জাককানইবিতে হামলার তিন সপ্তাহ পরও বিচার অধরা

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাককানইবি) গত ১৪ অক্টোবরের সংঘর্ষে আহত শিক্ষার্থীদের মধ্যে এখনো পুরোপুরি সুস্থ হননি ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের সাকিব হোসেন। একই ঘটনায় মাথায় গুরুতর আঘাত পাওয়া আসাদুর রহমান রবিউলও শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন। গত বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের কক্ষে জ্ঞান হারানোর পর তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ঘটনার তিন সপ্তাহের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও তদন্ত কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন ও সুপারিশ প্রকাশ হয়নি। এতে ক্ষোভ বাড়ছে আহত শিক্ষার্থী ও তাদের সহপাঠীদের মধ্যে। মামলা করতে প্রশাসনের সম্মতি না দেওয়া, তদন্তের নামে কালক্ষেপণ এবং হুমকি-হয়রানির অভিযোগ তুলে গতকাল বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
গত ১৪ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠে নজরুল প্রিমিয়ার লীগ (এনপিএল) ক্রিকেট টুর্নামেন্ট চলাকালে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের বিরোধ থেকে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। পরে কলা ভবনের সামনে হামলার শিকার হন সাকিব, রবিউলসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী।
সাকিবের অভিযোগ, সংঘর্ষ থেকে দূরে থাকতে সহপাঠীদের পরামর্শ দেওয়ার পর একদল শিক্ষার্থী তাকে ঘিরে ধরে। একপর্যায়ে ড্রেনের ওপর ফেলে তার মাথায় রড বা স্টাম্প দিয়ে পরপর তিনটি আঘাত করা হয়। এতে তিনি জ্ঞান হারান। জ্ঞান হারানোর পরও তাকে মারধর করা হয় বলে দাবি তার। সাকিব বলেন, ‘আমার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর সময়ে তোমরা আমার জীবনটা এলোমেলো করে দিয়েছ। আমার পুরো পরিবারের সুখ-শান্তি কেড়ে নিয়েছ তোমরা।’
একই ঘটনায় আহত রবিউল জানান, এখনো স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি তিনি। তার অভিযোগ, ঘটনাটিকে দুই পক্ষের সাধারণ মারামারি হিসেবে দেখানোর চেষ্টা চলছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিরা ক্যাম্পাসে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করলেও তারা হুমকি ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা করতে চাইলেও প্রশাসন সম্মতি দেয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী তানভির আহমেদ তুর্যও প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা না করে তদন্তের নামে সময়ক্ষেপণের অভিযোগ করেন। তিনি জানান, প্রশাসনের সহযোগিতা না পেলেও তারা বিচার আদায় করবেন।
ঘটনার পরদিন ১৫ অক্টোবর সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ে তা প্রকাশ হয়নি। ২৮ অক্টোবর শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নিলে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। তদন্ত প্রতিবেদন শৃঙ্খলা বোর্ডে জমা দেওয়ার পর সিন্ডিকেট চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।
তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্য ও তথ্য যাচাই করতে তদন্তের সময় বাড়ানো হয়েছে। ৫ নভেম্বর তথ্য সংগ্রহের শেষ দিন হতে পারে। ঘটনায় যার যতটুকু সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে, সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হবে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।




