শিক্ষকের স্থায়ী বহিষ্কারের দাবিতে রাবিতে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন

অধ্যাপক ড. সুজন সেনের স্থায়ী বহিষ্কারের দাবিতে ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করেছেন রাবির ছাপচিত্র বিভাগের শিক্ষার্থীরা। ছবি: আগামীর সময়
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) চিত্রকলা, প্রাচ্যকলা ও ছাপচিত্র বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সুজন সেনের স্থায়ী বহিষ্কারের দাবিতে ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করেছেন ছাপচিত্র বিভাগের শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট জবাব না পেলে আরও কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছেন তারা।
আজ রবিবার বেলা সাড়ে ১১টা থেকে ছাপচিত্র বিভাগের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা বিভিন্ন স্লোগান দেন।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, তদন্তে ড. সুজন সেনের বিরুদ্ধে নৈতিক স্খলনের প্রমাণ পাওয়া গেলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট তাকে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করেনি। পরিবর্তে সহযোগী অধ্যাপক থেকে সহকারী অধ্যাপক পদে পদাবনতি এবং পাঁচ বছরের জন্য একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করেছেন শিক্ষার্থীরা।
মাস্টার্সের শিক্ষার্থী আসাদ রাফি সাদী জানিয়েছেন, ২০২৪ সালের ৮ সেপ্টেম্বর ড. সুজন সেনের বিরুদ্ধে অযোগ্যতা, অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগে প্রায় ২০০ পৃষ্ঠার লিখিত অভিযোগ জমা দেন তারা। পরে তদন্তে নৈতিক স্খলনের প্রমাণ পাওয়া যায়।
আসাদ রাফি সাদীর দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯৭৩ সালের আইনে এ ধরনের অপরাধে স্থায়ী বহিষ্কারের বিধান রয়েছে। অথচ সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তে পাঁচ বছরের অব্যাহতি ও পদাবনতি দেওয়া হয়েছে, যা তাদের কাছে দায়সারা বিচার।
প্রশাসন ২৪ ঘণ্টার মধ্যে স্বচ্ছ জবাব না দিলে আগামীকাল থেকে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
মাস্টার্সের আরেক শিক্ষার্থী আছিয়া খাতুন বললেন, তদন্ত কমিটি তাদের অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে এবং স্থায়ী চাকরিচ্যুতির সুপারিশ করেছে। পাঁচ বছরের অব্যাহতি কোনো কার্যকর শাস্তি নয়। তারা ড. সুজন সেনকে আর বিভাগে দেখতে চান না।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান জানিয়েছেন, বিষয়টি যেহেতু সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তের সঙ্গে সম্পর্কিত, তাই সিন্ডিকেটই এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে পারে। তবে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে সমাধানের চেষ্টা করা হবে।
ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়াকে দৃষ্টিকটু উল্লেখ করে তিনি বললেন, শিক্ষার্থীরা তাদের দাবিতে আন্দোলন করতে পারেন। তবে ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন না করাই ভালো।
তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে গত ১৩ আগস্ট অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৪৮তম সিন্ডিকেট সভায় ড. সুজন সেনকে সহযোগী অধ্যাপক থেকে সহকারী অধ্যাপক পদে পদাবনতি দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তাকে পাঁচ বছরের জন্য একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।








