শিক্ষার আলোয় দক্ষ মানবসম্পদ গঠনে বিইউএফটি

অধ্যাপক ড. ইঞ্জিনিয়ার আইয়ুব নবী খান
জাতীয় শিক্ষা দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয়, শিক্ষা শুধু জ্ঞান অর্জনের মাধ্যম নয়; এটি ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নির্মাণের অন্যতম প্রধান শক্তি। পরিবর্তনশীল বিশ্বে একটি দেশের অগ্রগতি নির্ভর করে তার শিক্ষাব্যবস্থার মান, গবেষণার সক্ষমতা এবং সময়োপযোগী দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির ওপর। শিল্পায়ন, প্রযুক্তিগত পরিবর্তন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের এই সময়ে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্ব আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি।
এ বাস্তবতায় দেশের শিল্প ও উচ্চশিক্ষার মধ্যে কার্যকর সেতুবন্ধ তৈরির লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে চলছে বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজি (বিইউএফটি)। ২০১২ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে শিল্পের প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ শিক্ষা, ব্যবহারিক দক্ষতা, গবেষণা ও উদ্ভাবনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছে বিইউএফটি। এ ছাড়া তৈরি পোশাক, বস্ত্র, নিটওয়্যার, ফ্যাশন, ব্যবসা, পরিবেশ ও সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে প্রতিষ্ঠানটি।
বর্তমান বিশ্বে শুধু পাঠ্যবই-নির্ভর শিক্ষা দিয়ে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করা সম্ভব নয় শিক্ষার্থীদের। তাই বিইউএফটির শিক্ষাব্যবস্থায় গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে ব্যবহারিক শিক্ষা, আধুনিক গবেষণাগার, শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ততা, প্রকল্পভিত্তিক কাজ এবং সহশিক্ষা কার্যক্রমকে। এর পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, তথ্য বিশ্লেষণ, স্বয়ংক্রিয়তা ও অন্যান্য উদীয়মান প্রযুক্তির সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পরিচিত করার মাধ্যমে তাদের প্রস্তুত করা হচ্ছে ভবিষ্যৎ কর্মক্ষেত্রের পরিবর্তনের জন্য।
একই সঙ্গে গবেষণা ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রেও সক্ষমতা বাড়াচ্ছে বিইউএফটি। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের গবেষণায় উৎসাহিত করার পাশাপাশি দেশি-বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সহযোগিতা, যৌথ গবেষণা এবং জ্ঞান বিনিময়ের সুযোগ সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। টেকসই উৎপাদন, পরিবেশ সুরক্ষা, প্রযুক্তি, প্রকৌশল, ফ্যাশন ও শিল্পের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ নিয়ে গবেষণার মাধ্যমে বাস্তব সমস্যার সমাধানে অবদান রাখার লক্ষ্য রয়েছে।
তবে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাফল্য শুধু তার অবকাঠামো বা অ্যাকাডেমিক ফলাফলে সীমাবদ্ধ নয়। একজন শিক্ষার্থীর চিন্তাশক্তি, নৈতিকতা, নেতৃত্ব, যোগাযোগ দক্ষতা, সৃজনশীলতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার বিকাশও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে বিইউএফটি শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ক্লাব, প্রতিযোগিতা, বিতর্ক, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করছে। এর মাধ্যমে তারা আত্মবিশ্বাসী ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার সুযোগ পাচ্ছে।
জাতীয় শিক্ষা দিবসে আমাদের প্রত্যাশা, দেশের প্রতিটি শিক্ষার্থী যেন মানসম্মত শিক্ষা, গবেষণা ও দক্ষতা অর্জনের সমান সুযোগ পায়। শিক্ষা যেন শুধু একটি সনদ অর্জনের পথ না হয়ে জ্ঞান, দক্ষতা, মূল্যবোধ ও মানবিকতার সমন্বয়ে একজন পূর্ণাঙ্গ মানুষ গড়ে তোলার মাধ্যম হয়। সেই লক্ষ্যেই বিইউএফটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে এমনভাবে প্রস্তুত করতে চায়, যেন তারা শুধু চাকরিপ্রার্থী নয়, বরং কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী, উদ্ভাবক, গবেষক ও নেতৃত্বদানে সক্ষম নাগরিক হিসেবে এগিয়ে নেবে বাংলাদেশকে।
জাতীয় শিক্ষা দিবসে আমাদের অঙ্গীকার— শিক্ষার মানোন্নয়ন, গবেষণার প্রসার, শিল্পের সঙ্গে শিক্ষার সংযোগ এবং ভবিষ্যৎ উপযোগী দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির মাধ্যমে একটি জ্ঞানভিত্তিক, দক্ষ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে অবদান রাখা।
লেখক : উপাচার্য, বিইউএফটি।



