ডিসেম্বরের মধ্যে ৫০ বিশ্ববিদ্যালয়ে তৃতীয় ভাষা চালুর উদ্যোগ

সংগৃহীত ছবি
দেশের ৫০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে তৃতীয় ভাষা শিক্ষা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)। এ লক্ষ্যে ভাষা কেন্দ্র স্থাপন, প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ, অঞ্চলভিত্তিক ভাষার চাহিদা নির্ধারণ এবং কোর্সের ধরন ঠিক করতে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছে ইউজিসি।
আজ সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ইউজিসিতে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। ইউজিসির পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুনের সভাপতিত্বে সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়সহ ২৬টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরা অংশ নেন।
সভায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে ভাষা কেন্দ্র স্থাপন, বিদ্যমান সক্ষমতা ও রিসোর্স ম্যাপিং এবং প্রয়োজনীয় জনবলের চাহিদার তথ্য দ্রুত ইউজিসিকে জানাতে বলা হয়। একই সঙ্গে সব বিশ্ববিদ্যালয়ে একই ভাষা চালু না করে অঞ্চলভিত্তিক চাহিদা ও কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা বিবেচনায় ভাষা নির্বাচনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সভায় বলা হয়, বাংলাদেশ থেকে কোন কোন দেশে কর্মী যাচ্ছে এবং এসব দেশে কোন ভাষার চাহিদা বেশি, তা বিবেচনায় নেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য যাচাই করে রিসোর্স ম্যাপিংয়ের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক ভাষা নির্বাচন করার প্রস্তাব দেওয়া হয়।
তৃতীয় ভাষার নন-ক্রেডিট কোর্সের পাশাপাশি বিভাগভিত্তিক অন্তত একটি ভাষা ক্রেডিট কোর্স চালুর প্রস্তাবও করা হয়। নতুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভাষা শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা, বেকারদের জন্য ছয় মাস মেয়াদি ভাষা কোর্স চালু এবং দীর্ঘমেয়াদি কোর্সের মাধ্যমে ভাষাশিক্ষক তৈরির বিষয়েও সভায় আলোচনা হয়।
অধ্যাপক আব্দুল্লাহ-আল-মামুন উল্লেখ করেছেন, তৃতীয় ভাষা শিক্ষা সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার। দেশে ও বিদেশে কর্মসংস্থান এবং উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়াতে শিক্ষার্থীদের ভাষাগত দক্ষতার পাশাপাশি কারিগরি ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা বাড়ানো প্রয়োজন। নির্বাচনী ইশতেহারে তৃতীয় ভাষা শিক্ষার বিষয়টি রয়েছে উল্লেখ করে তিনি এ কার্যক্রম বাস্তবায়নে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
সভায় তৃতীয় ভাষা শিক্ষার পাশাপাশি ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়। শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপ ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানে কোর্স করার সুযোগ তৈরি, কারিকুলামে শিল্পখাতের সম্পৃক্ততা, যৌথ গবেষণা এবং গবেষণার ফল বাণিজ্যিকীকরণে তহবিল গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়।
শিল্পবাজারের চাহিদা বিবেচনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), রোবটিকস, সাইবার সিকিউরিটি ও ডেটা সায়েন্সের মতো বিষয়ে নতুন বিভাগ বা একাডেমিক কার্যক্রম চালুর বিষয়েও আলোচনা হয়।
এ ছাড়া বাংলাদেশকে উচ্চশিক্ষার হাব হিসেবে গড়ে তুলতে প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইন্টারন্যাশনাল অফিস খোলার পরিকল্পনার কথা জানানো হয়। পাশাপাশি ‘স্টাডি ইন বাংলাদেশ’ পোর্টাল চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ২০টি বিশ্ববিদ্যালয়কে অগ্রাধিকার দিয়ে এতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, আবাসন, বৃত্তি ও ইন্টারন্যাশনাল অফিসসংক্রান্ত তথ্য যুক্ত করা হবে।
বাকি পাবলিক ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গেও পর্যায়ক্রমে এ ধরনের মতবিনিময় সভা করবে ইউজিসি।



