রেস্টুরেন্টে ‘ডোরি ফিশ’ বলে পরিবেশন, ডিএনএ পরীক্ষায় মিলল পাঙাস

পাঙাস মাছ
অভিজাত রেস্টুরেন্টে সামুদ্রিক মাছ ‘ডোরি ফিশ’ নামে পরিবেশন করা হচ্ছে দেশীয় চাষের পাঙাস মাছ। ঢাকা, চট্টগ্রাম ও নোয়াখালীর ৯টি অভিজাত রেস্টুরেন্ট থেকে সংগ্রহ করা নমুনার ডিএনএ বিশ্লেষণে এমন তথ্য পেয়েছেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) মৎস্য ও সমুদ্রবিজ্ঞান বিভাগের ফিশ জেনেটিকস ও কনজারভেশন স্পেশালিস্ট অধ্যাপক ড. রাকেব-উল-ইসলাম।
গবেষণায় ঢাকা, নোয়াখালী ও চট্টগ্রামের তিনটি করে মোট ৯টি রেস্টুরেন্ট থেকে ‘ডোরি ফিশ’ নামে পরিবেশন করা মাছের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরে এসব নমুনার ডিএনএ এক্সট্রাকশন, পিসিআর এবং ডিএনএ সিকোয়েন্সিং করা হয়।
গবেষণার ফলাফলে দেখা যায়, সংগৃহীত সব নমুনার ডিএনএ Pangasius hypophthalmus প্রজাতির পাঙাস মাছের ডিএনএর সঙ্গে মিলে গেছে। অর্থাৎ রেস্টুরেন্টগুলোতে ডোরি ফিশ নামে পরিবেশন করা মাছগুলো মূলত পাঙাস মাছ বলে গবেষণায় নিশ্চিত হওয়া গেছে।
সম্প্রতি বিভিন্ন প্রতিবেদনে দেশে গত কয়েক বছরে ডোরি ফিশ আমদানির সুনির্দিষ্ট তথ্য না থাকার বিষয়টি উঠে আসে। এরপরই ডোরি ফিশ নিয়ে ভোক্তা ও গবেষকদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়। এরই ধারাবাহিকতায় বিষয়টি বৈজ্ঞানিকভাবে যাচাই করতে গবেষণাটি পরিচালনা করা হয় বলে জানা গেছে।
ডোরি বা জন ডোরি সামুদ্রিক মাছ। মাছটির শরীর চ্যাপ্টা, মাথা বড় এবং শরীরের দুই পাশে গোলাকার কালো দাগ রয়েছে। এসব বৈশিষ্ট্যের কারণে পুরো মাছটি সহজেই শনাক্ত করা যায়। স্বাদের কারণে বিশ্বজুড়ে ডোরি মাছের চাহিদা রয়েছে। এর সাদা মাংস নরম হলেও সহজে ভেঙে যায় না। সমুদ্র থেকে ডোরি মাছ তুলনামূলকভাবে অল্প পরিমাণে পাওয়া যায়। পাশাপাশি পুরো মাছের তুলনায় এর খাওয়ার উপযোগী অংশও কম। ফলে মাছটির দামও তুলনামূলক বেশি। বিদেশের বাজারে এক কেজি ডোরি মাছের মাংসের দাম ৬-১০ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে। বিপরীতে দেশে চাষের পাঙাস মাছ ওজনভেদে ২০০-৫০০ টাকা কেজিতে পাওয়া যায় এবং এটি বাজারে সহজলভ্য।
এ বিষয়ে অধ্যাপক ড. রাকেব-উল-ইসলাম বললেন, ‘৬ মাস আগে দেশে ডোরি ফিসের আমদানি শূণ্যের কোঠায় এমন একটি সংবাদ দেখার পর আমরা এটা নিয়ে গবেষণা শুরু করি। ঢাকা, নোয়াখালী ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন অভিজাত রেস্তোরাঁ থেকে সেম্পল সংগ্রহ করে ডিএনএ এক্সট্রাকশন, পিসিআর ও তারপর ডিএনএ সিকোয়েন্স করে দেখতে পাই রেস্তোরাঁগুলোতে ডোরি ফিশ বলে পরিবেশন করা মাছটি মূলত পাঙাস মাছ।’
তিনি আরও বললেন, ‘সাধারণ ভোক্তাদের পক্ষে এই মাছ দেখে যাচাই করার কোনো প্রক্রিয়া নেই যেহেতু মাথা, চামড়া বা বাহ্যিক অন্য কোনো বৈশিষ্ট্য থাকে না। এই ধরণের অনৈতিক কাজ থেকে ভোক্তাদের অধিকার সংরক্ষণ করতে ভোক্তা অধিকার বিষয়ক কর্তৃপক্ষকে আরও সচেতন হতে হবে। গবেষণায় আরও উঠে এসেছে, কিছু হোটেল-রেস্টুরেন্টে টেংরা মাছের নামেও নদীর পাঙাসের জুবেনাইল বা পোনা পরিবেশন করা হচ্ছে।’
গবেষকের মতে, এ ধরনের প্রবণতা শুধু ভোক্তাদের বিভ্রান্ত করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, এটি জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণেও মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।



