জাবিপ্রবি
যৌন হয়রানির তদন্তের মধ্যেই সরানো হলো ভিসিকে

অধ্যাপক ড. আমির হোসেন ভূইঁয়া। ছবি: সংগৃহীত
যৌন হয়রানি, কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য, বডি শেমিং এবং শিক্ষার্থীদের মানসিক নিপীড়নের অভিযোগে তদন্তের মুখে থাকা জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. আমির হোসেন ভূইঁয়াকে সরিয়ে দিল সরকার। ফলে তিনি এখন তার মূল পদ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগে যুক্ত হবেন। তার স্থলে নতুন নিয়োগ পেয়েছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৌলিতত্ত্ব ও উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আমির হোসেন।
আজ শনিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে তাকে সরিয়ে নতুন ভিসির প্রজ্ঞাপন জারি করে। একই দিনে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের জৈব রসায়ন ও আণুবিক জীববিজ্ঞানের অধ্যাপক ড. বোরহান উদ্দিনকে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির প্রো-ভিসি এবং একই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি ড. মাহফুজুর রহমানকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সূত্র বলছে, ড. আমির হোসেনের বিরুদ্ধে আসা যৌন হয়রানির অভিযোগ ও ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং কমিটির সুপারিশের আলোকে তার বিরুদ্ধে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া যায় তা ঠিক করতে একজন অবসরপ্রাপ্ত বিগ্রেডিয়ার জেনারেলের নেত্বত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে একজন ভিসি এবং ইউজিসির পরিচালক আছেন। ঈদুল আজহার ছুটির পর কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করা কথা ছিল। তার আগেই ড. আমিরের নিয়োগ বাতিল করা হলো।
কমিটির একজন সদস্য জানান, তার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির বিষয়টি মোটামুটি প্রমাণিত। এখন আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিলেই যৌন হয়রানি সেলের সুপারিশে তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া যায়। তার আগেই তাকে সরিয়ে দেওয়া হলো। তবে মূল অভিযোগ থেকে তিনি এখনো রেহাই না-ও পেতে পারেন।
২০২৪ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের ৪৭তম আবর্তনের শিক্ষার্থীরা বিভাগীয় প্রধানের কাছে ড. আমির হোসেনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ জমা দেন। অভিযোগে ক্লাস চলাকালে নারী শিক্ষার্থীদের পোশাক, ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের কার্যক্রম নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করার কথা উল্লেখ করা হয়।
এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কটূক্তি, বডি শেমিং, গবেষণায় নিরুৎসাহিত করা, নম্বর প্রদানে বৈষম্য এবং মতের অমিল হলে একাডেমিক চাপ প্রয়োগের অভিযোগও আনা হয়।
অভিযোগের পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিষয়টি তদন্তে প্রথমে আইবিএর পরিচালক অধ্যাপক ড. আইরীন আক্তারের নেতৃত্বে একটি ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করে। ওই কমিটি প্রাথমিক তদন্ত শেষে প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদনে অভিযোগের কিছু বিষয়ে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর উপাচার্যের নেতৃত্বে আরও উচ্চতর তদন্তের জন্য একটি স্ট্রাকচার্ড কমিটি গঠন করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) সূত্র জানিয়েছে, সম্প্রতি বিষয়টি তদন্তে আরও একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল এবং ঈদের ছুটির পর তাদের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা ছিল। তবে তদন্ত কার্যক্রম পূর্ণাঙ্গভাবে শুরু হওয়ার আগেই তাকে বর্তমান দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।




