেনরা দুই ভাগে বিভক্ত। একদলের দাবি জাহ্নবী যখন নিজেই এই নোংরা শটের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছিলেন, তখন পরিচালকের উচিত ছিল তার সম্মান রক্ষা করা। অন্যদিকে একাংশের প্রশ্ন, আজকালকার দিনে জাহ্নবীর মতো একজন প্রথম সারির তারকা কাহিনীর স্ক্রিপ্ট না পড়েই কেন শুধু টাকার জন্য এমন ‘ভোগের বস্তু’ বা শো-পিস চরিত্রে অভিনয় করতে রাজি হন?








