মামলায় অজ্ঞাতনামা আসামি রাবি প্রশাসনের, প্রতিবাদে সাংবাদিক-শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

ছবি: আগামীর সময়
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের হামলার ঘটনায় প্রশাসনের করা মামলায় অজ্ঞাতনামা আসামি করার প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী এবং কর্মরত সাংবাদিকরা।
হামলায় জড়িতদের নাম উল্লেখ করে মামলা ও গ্রেপ্তারের দাবিতে সোমবার সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ভবনের সামনে অবস্থান নেন তারা।
এ সময় আন্দোলনকারীরা ‘বাহ ভিসি চমৎকার, সন্ত্রাসীদের পাহারাদার’, ‘টোকাইরা হামলা করে, প্রশাসন কী করে’, ‘ছাত্রদল হামলা করে, প্রশাসন কী করে’, ‘আমার ভাইয়ের ওপর হামলা কেন, প্রশাসন জবাব চাই’ এবং ‘শিক্ষা সন্ত্রাস একসঙ্গে চলে না’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, হামলার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যে মামলা করেছে, সেখানে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। অথচ সিসিটিভি ফুটেজে হামলায় জড়িতদের শনাক্ত করা সম্ভব। তাই হামলাকারীদের নাম উল্লেখ করে মামলা ও দ্রুত গ্রেপ্তার না করা পর্যন্ত তারা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনায় বসবেন না।
রাত পৌনে ৮টার দিকে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলতে ঘটনাস্থলে আসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান। তিনি আন্দোলনকারীদের জানিয়েছেন, উপাচার্য মো. ফরিদুল ইসলাম তাদের সঙ্গে উপাচার্যের সম্মেলনকক্ষে বৈঠক করতে চান। তবে আন্দোলনকারীরা তাদের প্রথম ও প্রধান দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত বৈঠকে বসতে রাজি হননি।
এরপর রাত ৮টার দিকে উপাচার্যসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা প্রশাসন ভবনে প্রবেশের সময় আন্দোলনকারীরা তাদের উদ্দেশে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
আন্দোলনকারীরা ছয় দফা দাবি জানিয়েছেন। দাবিগুলো হলো, হামলায় জড়িতদের নাম উল্লেখ করে মামলা করে সোমবারের মধ্যেই গ্রেপ্তার; হামলায় জড়িতদের সাময়িক বহিষ্কার করা; তিন দিনের মধ্যে তদন্ত শেষ করে শুক্রবারের মধ্যে জরুরি সিন্ডিকেট সভা ডেকে তাদের স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা; যাদের ছাত্রত্ব নেই, তাদের সনদ বাতিল করে ক্যাম্পাসে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা; শহীদ জিয়াউর রহমান হলের প্রাধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ক্যামেরার ফুটেজ ডিলিট করে হামলাকারীদের পক্ষ নেওয়ার অভিযোগে পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া এবং ঘটনার সময় উপস্থিত থেকেও নিষ্ক্রিয় থাকার অভিযোগে প্রক্টর ও সহকারী প্রক্টরদের পদত্যাগ করা।
রাবি সাংবাদিকদের ওপর হামলায় শনাক্ত ছাত্রদলের ৭ নেতাকর্মী জড়িত নানা অপকর্মে
০৫ অক্টোবর ২০২৬
আন্দোলনরত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সাবেক সভাপতি ইরফান তামিম বলেছেন, তাদের প্রাথমিক ও প্রধান দাবি ছিল ভিডিও ফুটেজ দেখে হামলায় জড়িতদের শনাক্ত করে নাম উল্লেখ করে মামলা করা এবং তাদের গ্রেপ্তার করা।
তিনি বলেছেন, ‘আমরা এই দাবিতে অনড় ছিলাম। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আমাদের আশ্বস্ত করে, পরদিন দুপুর ১২টার মধ্যে মামলা করবে এবং দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেবে। কিন্তু আজ সন্ধ্যায় তারা যে মামলা করেছে, সেটি অজ্ঞাতনামা।’
ইরফান তামিমের অভিযোগ, প্রশাসন বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্নভাবে ঘোরাচ্ছে এবং প্রক্রিয়াটি দীর্ঘায়িত করছে। আসামিদের কিংবা কোনো ছাত্রসংগঠনকে রক্ষার জন্য এমনটি করা হচ্ছে কি না, সে প্রশ্নও তুলেছেন তিনি।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থী শাহ পরাণ বললেন, সিসিটিভি ফুটেজে হামলাকারীদের স্পষ্টভাবে শনাক্ত করা গেলেও প্রশাসন অজ্ঞাতনামা মামলা করেছে। হামলায় জড়িত নেতাকর্মীদের নাম উল্লেখ করে মামলা করতে হবে। এরপরই তারা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনায় বসবেন।





