কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীকে হেনস্তা ঘিরে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়। ছবি: আগামীর সময়
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাককানইবি) নাট্যকলা ও পরিবেশনা বিদ্যা বিভাগের এক ছাত্রকে হেনস্তার অভিযোগ ঘিরে পাল্টাপাল্টি অবস্থান নিয়েছে দুই পক্ষ। ওই ছাত্রের ঘটনাটি মীমাংসার পর অভিযুক্তদের একজনকে মারধর করা হয়েছে বলে উঠেছে পাল্টা অভিযোগ।
নাট্যকলা ও পরিবেশনা বিদ্যা বিভাগের ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. আবু বক্কর সিদ্দিকি বলেছেন, গত সোমবার রাত ১১টার দিকে বিভাগের ২০২৪-২০২৫ শিক্ষাবর্ষের সর্বজিৎ, প্রান্ত, আবির ও আব্দুল্লাহ ওমায়ের অন্তু তাকে মানসিক ও শারীরিকভাবে হেনস্তা করেন। সর্বজিৎ দাস তাকে ধাক্কা দেন।
তার উপর আগে থেকে ক্ষুব্ধ ছিলেন সিনিয়ররা। এর জেরেই হেনস্তা করা হয় বলে দাবি আবু বক্করের। তবে কী কারণে সিনিয়ররা ক্ষুব্ধ- জানতে চাইলে সুনির্দিষ্ট কিছু বলেননি আবু বক্কর।
তিনি জানান, ঘটনার কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে রাতে ত্রিশাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার চান। ঘটনার অডিও রেকর্ড তার কাছে সংরক্ষিত আছে বলেও দাবি করেছেন।
সর্বজিৎ বলেছেন, সোমবার রাতে নতুন কলা ভবনের সামনে এক শিক্ষার্থীর দোকান স্থানান্তরে সাহায্য করছিলেন অন্য শিক্ষার্থীরা। আবু বক্করও ছিলেন সেখানে। কিছুক্ষণ পর তিনি বিষণ্নতা ও টানা দুই রাত ঘুম হচ্ছে না বলে অন্যদের জানান। তাকে বাড়ি চলে যেতে বলা হলে ক্ষেপে গিয়ে হঠাৎ মারধর ও ধাক্কা দিতে শুরু করেন।
সর্বজিতের ভাষ্য, রাত সাড়ে ১১টার দিকে সিদ্দিক সেখান থেকে চলে যান। রাত ১২টার দিকেও তাকে সুস্থ অবস্থায় চলাফেরা করতে দেখা যায়। সিদ্দিকের অসুস্থতার সঙ্গে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই এবং কোনো র্যাগিংয়ের ঘটনাও ঘটেনি বলে দাবি সর্বজিতের।
আরেক অভিযুক্ত অন্তু বলেছেন, এ ঘটনা নিয়ে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের ২০২১-২০২২ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র ও জাককানইবি শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য পাভেল খান বিভাগে অভিযোগ দেন। দুই পক্ষকে ডেকে আলোচনা করে গত মঙ্গলবার বিষয়টি মীমাংসাও করে দেন শিক্ষকরা।
অন্তুর দাবি, তারপরেও এর জেরে সেদিন নতুন কলা ভবনের সামনে পাভেল তাকে মারধর করেন। ঘটনার পর তিনি চিকিৎসা নেন।
নাট্যকলা ও পরিবেশনা বিদ্যা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. ইসমাত আরা ভূঁইয়া ইলা বললেন, ‘আবু বক্করের পক্ষে পাভেল একটি অভিযোগ নিয়ে শিক্ষকদের কাছে এসেছিল। পরে উভয় পক্ষকে নিয়ে আলোচনা করা হলে তারা নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে দুঃখ প্রকাশ করে এবং মীমাংসায় সন্তুষ্ট হয়।’
বিষয়টি সমাধানের পরও নতুন করে অভিযোগ ও বক্তব্য সামনে আসায় অসন্তোষ জানান বিভাগীয় প্রধান। নিজের সমস্যা নিয়ে আবু বক্কর কেন সরাসরি শিক্ষকদের কাছে আসেনি বা ফোনে কল করে কেন জানায়নি- প্রশ্ন তোলেন তিনি।







