নজরুলের সাহিত্য বিশ্বদরবারে পৌঁছাতে অনুবাদের তাগিদ

ছবি: আগামীর সময়
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী স্মরণে সেমিনার ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে বাংলা একাডেমি। সোমবার বিকেল ৪টায় একাডেমির কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলা একাডেমির সচিব ড. মো. সেলিম রেজা। ‘নজরুল সাহিত্য অনুবাদের অভিজ্ঞতা ও অনুধ্যান’ শীর্ষক বক্তৃতা করেন অনুবাদক ও শিক্ষক আলমগীর মোহাম্মদ। আলোচনায় অংশ নেন সাহিত্যিক ও অনুবাদক রাজু আলাউদ্দিন এবং নজরুল গবেষক ও অনুবাদক ইরশাদ আহমেদ শাহীন। সভাপ্রধানের দায়িত্ব পালন করেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম।
সেলিম রেজা বলেন, ‘নজরুল আমাদের জাতিসত্তার অবিচ্ছেদ্য অংশ। তার সাহিত্য বাংলা ভাষার গর্বই শুধু নয়, বরং একই সঙ্গে বিশ্বসভ্যতার সম্পদ। তার সাহিত্যকর্মকে অনুবাদের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তুলে ধরা আমাদের জাতীয় দায়িত্ব।’
আলমগীর মোহাম্মদ বলেন, ‘কবিতা, গান, উপন্যাস, ছোটোগল্প, নাটক, প্রবন্ধ, চিঠিপত্র এবং অভিভাষণ—সাহিত্যের প্রতিটি শাখায় নজরুল এক স্বতন্ত্র ও অবিস্মরণীয় স্বাক্ষর রেখে গেছেন। তিনি মূলত সাম্য, মানবতা, বিদ্রোহ ও প্রেমের কবি, এবং তার এই কালজয়ী সাহিত্যকর্মকে বিশ্বদরবারে পৌঁছে দেওয়ার প্রধান মাধ্যম হলো এর মানসম্মত ও বস্তুনিষ্ঠ অনুবাদ।’
তিনি বলেন, নজরুলের সমসাময়িক অনেক বিশ্বসাহিত্যিক বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়ে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেলেও নজরুল সেখানে অনেকটাই উপেক্ষিত রয়ে গেছেন। তার সাহিত্যের গভীরতা ও বৈশ্বিক আবেদনের তুলনায় আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তার পরিচিতি এখনো সীমিত। অনুবাদক হিসেবে আমাদের কাজ হলো নজরুলের সেই অম্লান চেতনাকে অন্য ভাষার পাঠকদের হৃদয়েও জ্বেলে দেওয়া।’
রাজু আলাউদ্দিন বলেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের রচনায় মানবিক আন্তর্জাতিকতার অঙ্গীকার প্রবলভাবে বিদ্যমান। অথচ তার রচনাকর্মকে যথাযথ প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক পরিসরে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়নি। তার জীবন ও সৃষ্টিকর্ম নিয়ে বিশদ গবেষণার পাশাপাশি ইংরেজিসহ বিশ্বের বিভিন্ন ভাষায় নজরুলের রচনা অনুবাদের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়া এখন অত্যন্ত জরুরি।
অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম বলেন, ‘নজরুল-বর্ষে আমরা নজরুল বিষয়ক গবেষণা ও অনুবাদকর্মের দিকে ফিরে তাকাতে চাই। আজকের সেমিনারে বাংলাদেশে সম্পাদিত নজরুল রচনার অনুবাদের মান, কৌশল ও চ্যালেঞ্জ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। আশা করা যায়, ভবিষ্যতে নজরুল-রচনা অনুবাদের পরিধি গুণে-মানে আরও বিস্তৃত হবে এবং বিশ্বপাঠক নজরুলের সাহিত্যকর্মের নিবিড় পরিচয় লাভ করবেন।’
সেমিনারের পর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে আবৃত্তি পরিবেশন করেন আবৃত্তিশিল্পী টিটো মুন্সী। নজরুলসংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী ফেরদৌস আরা, শহীদ কবির পলাশ ও শাহীনুর রেজা। যন্ত্রানুষঙ্গে ছিলেন কাজী মো. ইমতিয়াজ সুলতান (তবলা), গাজী আবদুল হাকিম (বাঁশি), মো. নূর এ আলম সজীব (কী-বোর্ড), বিদ্যুৎ রায় (অক্টোপ্যাড) এবং মো. মনোয়ার হোসেন (গিটার)। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বাংলা একাডেমির সহপরিচালক (চলতি দায়িত্ব) ড. মাহবুবা রহমান।







